Tuesday, February 3, 2026

ডেকেও সাড়া মেলে নি -- দিলীপ ঘোষ

ডেকেও সাড়া মেলে নি
দিলীপ ঘোষ
০২/০২/২৬
ডেকেছিলাম আকর্ষণের হাত নেড়ে
ডেকেছিলাম সুপ্ত স্বপ্নের হুইসেলে
কোলাহলের ধুলোতে মিশে গেছে সব শব্দ
মালগাড়ির গতিতে চলা কবিতা 
জনমানবহীন স্টেশনে হয়েছে জব্দ। 

বাতাসের ঠোঁটে চুম খেয়ে
ডাকের ধ্বনি ফেরে ডান বাম কানে
তারহীন ইথারের প্রাণ প্রিয় ধ্বনি
শুকিয়ে শুকিয়ে প্রাণ হারায় প্রাণে। 

ডেকে ডেকে হৃদয় ক্লান্ত হলে কি হবে
ডাক ধ্বনিত হয় তবু অন্তরে। 
পিপাসার ঠোঁটে জিব হাত বুলিয়ে
নারা বেঁধে রাখে আকাঙ্ক্ষার পিঞ্জরে।

Monday, February 2, 2026

খোলা ক্যানভাসে -- শিপ্রা বসাক

খোলা ক্যানভাসে 
শিপ্রা বসাক 
০১/০২/২০২৬
একটা কদমতলা ছিল, শ্যামের বাঁশি বেজেছিল , শ্যামও ছিল পাশে , 
হৃদয়ে প্রেম ছিল , গানে সুর ছিল , মনও ভরা ছিল সুবাসে।

কাছেই নদী ছিল , নদী ভরা জল ছিল , নৌকা দুলেছিল জলে ,
কাছে আসা ছিল , ভালোবাসা ছিল , কখন মন ছুঁয়ে গেলে ছলে ।

সামনে খোলা ক্যানভাসে , মায়াবী আকাশ ভাসে , বাতাসে বসন্ত ছিল মিশে ,
কত যে রঙীন ছবি , সযত্নে এঁকেছি সবি , কত প্রাণ হেসেছিল, হারিয়েছিল দিশে ।

প্রকৃতির বর্ণে গন্ধে , হৃদয়ের খুশিতে আনন্দে , কেটে ছিল সারা দিনমান ,
আপনার জন ছিল , ভালো বাসাবাসি ছিল , ভালো নাচানাচি ছিল  আর ছিল গান।

বসন্তের হাওয়া মেখে , মলিনতা দূরে রেখে , শুধুই আনন্দ ছিল অনাবিল এক ,
হৃদয়ের আঙিনায় , জয়গান গেয়ে যাই , পৃথিবীর সব প্রেম পূর্ণতা পাক।

Saturday, January 17, 2026

স্বার্থপরের দুনিয়াটায় -- শিপ্রা বসাক

স্বার্থপরের দুনিয়াটায়
শিপ্রা বসাক 
১৭/০১/২০২৬


প্রতিযোগিতায় হার মেনেছি 
শিরোপা তাই ধুলার 'পর 
আপন আপন যতই কর 
আপন কখনো হয়না পর ।

সবে তুমি নতুন এখন 
এত কিসের তোমার জয় 
যতই তুমি খেটে মরো 
রাহুকেতু তোমার নয় ।

ইগোর লড়াই লড়তে হবে
 না পারো তো বিদায় হও ,
আর এক পন্থা তৈল মর্দন 
পারলে জেনো জয় নিশ্চয় ।

সামনে তোমার আপন কত 
পেছনে তারাই ছুরি বয় ,
 মিষ্টি কথায় কুটুস করে 
আঘাত করে শরীরময় ।

ভেজাল তেলে ভেজাল মানুষ ,
ভেজাল ভালোবাসার ভান ,
ভুলের মাশুল গুনতে হবে 
দিতেই হবে প্রতিদান ।

স্বার্থপরের দুনিয়াটায় 
এত কেন হিংসা রাগ !
সহজ ভাবে বাঁচতে গেলেও 
কালনেমির লঙ্কা ভাগ ।

পদ্যলেখায় সাধ্য কত 
থাক না তবে উদ্দেশ্যের ঝাজ 
জোড় হাতে তার বন্দনা গাও
আরতি দাও সকাল সাজ।

Saturday, December 6, 2025

মুখোশে মানুষ -- শিপ্রা বসাক

মুখোশে মানুষ 
শিপ্রা বসাক 
০৬/১২/২০২৫
বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বপ্ন গুলো বদলে যায় 
চাওয়া পাওয়ার হিসেব গুলোও যায় বদলে 
পেয়ে হারানোর যন্ত্রণায় আকুল মন
খড়কুটোর মতো ধরতে চায় আঁকরে 
এক টুকরো ভালোবাসা -----

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভাবনাগুলো পাল্টে যায় 
পুরনো প্রেম হাতড়ে ফেরে অচেনাকে অন্ধকারে 
আবেগহীন বয়ে চলা রোবোটিক জীবন 
আঁচলে কুড়িয়ে পেতে চায় 
ছিটেফোঁটা বিশ্বাস -----

বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিশ্বাসও পাল্টে যায় 
এতোদিনের চেনাজানা মানুষগুলোও 
কেমন অচেনা হয়ে ওঠে 
বাষ্পচোখে খুঁজে ফেরে শুধু 
ভরসার কাঁধ ------

বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বপ্ন, ভাবনা, বিশ্বাস আর ভরসারা
কেমন এলোমেলো হয়ে যায় 
স্বার্থের দুনিয়ায় রঙ বদলায়, মন বদলায় , মুখ বদলায়
 বদলায় না শুধু মুখোশ ---

এক আধার থেকে আরেক আধারে চলে মুখোশের আনাগোনা ।


Saturday, October 11, 2025

সোনার মেয়ে -- ডা. মৃণাল কান্তি পণ্ডিত


সোনার মেয়ে
ডা. মৃণাল কান্তি পণ্ডিত 
১১-১০_২০২৫
সংবিধানের দুটো শব্দ --মেয়ে স্বাধীনতা, কর্মে সমতা,
মেয়ে দিবসে হোক অঙ্গীকার -- দূর হোক সকল সহিংসতা।

খুঁজি আজও হেথায় হোথায় -- বোনটি তোমায় ওরে, 
যতীন বাবুর 'কাজলা দিদি', শরৎ বাবুর 'মেজদিদি'-র সেই সুরে সুরে। 

ওগো মেয়ে, তুমিই সৃষ্টির স্রষ্টা, মহাশক্তির সাগর অতল, 
তুমিই করে আছো ধারণ, সকল শক্তির জ্বলন্ত অনল। 

মেয়েরা বীরাঙ্গনা, কল্যাণময়ী, মাতৃজাতির সর্বোচ্চ মান,
সারা বিশ্বের কল্যাণে রয়েছে মেয়েদের অশেষ অবদান। 

মেয়েদের হাসিমুখ, সকল ক্লান্তিতে মুছে দেয় সব ধূয়াশা, 
মেয়েদের হাসিতেই মুছে যায় গ্লানি, ভ্রান্ত মনের কুয়াশা। 

মেয়েরা ভালোবাসার আত্মার জ্বলজ্বল তারা- চিরসত্য, 
স্রোতস্বিনী সাহসের পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা- অনুপ্রেরণায় নিত্য। 

মেয়েরা আজও প্রতি ঘরে ঘরে স্বীকৃত লক্ষ্মী, অন্নপূর্ণা, 
মেয়ে ছাড়া তাইতো প্রতিটি পরিবার, সংসার অসম্পূর্ণা। 

দেশের বিপর্যয়ে রুখে দাঁড়াতে মেয়েরাও প্রজ্বলিত অগ্নি, 
সিঁদুর অপারেশনের স্বপ্নচোখে তারাই ছিল দেশের মনি। 

মেয়েরা আজও নতুন করে স্বপ্ন দেখে আত্মনির্ভর হতে, 
জ্ঞানের আলোয় জ্বলে ওঠে, চায় যে সোনার মেয়ে হতে।

Friday, October 10, 2025

শব্দের অহংকার -- রামকৃষ্ণ পাল

শব্দের অহংকার
রামকৃষ্ণ পাল 
১০/১০/২০২৫
নিস্তব্ধ জগৎ অপরিচিত মহল 
শব্দে প্রাণের কথা, 
নিস্তব্ধ রাতে অন্ধকারে জ্বলে 
না বলা কত ব্যথা।

আকাশ ফাটা শব্দের অহংকার 
অভিনয়ের ফুলদানি, 
ভীত দর্শক, করতালিতে উল্লাস 
নিজেই জুড়ে বাখানি।

মহাপাতকের শব্দ বাণীর স্রোত 
বইছে আপন মনে,
এই শব্দ বোমার আগুনে পুড়ে 
কত নিষ্পাপ জনে। 

শব্দেই হাসি, শব্দেই কান্না, গান 
কাব্য ঝংকার, লহরী
নিঃশব্দতার দুঃস্বপ্নে ভরা জীবন 
জীবন্ত, ডুবন্ত তরী ।

কত শব্দে প্রেমের গাঁথা বন্ধন 
ভালোবাসার ছন্দে,
কত অলি উড়ে এসে সশব্দে
জুড়ে গান আনন্দে। 

শব্দবিনা বীণা বাজে কি কখনো?-
নিঃশব্দতাই মরণ, 
এই শব্দেই রচিত হয়েছিল বেদ 
জীবনের প্রতিটি চরণ।

তুমি একজন প্রেমিক খুঁজে পাবে কবিতায় -- শাহজালাল বখতিয়ার


তুমি একজন প্রেমিক  খুঁজে পাবে কবিতায়। 
শাহজালাল বখতিয়ার 
৯/১০/২৬

তুমি তোমার প্রতিটি পরমাণুকে রূপান্তরিত করতে পারো কবিতার কাছে,
আর তোমার প্রতিটি চুলকে করে তুলতে পারো কবিতা জন্য। 

একদিন তুমি একজন মানুষকে খুঁজে পাবে...
সে প্রশংসা করে - যেমন আমি করেছিলাম -
তোমার চুল ধোয়ার জন্য...
আর তুমি কবিতা দিয়ে গণনা কর...
আর তুমি চুল আঁচড়াও।

আমি তোমার কাছে ভিক্ষা করব
বিনা দ্বিধায় তােমাকে অনুসরণ করব..
তুমি আমার হওয়াটা কোন ব্যাপার না...
তুমি তার হওয়াটা কোন ব্যাপার না...

নাস... কবিতার জন্য...

যখন তুমি একজন মানুষ খুঁজে পাবে,
সে তোমার প্রতিটি অংশকে কবিতায় রূপান্তরিত করবে।
কে তোমার প্রতিটি চুলকে কবিতায় পরিণত করে?
যখন তুমি একজন পুরুষ খুঁজে পাবে, তখন সক্ষম?

আসলাম, তোমাকে স্নান করানো ও সাজানোর জন্য কবিতার সাথে।
 আমি তোমাকে অনুরোধ করব
বিনা দ্বিধায় তােমাকে অনুসরণ করব।

এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় তুমি আমার,
 অবশ্যই  তুমি কিন্তু আমার কবিতার।

Saturday, September 27, 2025

ইলিশ উৎসবে ছোট মামা -- আশীষ কুমার রায়

 ইলিশ উৎসবে ছোট মামা
আশীষ কুমার রায়
২৭/০৯/২০২৫
ভানগড়ের  অভিজ্ঞতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ছোট মামা তার নতুন  ট্রিপের প্ল্যান নিয়ে  হাজির, আমরা পাঁচজন মানে আমি ,বাবলু,মৌ,তুলি আর বাবাই তখন আমাদের চিলেকোঠার ঘরে আড্ডা দিচ্ছি,আমার নামতো আপনারা জানেন আমি হলাম বাবুন।
ছোট মামা ঘরে ঢুকেই একটা চেয়ার টেনে বসেই বলে বাবুন তুই তুলি আর মৌ কে নিয়ে নীচে যা, আমি  আমি বাড়ির সবার জন্যে কলেজ স্ট্রিটের তেলেভাজা শপ আরে যেটা বুড়োদার চপ শিল্প নামে বিখ্যাত,সেখান থেকে চপ নিয়ে এসেছি, তোরা নীচে যা আর  আমাদের জন্যে নিয়ে আয় আর আমি তোর মাকে কড়া করে আমার জন্যে চা বানাতে বলেছি সেটাও আসার সময় নিয়ে আসবি, তোরা তাড়াতাড়ি আসবি,আমার একটা ট্রিপের প্ল্যান আছে,তোরা আসলেই সেটা নিয়ে আলোচনায় বসবো, আমরা নীচের তলায় চলে গেলাম,যাওয়ার পথে তুলি আমায় বলে আচ্ছা বাবুনদা ছোট মামার এবারের প্ল্যান সম্পর্কে কিছু আন্দাজ করতে পারছিস,আমি বললাম আরে আমি তো কোন ছার তোরা জানিসনা যে ছোট মামার মাথায় কখন কোন প্ল্যান আসে তা ভগবানের পক্ষেও বোঝা অসাধ্য, শুনে ওরা হেসে দিলো।আমরা চপ , মুড়ি আর চা নিয়ে আসলাম,আমাদের খাওয়ার পরে ছোট মামাও তার চা খাওয়া শেষ করে চায়ের কাপটা টেবিলের উপর রাখলো।
এবার ছোট মামা তার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা শুরু করলো,ছোট মামা বলে দেখ আমরা এবার যেখানে যাবো সেখানে আমাদের দু তিন দিনের মধ্যেই যেতে হবে না হলে আসল মজাই মিস করবো, বাবলু বলে আচ্ছা ছোট মামা আমরা এমন কোথায় যাবো যে এত তাড়াহুড়ো করে যেতে হবে, ছোট মামা বলে আমরা এবার সুন্দরবন যাবো, শুনে বাবাই বলে আচ্ছা ছোট মামা আমরা যখন সুন্দরবন যাবো তার জন্যে এত তাড়াহুড়ো কিসের,ছোট মামা বলে তোরা বেকার পড়াশোনা করছিস,দুনিয়ার কোন খবর রাখিস না, তোরা জানিসনা যে এই সময় সুন্দরবনে ইলিশ মেলা বা উৎসব হয়। সুন্দরবনের ইলিশ মেলা বা সুন্দরবন ইলিশ উৎসব হলো একটা বার্ষিক উৎসব যা এই সময়েই হয়,যখন সুন্দরবনের নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়,এই মেলায় ইলিশ পোলাও,ইলিশ ভাপা,সর্ষে ইলিশ,ইলিশ ভাজা, ইলিশ মাছের পাতুরি এবং ইলিশ বিরিয়ানি পাওয়া যায়,এছাড়াও চিংড়ি ও কাঁকড়ার নানান পদও পাওয়া যায়।এই উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং লোকসংগীতের আয়োজন করা হয় আর সেই সঙ্গে থাকে স্থানীয় হস্তশিল্পের মেলা,তুলি বলে এইবার বুঝলাম তুমি কেনো দু একদিনের মধ্যেই যেতে বলছো।
শোন আমরা যাবো সুন্দর বনের সজনেখালি, ওখানে নৌকাতেই ইলিশ মাছের বিভিন্ন ধরনের পদ পরিবেশন করা হয়,আমরা ওখানে নৌকাতেই ইলিশ মেলা পালন করবো,আমরা সবাই বললাম উফ এটাতো তোমার জব্বর আইডিয়া,ছোট মামা বলে আমার সব প্ল্যানই জব্বর হয়,আর শোন সুন্দরবনের সজনেখালি যাওয়ার পিছনে আমার আরও একটা কারণ আছে মানে আমরা এক ঢিলে দুই পাখি মারবো,বাবাই বলে সেটা কিরকম ছোট মামা,ছোট মামা বলে সজনেখালির টাইগার রিজার্ভের মানে মোদ্দা কথায় সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের মধ্যে নৌকায় করে বাঘ দেখা যায়,কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট স্থান বলা কঠিন,কারণ এটা আসলে বনের সরু জলপথ এবং খাঁড়ির মধ্যে,বাঘ দেখার সম্ভাবনা বাড়ে যখন জোয়ারের সময় বা ভোরের দিকে নদী ও খাঁড়িগুলোতে বাঘেরা বেশি আনাগোনা করে,আরে প্রয়োজন হলে আমরা আমাদের নৌকা তীরে দাঁড় করিয়ে না হয় পায়ে হেঁটেই বাঘের খোঁজ করবো,ছোট মামার এই দ্বিতীয় পরিকল্পনা শুনে আমরা ইলিশ মেলায় যাওয়ার কথা শুনে যতটা আনন্দিত হয়েছিলাম তার চেয়ে দশগুণ বেশি ভয় পেলাম।মৌ বলে আচ্ছা ছোট মামা নৌকাতেই বসে আমরা অপেক্ষা করবো,কপালে থাকলে ঠিক বাঘের দেখা পাবো,আবার জঙ্গলে গিয়ে লাভ কি,আমি শুনেছি বাঘ জঙ্গলের গভীরে শিকার খোঁজে আর মানুষের উপর আক্রমণও করতে পারে,বিশেষ করে যদি ওরা মানুষকে জঙ্গলের ভেতরে দেখে।ছোট মামা হেসে বলে তোরা আমার ভাগ্নে,ভাগ্নি হয়ে এত কাপুরুষ হবি আমি ভাবতেই পারছি না,তোরা একটা কথা কেনো ভুলে যাচ্ছিস তোদের সাথে আমি তো থাকবো,আর তোরা জানিসনা হয়তো একসময় শিকার আমার শখ ছিলো,আমি বললাম হ্যাঁ মা আমাদের সেকথা বলেছে তবে আমি যতদূর জানি তোমার শখ ছিলো কিন্তু কোনদিন শিকার করোনি,ছোট মামা বলে ডেপোমি করিস না,জানবি শিকারের প্রতি প্রবল শখ থাকা মানেই অর্ধেক শিকার করা,আমরা আর কোনও কথা না বলে পরস্পরের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকালাম। 
ছোট মামা বলে শোন আমি পরশু সকাল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে গাড়ি নিয়ে চলে আসবো তোরা রেডি হয়ে থাকবি, আমরা কোলকাতা থেকে সজনেখালি  যাওয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে গোদখালি ফেরি ঘাট পর্যন্ত যাবো, গাড়ি নিয়ে যেতে হবে ১৩০ কিলোমিটারের মতন।আমরা ই,এম বাইপাস, বানতলা, ঘটক পুকুর,বাসন্তী হয়ে গদখালী যাবো।গদখালী থেকে আমরা ফেরি বোটে করে সজনেখালি যাবো,কারণ এটা জলপথ, গদখালীতে আমরা গাড়ি পার্ক করবো।
ছোট মামা বলে তাহলে ওই কথাই রইলো আমি পরশু ভোরে চলে আসছি,শোন আমি তো দূরবীন নেবো,তোরাও তোদের যার যার কাছে দূরবীন আছে নিয়ে নিবি, আমি বলি আমাদের সবার কাছেই আছে,ছোট মামা বলে তাহলে তো কোন সমস্যাই নেই, আসলে আমাদের দূরবীন দিয়ে বাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখতে হবে,এবার ছোট মামা বলে আমি নীচে গিয়ে সবাইকে আমাদের যাওয়ার ব্যাপারে বলে দিচ্ছি,তোদের আর ওদেরকে বেশি কিছু বলতে হবে না,এই কথা বলেই গটগট করে ছোট মামা নীচে চলে গেলো,বাবলু বলে আচ্ছা বলতো ছোট মামা অত তাড়াহুড়ো করে কেনো আমাদের না নিয়েই সবাইকে বলতে গেলো, মৌ বলে কেনোরে বাবলুদা,,বাবলু বলে ছোট মামা সবাইকে গিয়ে বলবে ইলিশ মেলায় আমরা যাবো,ছোট মামার যে এর সাথে ব্যাঘ্র দর্শনের অভিপ্রায় আছে সেটা বলবে না, আমাদের সঙ্গে নিয়ে বলতে গেলে যদি আমাদের মধ্যে থেকে কারোর মুখ থেকে কোন বেফাঁস কথা বেড়িয়ে যায়,তুলি বলে একদম ঠিক বলেছিস আর সেই জন্যেই দেখলিনা ছোট মামা যাবার আগে বলে গেলো আমাদের বেশি কিছু না বলতে। 
যাওয়ার দিন ছোট মামা নিজের বলা টাইমের আগেই এসে হাজির,যদিও আমরাও সবাই রেডি হয়ে বসেই ছিলাম,ছোট মামা আসার পরে আমরা আমাদের লাগেজ নিয়ে গাড়িতে রাখতে যেতেই দেখি ছোট মামা তার সাথে একটা রাইফেল নিয়েছে,আমি বললাম ছোট মামা তুমি এটা কি করেছো, তুমি তো জানো সুন্দরবনে ব্যক্তিগতভাবে রাইফেল নিয়ে ঘোরার অনুমতি নেই , সুন্দরবন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য কঠোর নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়,সুন্দরবনে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য প্রশিক্ষিত বনকর্মীরা অনুমোদিত অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।ছোট মামা বলে আরে আমি সব জানি,আমি এটা নিয়েছি শুধুমাত্র তোদের প্রোটেকশনের জন্য।বাবলু বলে তুমি ওটা নিয়ে ঢোকার আগেই তো বাজেয়াপ্ত করে নেবে,ছোট মামা অনেকক্ষণ ধরে কি ভাবলো তারপর বলে এটা নিয়ে এখন কি করা যায় বলতো,বাবাই বলে তুমি ওটা আমাদের বাড়িতে রেখে দাও,ছোট মামা আমায় বলে বাবুন তাই কর এটাকে বাড়িতে রেখে আয়, রাইফেল রেখে এসে আমি গাড়িতে বসার পর ছোট মামা গাড়ি স্টার্ট করলো তখন সকাল ছটা বাজে,আমরা যাওয়ার পথে রাস্তায় এক জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ব্রেকফাস্ট করে নিলাম,আমরা সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ সজনেখালি পৌছলাম।
ছোট মামা কোলকাতা থেকেই একটা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্যুর প্যাকেজের নৌকাতে আমাদের থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করে নিয়েছিল।আমরা ওই নৌকাতেই ইলিশ উৎসব পালন করলাম,ছোট মামা লাঞ্চ আর ডিনারে ইলিশ মাছের মোটামুটি সব আইটেম ভরপুর খেলো,আমরা ছোট মামাকে আগে কোনদিন এত খেতে দেখিনি,রাতভর আমরা বাঘ দেখার আশায় নৌকায় বসে থাকলাম,ছোট মামা রাতে অনেক বার নৌকার শৌচাগারে গেলো আর রাতের অনেকটা সময় সময় শৌচাগারেই সময় কাটালো,বাবাই ছোট মামার বারবার শৌচাগারে যাওয়া দেখে হাসতে হাসতে বললো এটা ইলিশ উৎসবের সাইড এফেক্ট, আমরা হাসতে হাসতে বলি তা যা বলেছিস, যদিও আমরা সারারাত বাঘ দেখার জন্যে উৎসুক হয়ে বসে থাকলাম কিন্তু বাঘ তো দূরের কথা কোনরকম বন্যপ্রাণী দেখতে পেলাম না,সকালে যখন আমরা সজনেখালি ফিরলাম তখন ছোট মামা বলে এখানে একটা গেষ্ট হাউসে আমাদের থাকার বন্দোবস্ত করে রেখেছি,আমরা আজ এখানেই থাকবো কাল সকালে ব্রেকফাস্ট করে কোলকাতার জন্য রওনা দেবো,আর শোন এখানে আমার বলা আছে যে আমাদের জন্য ইলিশ মাছের বিভিন্ন আইটেমের সঙ্গে চিংড়ি মাছের আর কাঁকড়ার আইটেম রাখতে,শুনে তুলি বলে ছোট মামা তুমি আজকেও এসব খাবে,কালকে অর্ধেক রাত তো শৌচাগারে কাটালে,ছোট মামা বলে আরে আমি কি বারবার ওখানে এমনি যাচ্ছিলাম,তবে তোরা শোন আমি ওখান থেকেই তো বাঘের দর্শন পেয়েছি তাও একটা নয় দু দুটো বাঘ দেখেছি,আসলে এতক্ষণ তোদের এই কথা বলিনি পাছে তোরা কষ্ট পাস এই ভেবে যে ছোট মামা বাঘের দেখা পেলো আর আমরা পেলাম না,তুলি আমার কানের সামনে মুখ নিয়ে,আস্তে করে বললো আসলে বাবুনদা মনে হয় পেট গরম থেকেই বাঘ দেখেছে। 
ছোট মামা গেষ্ট হাউসে ছোট মামার জন্যে একটা ঘর,আমার,বাবলুর আর বাবাই এর জন্য একটা ঘর এবং তুলি,মৌ এর জন্যে একটা ঘরের ব্যাবস্থা করে রেখেছিল,ছোট মামা সব ট্যুরেই চায় আমরা ছেলেরা তার সাথে এক ঘরে থাকি কিন্তু আমরা ছোট মামার ঘুমের মধ্যে নাসিকা গর্জনের ভয়ে নানান অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যাই,ছোট মামা তাই এখন আমাদের জন্য আলাদা ঘরের ব্যাবস্থা করে। 
ছোট মামা গেষ্ট হাউসে ব্রেকফাস্টে ও বেশ কয়েকটা ইলিশ মাছ ভাজা চোখের নিমেষে খেয়ে নিলো,ব্রেকফাস্ট শেষ করে আমরা আমরা ছোট মামাকে জিজ্ঞাসা করলাম আমরা আজ সারাদিন কি করবো গেষ্ট হাউসেই বসে থাটবো,ছোট মামা বলে তোদের কি মনে হয় তোদের ছোট মামা বেড়াতে এসে বসে থাকার লোক,শোন আমি এখানের ম্যানেজার কে দিয়ে একটা নৌকা ভাড়া করেছি,আমরা মাতলা নদী ধরে ওই নৌকায় ম্যানগ্রোভ বন আর একেবারে শান্ত প্রকৃতির কাছাকাছি যাবো।আমরা বললাম দারুণ আইডিয়া ছোট মামা।আমরা ছোট মামার এই আইডিয়া শুনে আমরা সবাই খুবই উৎফুল্ল হয়েছিলাম কিন্তু তখন আমরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতেই পারিনি যে এই নৌকাবিহারে গিয়ে যে আমাদের এতটা নাজেহাল হতে হবে। 
আমরা যখন নৌকাবিহারে যাবার জন্য গেষ্ট হাউস থেকে বেড়োচ্ছি তখন ছোট মামা বলে দু মিনিট দাঁড়িয়ে যা তোরা,ছোট মামা ম্যানজার এর দিকে তাকাতেই ম্যানেজার বলে সব রেডি হয়ে গেছে স্যার এই দিলো বলে,আমরা অবাক হয়ে সবাই সবার দিকে তাকালাম,বাবলু বলে আরে ছোট মামা আবার কি নেবে,এই সময় একটা ছেলে এসে একটা বিশাল সাইজের প্যাকেট দিলো ছোট মামার হাতে,ছোট মামা বললো সবকিছু ঠিকঠাক দিয়েছো তো,ছেলেটা বলে হ্যাঁ স্যার আপনি যা যা বলেছিলেন সব আছে এটাতে, ছোট মামা বাবলুর হাতে প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বলে চল এবার যাওয়া যাক।
গেষ্ট হাউস থেকে বেড়োনোর পর মৌ ছোট মামাকে জিজ্ঞাসা করে এই প্যাকেটে কি নিলে,ছোট মামা বলে আরে তেমন কিছুই নেইনি,শুধুমাত্র ইলিশ দোপেয়াজা,ইলিশ মাছ কড়া করে ভাজা,চিংড়ি ভাপা,চিংড়ি ভুনা, চিংড়ি ভাজি,কাঁকড়ার ঘিলুর ভর্তা,কাঁকড়ার ঝাল আর সবার জন্যে পাঁচটা করে নরম তুলতুলে রুমালি রুটি,ছোট মামার এই “শুধুমাত্র আইটেম”শুনে আমাদের সবার “আত্মারাম খাঁচাছাড়া"।বাবাই আমাকে বলে আমি নিশ্চিত ছোট মামা আবার কোন অঘটন ঘটাবে,আমি বললাম আমারও সেটাই মনে হচ্ছে কিন্তু কি করবি বল একমাত্র বড় মামা এখানে থাকলে ছোট মামাকে থামাতে পারতো,আমাদের কারোর কথায় তো পাত্তাই দেবে না।
আমরা মাতলা নদীতে নৌকায় করে ঘুড়ে বেড়াচ্ছি,বেশ মজা লাগছে সবার,এমন সময় তুলি আমাকে কনুইয়ের খোঁচা দিয়ে দেখায় ছোট মামা প্যাকেট খুলে খাবার খেতে শুরু করেছে,আমাদের দিকে তাকিয়ে বলে আরে তোরা দাঁড়িয়ে আছিস কেনো,খেতে খেতে প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ কর,বাবাই বলে কি বলছো এখন খাবো, এইমাত্র তো ব্রেকফাস্ট করলাম,শুনে ছোট মামা বলে তোদের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের এটাই সমস্যা তোরা খেতে শিখলিনা আর খেয়ে হজমও করতে পারিসনা আর আমাকে দেখ লোহা খেয়েও হজম করতে পারি,আমরা আর কোন কথা না বলে আবার প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করতে লাগলাম। 
বেশ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ দেখি ছোট মামা নৌকার চালকের সাথে গিয়ে কথা বলছে,মনে হল ছোট মামা বেশ কাকুতি মিনতি করছে, তখন আমরা ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি,আমি আর বাবলু এগিয়ে গিয়ে বলি,কি হয়েছে ছোট মামা,শুনে ছোট মামা বলে আমাকে এই মূহুর্তে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হবে,সেটাই এই মাঝি ভাইকে বলছিলাম,আমরা বলি চলো গেষ্ট হাউসে ফিরি,ছোট মামা পেটে হাত রেখে বলে আরে আমার হাতে অত সময় নেই,ফিরতে ফিরতে হয়তো নৌকাতেই অঘটন ঘটে যাবে,শুনে মাঝি ভাই বলেন আমি বনের পাশে নৌকা দাঁড় করতেছি,আপনি নেইমে জায়গা বুইঝে কইরে আসবেন,ছোট মামা বলে তাই করো, নৌকা বনের পাশে দাঁড়াতে ছোট মামা দৌড় লাগানো ভালো জায়গার সন্ধানে,ছোট মামার পিছনে বাবলু, বাবাই আর আমি নৌকা থেকে নেমে দাঁড়াই,একটু পরে শুনি ছোট মামা বা,বা করে গোঙাচ্ছে,আমরা ছুটে যাই,গিয়ে দেখি ছোট মামা ওখানে শুয়ে শুয়ে সেই বা,বা করে গোঙাচ্ছে,আমরা দেখলাম আমরা যেতেই একটু দূর থেকে একটা বাচ্চা শিয়াল ছুটে পালালো,আমরা ছোট মামার চোখে মুখে জল দিয়ে উঠিয়ে বসাই,ছোট মামাকে বলি কি হয়েছিল,তুমি ওমন বা, বা করছিলে কেনো,ছোট মামা বলে আরে একটা মস্ত বড় রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রায় আমার ঘাড়ের সামনে এসে পড়েছিল,আমি বলি আরে ওটা তো একটা বাচ্চা শিয়াল ছিলো, ছোট মামা রেগে বলে এখন তোদের কাছে শিখতে হবে কোনটা বাঘ আর কোনটা শিয়াল,ওসব ছাড় চল নৌকায় যাই,আমি তোদের কোন বিপদে ফেলতে পারবোনা আর তাছাড়া আমার কাছে তো আমার রাইফেলটাও নেই, থাকলে এক গুলিতেই বাঘটাকে ঢিট করে দিতাম, আমরা নৌকায় ফিরে আসি,সব শুনে তুলি আর মৌ বলে আর ঘুরতে হবে না ছোট মামা চলো আমরা এবার গেষ্ট হাউসে ফিরি, সেইমতো আমরা গেষ্ট হাউসে ফিরলাম,ছোট মামা নিজের ঘরে যাওয়ার পর আমরা সবাই গিয়ে তুলিদের রুমে গিয়ে বসি,আমরা ছোট মামার আজকের কীর্তিকলাপ নিয়ে মজা করছি এমন সময় হোটেলের একটা ছেলে এসে বলে আপনাদের মামা বাবু আপনাদের খাবার টেবিলে খাওয়ার জন্যে ডাকছেন,তুলি আর মৌ আঁতকে উঠে বলে ছোট মামা আবার খাবে, আমি বললাম তোরা মিলিয়ে নিস আজকে আমাদের কপালে শনি ঠাকুর নাচছে। 
আমরা খাবার টেবিলে গিয়ে আমাদের মতন করে খেলাম আর ছোট মামা তার স্বভাবসিদ্ধ অনুসারে মনের মতন করে খেলো,খাবার পর বলে চল এবার যার যার ঘরে গিয়ে বিশ্রাম কর আর পাড়লে ঘুমিয়েনে,দেখবি ঘুমিয়ে নিলে এখনের খাবার সব হজম হয়ে যাবে,রাতের জন্যেও ভালো ভালো আইটেম বলে রেখেছি। 
আমরা কেউই ঘুমালাম না বরং এক রুমে বসে সবাই আড্ডা দিলাম,দেখতে দেখতে কখন সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে আমরা কেউ বুঝতেই পারিনি,মৌ বলে সেই থেকে ছোট মামার কোন আওয়াজ পাচ্ছিনা,বাবাই বলে নির্ঘাত ঘুমিয়ে খাবার হজম করছে,তুলি বলে ছোট মামা আসা থেকে যা খাবার খেয়েছে তা হজম করতে তিনদিনের টানা ঘুম দরকার, আমি হেসে বলি তোরা বোস,আমি গিয়ে একবার দেখে আসি,আমি ছোট মামার ঘরে গিয়ে দেখি দরজা খোলাই আছে আর ছোট মামা খাটে শুয়ে ঘুমাচ্ছে,আমি ছোট মামাকে ডাকতে যাবো তখন হঠাৎ করে একটা দুর্গন্ধ আমার
নাকে আসে,আমি ভালো করে তাকিয়ে দেখি ছোট মামা ঘুমাচ্ছে না বরং ছোট মামা মলত্যাগ করে কাপড়ে চোপড়ে এক করে বেহুশ হয়ে পড়ে আছে। 
আমি রুমে গিয়ে ওদের সবটা বলি,শুনে সবাই আমার সাথে ছোট মামার রুমে ছুটে আসে,বাবলু বলে তোরা এই দিকটা একটু দেখ আমি গিয়ে ম্যানেজার কে বলে একজন ডাক্তারের ব্যাবস্থা করছি,আমি বললাম তাই কর। 
কিছুক্ষণ পরে একজন বয়স্ক ডাক্তার বাবু আসলেন,উনি ছোট মামাকে ভালো করে পরীক্ষা করে আমাদের বললেন খাবারের গন্ডগোলের জন্যে ওনার ডিহাইড্রেশন হয়েছে, উনি ছোট মামাকে একটা ইনজেকশন দিলেন, আমাদের বললেন প্রশান্ত মানে এই গেষ্ট হাউসের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে এনাকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাও আমি রেফার করে দিচ্ছি,বাবাই ডাক্তার বাবুর ফিস মিটিয়ে ওনাকে এগিয়ে দিয়ে আসতে গেলো,ডাক্তার বাবু যাওয়ার সময় প্রশান্ত বাবুকে সবটা বলে গেলেন,প্রশান্ত বাবু সব শুনে ফোন করে একটা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স আনালেন এবং ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ফোন করে গদখালীতে একটা অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যাবস্থা করলেন,ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সে ছোট মামাকে  গদখালী ঘাট পর্যন্ত নিয়ে আসলাম আবার গদখালী থেকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম,পৌছানোর পরেই হাসপাতালের একজন ডাক্তার বাবু ছোট মামাকে পরীক্ষা করে সঙ্গে সঙ্গে ছোট মামাকে ভর্তি করে নিলো। 
আসার পথে আমরা ফোন করে বাড়িতে সবটা জানালাম,আমরা বড় মামাকেও সব জানালাম। 
খবর পেয়েই বড় মামা আর মেজো জেঠু চলে এলো একজন অতিরিক্ত ড্রাইভার মানে ভজনদাকে নিয়ে,পরদিন সকালে আমরা ভজনদাকে নিয়ে গদখালী যাই সেখান থেকে আমাদের গেষ্ট হাউসে,বড় মামা ফোন করে গেষ্ট হাউসের টাকার হিসেব জেনে নিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট করে দিয়েছে,আমরা আমাদের লাগেজ আর ছোট মামার লাগেজ নিয়ে গদখালী এসে সেখান থেকে ছোট মামার গাড়ি পার্কিং থেকে নিয়ে ওই গাড়িতে করে আবার হাসপাতালে এলাম,বিকেলে ছোট মামাকে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করার পর আমরা বাড়ি ফেরার জন্য হাসপাতাল থেকে বাইরে আসার পর বড় মামা ছোট মামাকে বলে তপু ক্যানিং বাজারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাটকা দেখে কয়েকটা ইলিশ মাছ নিয়ে নেবো নাকি,তোর বৌদিরা রসিয়ে কষিয়ে রান্না করে দেবে তোর জন্যে,বড় মামা মেজো জেঠুকে বলে জানো প্রলয় এই ওর বৌদিদের আশকারা আর আদরে এই তপুটা দিনকে দিন বেয়াকেল্ল হয়ে যাচ্ছে আর সঙ্গে আছে এই বিচ্ছুর দল,ছোট মামা যা বলে তাতেই নাচে,আমরা অপরাধীদের মতো মুখ করে বসে থাকলাম,বড় মামা বলে এবার কোলকাতায় যাওয়ার পর তোর এই কথায় কথায় ট্যুর করা আর বাচ্চাগুলোকে বিপদে ফেলা বার করছি,তোর ট্যুর করাই বন্ধ করে দেবো,ছোট মামা চুপচাপ করুন মুখ করে বসে থাকে,আমরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে বলা বলি করি এই ছোট মামার ট্যুরে যাওয়া বন্ধ যদি ক্ষনস্থায়ী হয় তাহলে ঠিক আছে কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হলে আমরাই সব চেয়ে বেশী কষ্ট পাবো,ছোট মামা ছাড়া আর কে আমাদের বেড়াতে নিয়ে যাবে,মৌ হালকা চালে বলে ওসব নিয়ে কেউ টেনশন করিসনা,জানিস তো ছোট মামাকে আটকে রাখার ক্ষমতা হয়তো ভগবানের হাতেও নেই,আমরা সবাই বললাম তা যা বলেছিস।আমরা রাতে যখন বাড়িতে এসে ঢুকলাম তখন মা,কাকী,জেঠিমাদের কাছে আমরাই হলাম সব নষ্টের গোড়া,আমরা আর কোন কথা না বাড়িয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে শুতে চলে গেলাম।

Thursday, September 18, 2025

প্রতিশ্রুত -- রবীন্দ্র নাথ মন্ডল

প্রতিশ্রুত 
শ্রীরবীন্দ্র নাথ মন্ডল
১৮/৯/২৫

দিন হাঁটে কপটতার কাল পাঁকে।যা আসার কথা ছিলো-- আসেনি।

সমস্ত প্রতিশ্রুতির দস্তাবেজ ভেসে গেছে বন্যার তুফাণে।দেখেনি মানুষের ঘরে ঘরে না জ্বলা উনুন।দেখেনি ফুটপাতে ছেঁড়া কাঁথা, ছোটো হাঁড়ি,সংসার পেতে বসা রমণীদের মুখ।দেখেনি অপুষ্টির কষাঘাতে হাজার হাজার অকালমৃত্যু।শোনেনি একটু স্বচ্ছল বাতাসের জন্য কি নিদারুন যন্ত্রণা-প্রবাহ।

যা আসার কথা ছিলো—আসেনি।

বলেছিলো নারীত্ব পাবে রানীর মতো সম্মান।ধর্ষিতা হতে হবে না পথে ঘাটে। নারী পাবে স্বছল এক অনাবিল স্বাধীনতা।এক মুখ হাসির বাতাসে পত্‌পত্‌ করে উড়বে শাড়ির আঁচল।তৃষ্ণার জলের জন্য কোনো নারীকে দীর্ঘপথ ভেঙে কলসী কাঁকে জল আনতে হবে না।

খরা নামক দুঃসহতা থাকবে না দেশে।শস্য শ্যামলে ভরে উঠবে জন-জননীর কোল।আকাশে ভেসে উঠবে লক্ষ লক্ষ চাঁদ।তারা ফুলে মেতে উঠবে দিগন্তের আকাশ।বোবা পাখীরা গাইবে চেতনসিদ্ধ মানবতার গান।

কিন্তু যা আসার ছিলো—আসেনি।

আজও সেই কান্না,হাহাকার বুকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে হেঁটে চলেছে সময়।আজও সেই কান্নার জলে দু;খের চাষাবাদ।কষ্টকে লালন-পালন কোরে এগিয়ে চলা।আজও সেই করাল,রুদ্র রাত্রির কাল-প্যাঁচার উল্লাস।

তবে কি প্রতিশ্রুতিগুলো ছিলো ছলণার রং করা মিষ্ট ললিপপ?যুগ যুগ ধরে যা আমরা চুষে আসছি?

রাঙামাসি -- নীল নক্ষত্র

রাঙামাসি
নীল নক্ষত্র
১৮/০৯/২০২৫
ছোটবেলা থেকেই আমার রাঙামাসির মুখে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসার নিদারুণ কষ্টের একটা ছায়া দেখতে পেতাম আমি।

তখন আমি সবে দশ।রাঙামাসি আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতো , "বাবা, তুই এক মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি দেখিস বলতো?"

আমার আকাশ দেখতে খুব ভালো লাগে, সেই কথাই বলেছিলাম। রাঙামাসির আকাশ এখান থেকে ঠিক কতটা দূরে এটাই ছিল তখন আমার একমাত্র ভাবনা।

রাঙামাসির দেশে পাখির মতো উড়ে চলে চাইতো আমার মন।যখন আকাশ আমাকে মেঘদূতের কথা শোনালো তখন রাঙামাসি আর নেই।

বলা হলো না আর কোন কথা।তাই লিখে রেখে গেলাম আমার সেই সব না-বলা কথা কবিতার পাতায় পাতায় শুধু রাঙামাসি'র জন্য।
 

Tuesday, September 16, 2025

সম্বল, স্মৃতির খাতা -- মোঃ সেলিম হোসেন

সম্বল, স্মৃতির খাতা
মোঃ সেলিম হোসেন 
১৬/৯/২০২৫ 
স্মৃতির খাতা হচ্ছে ভারি যাচ্ছে যতই দিন,
অবসরের সুযোগ পেলেই বাজায় স্মৃতি বীণ।
আজকে এখন বসে আছি কলম ধরা হাত,
একটু পরেই স্মৃতি হবে আসবে যখন রাত।

একটি করে মুহূর্ত যায় বাড়ে স্মৃতির ভিড়,
মনে জাগে সেই সকালের মায়ের সুখের নীড়।
যত্ন করে খাইয়ে দেওয়া কলা মাখা দুধ,
আধূল গায়ে পুতুল খেলার কেমন ছিলো বোধ। 

হাঁটতে গেলেই কাকা জেঠা বগল ধরে মোর,
কাঁধের উপর তুলে নিতো গেয়ে আপন সুর।
বড়বোন আর খালা ফুফুর স্নেহের সীমা নাই,
আলতু ছুঁয়ে হাসতো ওরা সেদিন কী আর পাই?

পাঠশালা আর খেলার মাঠে কেবল ছিলো সুখ,
চারিদিকে করতো খেলা কচি কোমল মুখ।
মিনিট ঘণ্টা সপ্তাহ মাস বছর চলে হায়, 
দিনেদিনে প্রতিক্ষণে জীবন বদলে যায়।

আদর সোহাগ দূরে গেলো এলো নিজের দায়,
আরও বেশি সোহাগ নিয়ে ভাসলাম আপন নায়।
হাজার রকম ব্যস্ততা তে সময় হলো পার,
স্থবিরতা আঁকড়ে ধরছে জীবন নায়ের দাড়।

ভানগড়ে প্ল্যানচেট -- আশীষ কুমার রায়

ভানগড়ে প্ল্যানচেট
আশীষ কুমার রায়
১৬/০৯/২০২৫
এখন আমাদের গরমের ছুটি চলছে তাই বাড়ির বড়রা বলাবলি করছিলো যে আমাদের সবাইকে এই রবিবার মামা বাড়ি দিয়ে আসবে। জেঠু বললো ঠিকই পড়াশোনার চাপে ওদের অনেক দিন হলো কোথাও যাওয়া হয়না,যাক ছুটিতে  কদিন না হয় ওখানে কাটিয়ে আসুক। শুনে তো আমরা সবাই আহ্লাদে আটখানা। 
সবে দুপুরের খাওয়ার খেয়ে আমরা কচিকাঁচার দল চিলেকোঠার ঘরে বরাবরের মত জড়ো হলাম। সবার মনে আনন্দ, আমরা প্ল্যান করছি মামা বাড়িতে গিয়ে কি কি করবো। এমন সময় দেখি ধূমকেতুর মতন ছোট মামা এসে  হাজির। 
দেখি ছোট মামার হাতে একটা খাম আর ছোট মামা মুচকি মুচকি হাসছে, ছোট মামা আসায় আমাদের যেমন আনন্দ হলো, তেমনি ছোট মামার মুচকি হাসি দেখে প্রত্যেকের মনে চাঁপা উৎেজনা হলো, উৎেজনা বলাটা ভুল বলা হবে, আসলে সবার মনে দেখা দিলো এক অজানা ভয়। 
ছোট মামাকে তো আমরা হাড়ে হাড়ে চিনি আবার নিশ্চিত ওনার মস্তিকে কোনো পরিকল্পনা এসেছে যেটার জন্যে হয়তো আবার কোনও অঘটন ঘটতে চলেছে। ছোট মামা আমায় বললো যা আগে নীচে গিয়ে আমার জন্য চা, জলখাবারের ব্যাবস্থা কর, তোদের জন্য অপেক্ষা করছে একটা বিশাল চমক। 
আমরা একে অপরের দিকে চাওয়া চাই করলাম, আমি নীচে চলে গেলাম মা, জেঠিমাকে  খবর দিতে। মা ছোট মামার এই ছুটির মধ্যে আসায় বেশ ভীতসন্ত্রস্ত হলো, জেঠিমাকে বললো দেখো বড়দি নির্ঘাত তপুর মাথায় কোন উদ্ভট বুদ্ধি এসেছে। জেঠিমা বললো তুই আগে থেকেই বড় অস্থির হোস, দেখ হয়তো ওদের নিয়ে যেতেই এসেছে,শুনে মা বলে,শোন দিদি তপু তোমার নিজের ভাই হলে কি হবে ওকে আমি তোমার চেয়ে ঢের বেশি চিনি।
তোমরা ভাবছো নিশ্চয়ই তপু আবার কে,তপু আমাদের ছোট মামার নাম, পুরো নাম  তপব্রত লাহিড়ী,বড়রা সবাই ছোট মামাকে তপু বলেই ডাকে। 
কোনমতে ছোট মামার চা জলখাবারের পাট চুকল,আমরা সবাই অধীর আগ্রহে ছোট মামার চমকের অপেক্ষায় আছি। 
ছোট মামা এবার পাশে রাখা খামটা খুললো আর বের করলো সাতটা  কোলকাতা স্টেশন থেকে জয়পুর যাওয়ার আগামী বৃহস্পতিবারের অনন্যা এক্সপ্রেসের টিকিট, বাবলু বলে তবে কি এবার আমরা জয়পুর ঘুড়তে যাবো কিন্তু একটা এক্সট্রা টিকিট দেখছি এটা কার জন্য ছোট মামা,আমরা তো  ছয়জন, মানে তুমি আমি, বাবুন,মৌ,তুলি আর বাবাই। 
একটু মুচকি হেসে ছোট মামা বললো ধৈর্য্য ধর সময় মতন দেখতে পাবি। আমি বললাম জয়পুর দারুন জায়গা,পিঙ্ক সিটি,ওখানে অনেক কিছু দেখার আছে যেমন হাওয়া মহল, নাহারগড় দুর্গ,জল মহল,অমর জওয়ান জ্যোতি আরও কত দর্শনীয় জায়গা। 
ছোট মামা বলে আরে থাম থাম আমরা জয়পুর যাচ্ছি ঠিকই তবে জয়পুরে আমরা থাকবো না, সেখান থেকে আমরা যাবো ভানগড় দুর্গ মানে যেটা দিনের বেলায় মনোরম স্থান আর রাতে ভুতুড়ে বাড়ি, তোরা জানিস রাত নামার পর সাথে সাথে দূর্গের আশেপাশে বসবাসকারী গ্রামবাসীদের
 আর্তনাদ শোনা যায়। ছোট মামার ভুতের কথা শোনার পর আমাদের তো সবার আত্মারাম খাঁচা।
বাড়ির বড়রা সবাই শোনার পর বাগড়া দিলো, সবাই বলে জঙ্গল, পাহাড়, নদী সব জায়গায় কান্ড বাধিয়ে এবার ভুতের সাথে মস্করা করে সবকটা অকালে মরবি। আমরা সবাই বুঝিয়ে সুঝিয়ে অনেক কাকুতিমিনতি করে বড়দের রাজি করলাম।
আমাদের ট্রেন ছিলো কোলকাতা স্টেশন থেকে দুপুর একটা বেজে দশ মিনিটে, আমরা অনেক আগেই পৌঁছে গেছি, প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসার পর আমরা আমাদের কোচে উঠে যে যার সিটে বসলাম। ট্রেন ছাড়ার ঠিক দু মিনিট আগে এক কাপালিক টাইপের লোক আমাদের পাশে এসে বসলেন, ওনার হাতে সুটকেস এর সাথে ছিল একটা অপরিস্কার বড় পুঁটলি। আমরা সবাই হকচকিয়ে উঠলাম, আমি কিছু বলে ওঠার আগেই ভদ্রলোক ছোট মামাকে বললেন, রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম ছিল তাই পৌছতে দেরী হল, ছোট মামা বললো আরে বাবাজি আমি তো ভাবলাম আপনি হয়তো ট্রেনটা মিস করবেন,শুনে ভদ্রলোক একগাল হেসে বললেন যখন ওদের ডাক শুনতে পেয়েছি তখন ট্রেন মিস করি কিভাবে।আমরা অবাক হয়ে গেলাম আমরা তো কেউ ওনাকে ডাকিনি। 
এবার ছোট মামা নড়েচড়ে বসলো,প্রথমেই আমাদের সাথে ওনার পরিচয় করিয়ে দিলো, ছোট মামা বললো শোন উনি হচ্ছেন একজন বিখ্যাত তান্ত্রিক ভোলানাথ আচার্য মহাশয়, উনি বহু বছর কামাক্ষায় বসে শব সাধনা ও শ্মশান সাধনা করেছেন, উনি তন্ত্র সাধনায় মাধ্যমে ভূত বা প্রেতাত্মাদের বশ করা বা তাদের থেকে সুরক্ষা পাওয়ায় পারদর্শী।এরপর ছোট মামা ওনাকে বলে এরা হলো আমার ভাগ্না আর ভাগ্নি,আমাদের প্রত্যেকের সাথে আলাদা আলাদা করে পরিচয় করালো। 
এবার ছোট মামা আমাদের আসল উদ্দেশ্য জানাল, ছোট মামা বললো শোন আমার এক বন্ধুর একটা পুরনো বাড়ি আছে  রাজস্থানের আলওয়ার জেলার রাজগড় পৌরসভায়  ভানগড় গ্রামে,ওর বাড়িটা ওই দূর্গের কাছেই, এখন অবশ্য ওখানে ওদের কেউই থাকে না তবে আমার বন্ধু লোক দিয়ে বাড়িটা পরিস্কার করিয়ে আমাদের ওখানে থাকার বন্দোবস্ত করে রেখেছে।ভানুমতী বলে একটি মেয়ে আমাদের জন্য রান্নাবান্না করবে আর আমাদের দেখাশোনা করবে।শোনা যায় এই ভানুমতী তান্ত্রিক সিংঘিয়ার বংশোদ্ভূত,এই সিংঘিয়া ছিলেন রাজকুমারী রন্তবতীর প্রেমে পাগল তবে রাজকুমারী রন্তবতীই তাকে বোল্ডারে পিষে হত্যা করেন।ওনার অভিশাপ ভানগড়কে গ্রাস করে।এটা হলো পুরো ঘটনা এবার শোনা ওখানে ভোলানাথ আচার্য মহাশয়  প্ল্যানচেট করে সিংঘিয়া আর রাজকুমারী রত্নবতীর আত্মাকে আনবেন আর আমরা ওনাদের কাছেই সমস্ত ইতিহাস জানবো, মনে রাখিস ইতিহাসে আমরা একটা পুরানো সত্যকে তুলে ধরবো। যেটা একটা ঐতিহাসিক বিপ্লব। 
আমরা ছোট মামার সব কথা শুনলাম ও বুঝলাম কিন্তু কেউই ঠিক হজম করতে পারলাম না।আমরা সবাই শুধু কথার শেষে ঘাড় নাড়লাম। 
পরদিন বিকেল পাঁচটায় আমরা জয়পুর পৌছলাম,সেদিন আমরা জয়পুরের শতাব্দী নগরে একটা হোটেলে উঠলাম। শনিবার আমরা সকাল নটার সময় একটা গাড়ি ভাড়া করে ভানগড়ে এগারোটা নাগাদ পৌছলাম।
ওখানে ছোট মামার বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছে দেখি ভানুমতী আমাদের জন্য লাল মাস বানিয়ে রেখেছে,আমরা সবাই ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম,দেখলাম মাঠানিয়া লাল লঙ্কা দিয়ে ভানুমতী দারুন সুস্বাদু লাল মাস মানে মশলাদার মটন কারি বানিয়েছে। ভানুমতী আমাদের বললো রাতে আমাদের বুনো খরগোশ রান্না করে খাওয়াবে।
ছোট মামা বললো আজ আমরা সবাই ক্লান্ত তাই বিশ্রাম করি। কাল আমরা ভানগড় দূর্গে যাবো তারপর আমরা আলওয়ারের আরাবলি পাহাড়ের কোলে ভানগড় দুর্গের চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখবো।সোমবার আমরা ভানগড়ে বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির রয়েছে, যা এখানকার আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝায় সেগুলো ঘুড়ে দেখবো।দেখ মঙ্গলবার আমাদের প্রচুর কাজ,সেদিন সকাল থেকে আমাদের প্ল্যানচেটের জন্য যাবতীয় কাজ করতে হবে,সেদিন ভোলানাথ আচার্য মহাশয় রাত বারোটার পর প্ল্যানচেটে বসবেন।শনিবার থেকে সোমবার আমাদের বেশ ঘুড়ে বেড়িয়ে আর ভানুমতীর হাতের সুস্বাদু খাবার খেয়ে ভালো কাটলেও সোমবার রাত থেকে শুরু হল আমাদের সবার মনে ভয়,তুলি ভয়ে ভয়ে আমায় বলে দেখ বাবুনদা জানিনা কাল রাতে আমাদের কপালে কি শনি নাচছে। 
সময় অনুসারে ভোলানাথ আচার্য মহাশয় ঠিক রাত বারোটা বেজে পনেরো মিনিটে প্ল্যানচেটে বসলেন। 
ঘরটি তখন অন্ধকার এবং নিস্তব্ধ,সেখানে শুধু মোমবাতির মৃদু আলো যা ঘরের পরিবেশকে রহস্যময় ও গা ছমছমে করে তুলেছে। এরপর ছোট মামা হালকাভাবে কাস্টারটি স্পর্শ করে মনকে শান্ত রেখে  সিংঘিয়া আর রাজকুমারী রত্নবতীর উপস্থিত আত্মার কাছে প্রশ্ন করা শুরু করলো।এমন সময় সেই অন্ধকার ঘরে হঠাৎ মনে হলো যেন কেউ ছুটে বেড়াচ্ছে কিন্তু কাউকে দেখা যাচ্ছে না।ঘরে হঠাৎ করে বাসনপত্র পড়ে যাওয়ার আওয়াজ পেলাম এছাড়াও ঘরে একটা হিস্ হিস্ শব্দ শুনতে পেলাম, পায়ের উপর মনে হলো কোন কিছু দিয়ে হাল্কা বারি মারছে।ঘরে সবার তখন আত্মারাম খাঁচা অবস্থা,এমন সময় দেখি ভানুমতী কোথা থেকে ছুটে এসে ঘরের আলো জ্বালালো,আলো আসতেই তাকিয়ে দেখি ছোট মামা আর ভোলানাথ আচার্য মহাশয় দুজনেই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। ভানুমতী জানালো আসলে রান্নাঘর থেকে কিভাবে দুটো বুনো খরগোশ বেড়িয়ে এসে এই ঘরে ঢুকেছে। এতক্ষনে আমরা বুঝলাম যে এতসময় ধরে ঘরে ওরাই তান্ডব করছিল। ভানুমতী জল নিয়ে এসে ওদের চোখে মুখে ছেটাতে দুজনের জ্ঞান ফিরলো। 
গরম কফি খাওয়ার পর দুজনকে অনেক চাঙ্গা মনে হলো। ছোট মামা এবার তার কাপুরুষতা লুকানোর জন্য আমাদের বললো শোন আসলে কি আমি প্ল্যানচেটের উপর হাত রেখে ওনাদের দুজনের সত্তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য ওনাদের নাম মনে মনে  ডাকছিলাম তাই তো ওনাদের উপস্থিতি উপলব্ধি করি আর তোদের কারোর মন স্থির ছিলনা তাই তোরা কিছুই বুঝিসনি। 
তান্ত্রিক ভোলানাথ আচার্য ছোট মামার চেয়ে এক কাঠি উপরে যান, উনি বলেন আমি প্ল্যানচেট শুরু করার পরক্ষণেই বুঝতে পারি যে সিংঘিয়ার অভিশাপে রাজকুমারী রত্নবতী
খরগোশ হয়ে গেছিলেন তাই দেখলে না খরগোশ রুপে সে এখানে উপস্থিত হলো আর ওই যে হিস্ হিস্ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলে আসলে সিংঘিয়া ওকে তখন অভিসম্পাত করছিলো আর ওদের দুজনের এই রেষারেষিতে আমাদের প্ল্যানচেট বরবাদ হলো আর ওদের ঝামেলা বন্ধ করতে আমায় অজ্ঞান হবার এই অভিনয় বাধ্য হয়ে করতেই হলো।আমরা সবাই পরস্পরের দিকে তাকাচ্ছি আর কোনক্রমে হাসি চেপে রাখার চেষ্টা করছি। 
তুলি হঠাৎ বলে ওঠে সত্যি বাবাজি আপনি মহান,তাহলে আপনার এই সত্য আবিস্কারের কথাটা ঐতিহাসিক মহলে পাঠিয়ে দিচ্ছি,শুনেই তান্ত্রিক ভোলানাথ আচার্য থতমত খেয়ে বলেন আরে এটা কোরো না,আমার আধ্যাত্মিক বল আছে বলে তো আমি ওনাদের এই গোপন রহস্য রাষ্ট্র করে ওনাদের অপমান করতে পারি না,তখন মৌ বলে তাহলে ছোট মামা তোমার নামে পাঠাই, শুনেই ছোট মামা লাফিয়ে উঠে বলে খবরদার ওসব করবিনা, তোরা তো জানিস আমি কোনদিনই যশলোভী নই। 
আমি মুচকি হেসে বলি তোমাদের দুজনের যুক্তিই আমরা বুঝেছি তা ছোট মামা আমাদের ফেরা কবে,ছোট মামা বলে পরশু দিনের ট্রেনে।বাবলু হেসে বলে তবে তো কালকের দিনটা হাতে আছে তাহলে কি বাবাজি কাল আরেকবার প্ল্যানচেটে বসবেন নাকি,শুনেই বিরক্ত হয়ে তান্ত্রিক ভোলানাথ আচার্য মহাশয় বলেন বারবার ওনাদের বিব্রত করা ঠিক নয়। তুলি আমাদের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলে ওনারা কতটা বিব্রত হবেন জানিনা,বাবাজি আরেকবার লেজে গোবরে হবেন এবিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, ওর কথা শুনে আর হাসি চেপে রাখতে না পেরে আমরা সবাই হেসে ফেললাম।

Monday, September 15, 2025

সেদিন দুজনে...সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ

সেদিন দুজনে...
সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ
14/09/25
সেদিন আকাশে মেঘ ছিল না
পলাশের ডালে ছিল রক্তরাঙা ফুল
সেদিন গোধূলিবেলা ছিল নির্জন
আকাশ দেখতে সেদিন করিনি ভুল।

সেদিন অশোকের গাছে ফুল ছিল
বসন্ত বাতাসে ছিল নতুন ঘ্রাণ
সেদিন মন ছিল বাউলের মতো
হৃদয় বীণায় ছিল গুনগুন গান।

সেদিন কৃষ্ণচূড়া মেলেছিল ডানা
হাতছানি দিয়ে ডেকেছিল -আয় আয়
সেদিন উড়ে গিয়েছিল মন অজানা পথে
আজ দিনশেষে স্মৃতিগন্ধ ভেসে যায়।

সেদিন কৃষ্ণচূড়ার নীচে তুমি ছিলে একা
তোমার এলোচুলে খেলে গিয়েছিল ঢেউ
সেদিন আমার নয়নে এঁকেছিলাম ছবি
তুমি আর আমি ছাড়া দ্যাখেনি কেউ।

সেদিন প্রথম নিজেকে হারালাম আনমনে
মনের আকাশে উঠেছিল একফালি চাঁদ
সেদিন জোছনা মেখে নতুন পৃথিবী
কল্পনার ডানা মেলে উড়েছিল অবাধ।

সেদিন নিজেকে হারিয়ে ভেবেছি মনে মনে
এ প্রহর থাক না চিরকাল চির অমরত্ব নিয়ে
যত ভাবি আজ আমি হারাই নিজে মনে মনে
শুধু বেঁচে থাকি সুধাময় স্মৃতি বেয়ে বেয়ে।

Sunday, September 14, 2025

পণ -- দুর্গা শংকর দাশ

পণ
দুর্গা শংকর দাশ
১৪,০৯,২০২৫
এসো আর্তের বুকে ভরসা জোগাব
কাব্য,  কবিতা দিয়ে।
আসাধুর বুকে ত্রাস এনে দেবো
এ হাতে কলম নিয়ে।।

 সমাজের বুকে ফেরাতে শান্তি
লিখে যাব আজীবন।
অন্যায় দেখে প্রতিবাদী হবো
জীবনে করবো পণ।।

প্রতিকার যদি না হয় আজকে 
কাল হবে ঠিক জানি।
অস্ত্র হারলে কলম হারেনা
সেকথা ভীষণ মানি।।

বন্ধু তোমরা যারা লেখ রোজ
সৃষ্টিকে ভালোবেসে।
সমাজের বুকে যত অনাচার
লিখ ফেল অবশেষে।।

তোমাদের লেখা ঝরাবে আগুন
শান্ত তরুণ বুকে।
তারাই করবে সব প্রতিকার
বাঁচবে মানুষ সুখে।।

কেউ চিনতে পারলো না -- পরেশ চন্দ্র সরকার

কেউ_চিনতে_পারলো_না
পরেশ_চন্দ্র_সরকার
১৪_০৯_২০২৫
দু'চোখ স্থির লক্ষ্যে হা ক'রে তাকিয়ে থেকেও
গহিন ভাবনাতে অনেককিছুই খেলানো যায়,
মনন কোণে পাশাপাশি উপর-নিচ এঁকে এঁকে
সমাধান সূত্র ধ'রে আবিষ্কার, যায় না বৃথায়।

তোমায় দিনরাত চব্বিশঘন্টা পর্যবেক্ষণ ক'রি
মর্মে মর্মে গহিনেও ম'রি তবু বুঝতে না পারি,
অনেক চেষ্টা ক'রেও যে, কোনো সমাধান সূত্র
আবিষ্কার ক'রতে না পেরে টেনে দিই দাঁড়ি।

ক্লান্ত হ'ই না আমি, চূড়ান্তে অভ্যস্ত হ'য়ে গেছি
তোমার আনাচকানাচ যে, তন্নতন্ন নখদর্পণে,
তারপরেও সমাধান আঁকতে আমি পুরো ব্যর্থ
নিজেকে প্রশ্ন ক'রি কি মোর সে দিব্যদর্শনে?

আমি ভুলে যাই মাঝে, ভুলে যাই, 'প্রবাদবাক্য'
স্বয়ং নারায়ণ-ও নাকি, চিনতে পারেনি নারী!
তবে, আমি কোন্ হরিদাস, চিনবো পুরোপুরি?
নারী চিনে যাওয়া ব'লাটাই একটু বাড়াবাড়ি।


Saturday, September 13, 2025

পানসি -- শিপ্রা বসাক

পানসি 
শিপ্রা বসাক 
১৩/০৯/২০২৫
আকাশ যদি স্তব্ধ থাকে , নদীর তাতে কি ?
নদী চলে কলকলিয়ে , আকাশ স্থিতধী ।
আকাশ কেমন মৌন মুখে , মেঘের পরে মেঘ 
নদীর গতি ছলাৎ ছলাৎ , দুরন্ত আবেগ ।
মেঘ চলে যায় উড়ে উড়ে আকাশের বুক খালি 
নদীর ঢেউ ভাঙ্গন ধরা তটিনী রুদালী ।

আকাশ সে তো অনেক উঁচু , কেমন করে ছুই
নদী চায় তোর বন্ধু হতে , বন্ধু হবি তুই ?
কেমন করে বন্ধু হব , আমার যে ঘর নেই 
মেঘের রঙে রাঙিয়ে উঠি হারায় মেঘেতেই ।

তবুও যখন ঝড় উঠলো আকাশের মন ভার 
অন্তিম ক্ষণ আসলো বুঝি , মেঘ হলো দুর্বার ।
আকাশ ভেঙে মেঘের কনা নদীর বুকে পড়ে ,
নদীর হৃদয় উথাল পাথাল , অঙ্গে খুশি ঝরে ।

এমন করে দুজনে মেলে -- নদী এবং মেঘ 
আকাশ থাকে নীরবে চেয়ে , নেই কোন আবেগ ।
আপন বেগে এগিয়ে চলে নদী যে উচ্ছ্বল 
হঠাৎ পাড়ে ডাকলো তারে আকাশ বিহ্বল ।

ওই তো দূরে আকাশ এখন নদীর বুকে সাজে 
কি অপরূপ নববধুঁ নদী , আনত রাঙা লাজে ।
এই প্রেম তার চির দুর্বার জন্ম জন্ম ধরে 
আকাশ নদী এক হলো শেষে মেঘের পানসি চড়ে ।

Tuesday, September 9, 2025

ভালো আছি -- রায় শর্মা

ভালো আছি 
রায় শর্মা
৮◆৯◆২০২৫
ভালো আছি সব হারিয়ে 
একলা জীবন নিয়ে
বুকের মাঝে খালি লাগে
উজাড় করে দিয়ে।

ভালোবাসার বাঁধন ছিড়ে 
মুক্তি নিলাম  নিজে
তবুও আবার দুঃখ জাগে
চোখের জলে ভিজে।

কখন যেন বেতাল লাগে
সুর তাল আর লয়ে 
ছন্দ কাটে জীবন চলার
একলা জাগি ভয়ে।

তবুও ভাবি ভালই আছি
অশান্তি নেই প্রাণে
সব হারিয়েও খুঁজে ফিরি
ভালোবাসার মানে।

ভালোবাসা সবার বড়ো 
বুঝি জীবন শেষে
তাইতো খুঁজি ভালোবাসা 
সব পেয়েছির দেশে।

আমি নামব স্যার! -- ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ

আমি নামব,স্যার!
ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ 
০৯.৯.২০২৫
অ্যাই,বোকা মেয়ে
তুই কাঁদছিস কেন? 

আমি নামব,স্যার! 

আজই তো স*র*কারি নিয়মে
ফেল্ গঙ্গায় ফেলে 
সবাই পাশ করে 
সটান উঠে গেলি 
উঁচু ক্লাস নাইনে! 

আমি নামব,স্যার!

ও,তোর বুঝি পায়ে ব্যথা? 
চিন্তা নেই, 
আমি তোকে সাবধানে
নিয়ে যাব ওপরতলায় 

আমি নামব,স্যার!

তুই তো দেখছি সত্যিই গবেট ! 
দেখছিস না এখন গটগট করে 
সিঁড়ির পর সিঁড়ি ডিঙিয়ে 
একে মাড়িয়ে ওকে ফেলে দিয়ে 
কেমন পটাপট উঠছে সবাই ওপরতলায়!

পাতি একতলা উঠছে দুদ্দাড় 
রাতারাতি দোতলায়; 
খেলার ঘরের মতো খোলার ঘর
জাদুমন্তরে
এক লাফে উঠে যায় চোদ্দতলায়!
আদার ব্যাপারিও উঠে যায় 
নিজের বান্ধবীর জাহাজে জমা করা 
টাকার পাহাড়ের চূড়ায়!

আমি নামব,স্যার!

কোথায়? 

এইট,সেভেন,সিক্স কিংবা ওয়ানে, 
আপনার যেখানে মন চায়!

কেন? 

স্যার!
নাইনে উঠলে
মিড ডে মীল যে বন্ধ হয়ে যায় 

একটি অসহায় ফোঁপানি
নিমেষে পৌঁছে যায়
হাস্যমুখর পাহাড় থেকে 
লাস্যমধুর
সাগরের দিশায়...

আকাশে বাতাসে 
উন্মত্তের মতো প্রতিধ্বনি ফেরে,
আমি নামব, নামব,নামব,নামব স্যার!

ওঠানোর নামে মানুষকে 
কত আর টেনেহিঁচড়ে 
নীচে,আরো নীচে নামানো যায়?

মায়া-- শিপ্রা বসাক

মায়া
শিপ্রা বসাক 
০৮/০৯/২০২৫
দাঁড়ভাঙা নৌকো আর বিষন্ন বিকেল --
তটে বাঁধা পড়ে আছে একা ---
আর হবেনা খেলা জোয়ার ভাটায় 
মায়াতরী ছুঁয়ে গেছে সম্পর্কের ক্ষীণরেখা ।

ছুঁয়ে যায় , সরে যায় , উদভ্রান্ত চেতনা 
শুধুই অপেক্ষা যেন পাহাড় সমান --
অবাধ অশ্রুজল ঝাপটা মারে 
ছুঁতে চায় বুঝি তার হারানো জীবন ।

না বলা কথা কত , না বলা কাজ 
গুরুভার বয়ে চলা উদ্ভ্রান্ত সময় 
কার ওপর ভরসা করি , কাকে বলি সব 
অন্ধকার কালো রাত , কত তারাময় 

কোন তারায় তোমায় পাবো , কোন তারায় আলো 
কোন তারা সত্ত্বা জুড়ে মায়া ছড়ালো 
তারা তো চেনাওনি তবু তারাদের দেশে 
এখনো কি তারা হয়ে আছো ভালোবেসে ? 

আবার ফিরবে তুমি পুনর্জন্ম নিয়ে 
আবার ছোট্ট খোকা আঙিনা জুড়ে 
কষ্টিপাথরে গড়া অবয়ব খানি 
চোখে ভাসে , মনে আসে , শুধু ঘুরে ফিরে ।

পুড়ছে দেশ - অরুণ কুমার মহাপাত্র

পুড়ছে দেশ
অরুণ কুমার মহাপাত্র
 ০৯/০৯/২০২৫
দেশ এখন ছোঁয়াচে জ্বরে পুড়ছে...
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত জেনেও রাজপথে 
মিছিল বেরিয়েছে...
দেশ পুড়ছে তবুও অশুভ শক্তির 
আস্ফালনে কিছু লোক হাততালি দিচ্ছে...
আপন সত্বা হারিয়ে সম্মোহনী আদেশ 
মেনে হাঁটছে ওরা...
ওদের চোখে সাত রঙের ইন্দ্রধনু... ।
সারা গায়ে শ্যাওলার কারুকাজ  ।
সঙ্গ সাধনায় মেতে আছে ওরা...
শেকড়ে ফেরার প্রতিধ্বনি ছোঁয়নি ওদের ,
রক্তাক্ত হৃদয় নিয়ে হাঁটছে তবু...
মন খারাপীর বিজ্ঞাপন যতই হোক জারি ,
ছত্রাকারে ছড়িয়ে পড়ুক যতই সে ভিড়...
আজ না হয় কাল পায়ে পায়ে হারিয়ে যাবে মিছিলের সব মুখ
শোষক বদলে যায় বদলায় না
শোষনের ফাঁদ...
থেকে যায় গৃহহীন , বস্ত্রহীন ক্ষুধার্ত 
সব প্রাণ....  ।

Sunday, September 7, 2025

জব্দ মারণ খেলায় -- রামকৃষ্ণ পাল

জব্দ মারণ খেলায়
রামকৃষ্ণ পাল 
০৭/০৯/২৫
সকাল ভোর রাত নিত্য নতুন খেলা 
অদ্ভুত মায়া জালে জড়িয়ে,
নবযৌবনের স্বপ্ন ভাঙ্গার নতুন ছল 
সম্মোহনীর সুরে সুর ধরিয়ে। 

আমজনতা নীরব দর্শক দিচ্ছে তালি 
মাখন-ক্ষীর খাব হাত চেটে,
ঘরে বাইরের এই, নিত্য নতুন খেলা 
তালগোল করে, ঘ-তে ঘেঁটে।

শৈশব মরছে মোবাইলে থেকে থেকে 
রাস্তাঘাট ,পথের ধার দেখে,
নিত্য নতুন ঐ খেলায় মাতছে তারা 
নিজেকে স্বপ্নপুরীতে রেখে।

আধুনিক জীবন পরাধীন আজকেও
মিথ্যাচার চলছে সমান তালে,
নিত্য খেলায় জীবন শিকলে জড়িয়ে 
শৈশব ,যৌবন বন্ধনীতে হালে। 

খেলাচ্ছে কেউ, খেলছি  উল্টোপাল্টা 
মাকড়সার জালেই জড়িয়ে,
প্রাণ ওষ্ঠাগত,শিকার মারণ খেলায় 
কেউ বা উঠছে তরতরিয়ে ।

আমি পরাজিত প্রহরী -- ড. বিষ্ণু প্রসাদ সিংহ

 আমি পরাজিত প্রহরী
 ড. বিষ্ণু প্রসাদ সিংহ 
 ০৭/০৯/২০২৫
ভগ্ন দণ্ডে প্রহরারত, আমি স্থির বিনয়াবনত,
রক্ষিব মোর সাম্রাজ্য, করি যে প্রয়াস কত?
আমি জয় নাহি চাহি, পরাজয়ে ভয় করি,
তাইতো বক্ষে অসীম সাহস অনায়াসে ধরি।

নাহি রাখি ক্ষুদ্র লিপ্সা, পাই কাহারে তুষিয়া,
সন্তর্পনে চলিতে চাহি আহমিকারে নাশিয়া।
শোষিব যে ছল চাতুরীতে, কভু নাহি ভাবি,
কোন গুণে লোকে মোর আঁকিবে যে ছবি?

ভোর হতে নিশা রাত্রি দোয়ারে দাঁড়িয়ে থাকি,
শৈত্যে কম্পে কায়া, উষ্ণে তনু গর্মেতে মাখি।
ক্লান্তি কি? নই জ্ঞাত! সুখে দুঃখে সদা স্নাত,
কর্তব্য সাধনে চলেছি, নত মস্তকে অবিরত!

ঝটিকা ঝঞ্জায় শুধু ম্লান মুখে চেয়ে রহি,
শতেক আপদা তবু নিঃশব্দে সহসা সহি।
রৌদ্র-বৃষ্টি সম মোর তরে, এই সৃষ্টি পরে,
তবে কভু নাহি কাঁপে মোর দেহ থরথরে!

পালিব মোর লোকধর্ম, নাহি জানি তার মর্ম,
রহিব দাঁড়িয়ে দ্বারে অহর্নিশ তাহা মোর কর্ম।
প্রহরীর কাজ যাহা, প্রাণপণে গোপনে আচরি,
জানি শত প্রয়াসেও হব আমি পরাজিত প্রহরী!

চোখ দিয়ে চেনা -- দিলীপ ঘোষ

চোখ দিয়ে চেনা
দিলীপ ঘোষ
০৬/০৯/২৫
লোকটার সঙ্গে দেখা রাস্তায়
জাত চেনালো চোখের লাল ভাষা
কান দুটো তার প্রথম থেকে বন্ধ
কাটা ঠোঁটের স্বরলিপিতে নেই কোন ছন্দ। 

কন্ঠস্বরের হড়কা বানে বাঁধ ভাঙে
নষ্ট হয় ফসল, নষ্ট হয় বীজতলা
কচুরি পানাগুলো ভেসে যায় ঢেউ-এ
জনবসতিহীন হয়ে যায় মনের পাড়া। 

হাঁটার সময় কাচা দিয়ে কাপড় পরে
বাতাস ঘুসি পাকায় প্রতিরোধে
চুলগুলো খাড়া হয়ে দাঁড়ায় মাথায়
কপালে শিরা ফোলে ক্ষোভে। 

চোখ দিয়ে চেনা, অনেকটাই অচেনা
আচরণে চেনা, প্রকৃত চেনা।

Saturday, September 6, 2025

পার্বতী -- শিপ্রা বসাক

পার্বনী
শিপ্রা বসাক 
০৬/০৯/২০২৫
আকাশ এমন মেঘলা থাকুক বৃষ্টি ঝরে পড়ুক 
কালের নিয়মে অকালবোধন যেমন চলে চলুক ।
বৃষ্টি -- সে তো হৃদয় নিংড়ানো মেঘের দীর্ঘশ্বাস 
গুমোট গরমে তাপপ্রবাহে ধরনীর আশ্বাস 
বৃষ্টি কখনো মেঘ বালিকার উচ্ছল যৌবন 
কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আত্মসমর্পণ ।

বৃষ্টি নামে চোখের কোনে দুঃখ নদীহারা 
কেমন করে ফেরাই তাদের ফেরে না আর যারা।
নীল আকাশে ভেসে তারা কোন দেশে দেয় পাড়ি
কোথায় তাদের চলার উঠোন , কোথায় তাদের বাড়ি ।
কোন বেতারে শব্দ তোলে সুরেলা সেই গান 
একের পরে দুই আসে আর মনখানা খান খান।

দুই অসমান মনের দ্বন্দ্ব দুই দিকে তার কালো
দুদিক তবু মুক্ত জেনো , দুদিক ঘিরে আলো ।
মধ্যিখানে কার দুটি চোখ উদাস ছলছল
চিকচিকচিক বালুকাবেলা ,  করুণ , টলমল।
সব দ্বন্দ্ব সব শক্তি একদিনে অবসান 
মুষলধারে বৃষ্টি নামে জীবনের জয়গান।

Thursday, September 4, 2025

শিক্ষা গুরু -- বিশ্বরূপ নন্দী

শিক্ষা গুরু
বিশ্বরূপ নন্দী
০৪/০৯/২০২৫
 গুরু তুমি দীপশিখা, আঁধারে দাও আলো,
 জ্ঞানের ধারা বইয়ে দাও, মুছে দাও সব কালো।
পথের দিশা হারালে যখন মন হয় বিভ্রান্ত,
 তোমার বাণী শোনামাত্র হয় সবকিছু শান্ত।

 তুমি গড়ো চরিত্র খানি, সৎপথের দিশা,
 হৃদয় ভরে শেখাও সবার মানবতার শিক্ষা।
 অজ্ঞানতার আঁধার ভেদে আনো সত্যের আলো,
 ন্যায়-অন্যায় বুঝতে শিখি, করি পাপের দণ্ড খালো।

 ছোট্ট বীজে রোপণ করো আশার ফলবান,
 শূন্য মনে জাগাও তখন জ্ঞানের দিগন্ত গান।
গুরু তুমি শক্তির উৎস, প্রেরণার ধারা,
 ভুলে গেলে আবার শেখাও জীবনের সঠিক ধারা।

 ঝড়ঝাপটা এলে সাথী, দাঁড়াও তুমি দৃঢ়,
 তোমার কাছে শিখি আমরা সহিষ্ণুতা নিঃশব্দ।
 দয়া-ধর্মে বেঁধে দাও সব হৃদয়ের সুর,
 ন্যায়ে-অন্যায়ে পার্থক্য করতে করো কেবল গুরু।

 সোনার দেশ গড়ার তরে জাগাও সাহস ভেতরে,
আঁধার পেরিয়ে আলোর পথে দাও সঠিক রত্নঘরে।
বিনয়, প্রেম, সত্যবাদিতা শেখাও জীবনে,
 সততার এই মহামন্ত্র বাজে প্রতিদিন মনে।

 গুরু তুমি পথপ্রদর্শক, জীবন নাও সাজিয়ে,                                                                                                                                                                                                                                                                                      হৃদয়ে দাও আলোর দিশা, অশুভ ত্যাগ করিয়ে।
প্রণাম নাও গুরুজন, শ্রদ্ধা ভরা প্রাণে,
 শিক্ষা তোমার চিরস্মরণ, থাকুক আজীবনে।

Tuesday, September 2, 2025

"তোরা কিন্তু কিছুই দেখিসনি..." -- ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ

"তোরা কিন্তু কিছুই দেখিসনি..." 
ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ
০১.৯.২০২৫
রাত নেমেছে মফস্বল শহরে 
হামাগুড়ি দিয়ে, 
এসেছে যথাসম্ভব আলোকে লুকিয়ে 
নিশিকুটুম্বের মতো পেশাদারী প্রতিভায় 
মানুষের নিরেট নির্লিপ্তির সিঁধ কেটে;
ইস্কুলবাড়িটা যেন বোবা কালা অথর্বের মতো 
থম মেরে লুকিয়ে রেখেছে নিজেকে 
অন্ধকারের মোটা চাদরের নীচে 

ইস্কুলের গেট পাহারা দেয় 
একটা নির্বান্ধব দপদপে টিউব মান্ধাতার :
যত না আলো দেয়,
তার থেকে বহুগুণ বেশি
বাড়ায় অন্ধকার! 

কে আসে এই অপ্রাকৃত হিমঝরা রাতে
নির্জন ইস্কুলের প্রেতপুরী থেকে 
প্রবেশপথের দিকে?
কেন এক সন্দেহজনক বস্তার ভারে
তার কাঁধ যায় প্রায় মাটিতে ঝুঁকে? 
কেনই বা প্রবল অস্থিরতা সতত সঞ্চরমান 
তার ঘেমো চোখে মুখে? 

নিরীহ গেটের অনুগত
এবড়ো খেবড়ো  সিঁড়িরও ছিল 
অবাধ্য কৌতূহল:
তস্করের মতো ক্ষিপ্র পায়ে
আগন্তুক যেই বেরোতে যায়, 
সিঁড়ির ধাপ কেন যে হঠাৎ 
ঈষৎ পিঠ ওঠায় 
তার চাঁদমুখ দেখার উদগ্র বাসনায়! 
রহস্যময় আগন্তুক 
পা ফসকায় সহসা! 

গেটের সামনে চার পড়ুয়া 
রোজকার মত গল্পে বিভোর! 
রাত তো সদ্যযৌবনা:
তাড়া ছিল না ফেরার! 

হঠাৎই আহাম্মক সিঁড়ির দোষে
আগন্তুক পথের ধুলো নেয় চেটে---
রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে বস্তায় মোড়া 
তার যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা!

বন্ধ্যা সন্ধ্যায় হলো উন্মোচিত 
এক ব্ল্যাকবোর্ডের 
কুপিয়ে কাটা হাত পা! 
তখনও গড়ায় তার রক্ত টাটকা... 

আগন্তুক যেন মাটি ফুঁড়ে ওঠে অকস্মাৎ! 
চার কিশোর আতঙ্কে ককিয়ে উঠে
বলে তৎক্ষণাৎ 
"মাস্টার মশাই আপনি?" 

"চোপ্!" 
হিসহিসিয়ে বলে আগন্তুক, 
হাতে ধরা তার
এক রক্তমোছা ডাস্টার, 
"...তোরা কিন্তু কিছুই দেখিসনি আজ, 
কি ল্ ই  য়া  র?"

কবির কলম -- সুমন

কবির কলম 
সুমন
০১.০৯.২০২৫
কবির কলম ঝলসে উঠুক 
নতুন সমাজ গড়তে ধরায়,
কবির কলমে লিখিত বার্তায় 
জঞ্জাল সাফাই করতে শেখায়।

কবির কলম জাগিয়ে তুলুক
পবিত্র প্রেমের অমর কাহিনী,
কবির কলমে চাগিয়ে উঠুক 
সমাজ গঠনে আদর্শ বাহিনী।

কবির কলম নির্ভীক যখন 
ডরায় বেবাক লুটেরা শাসক,
কবির কলমে পালিয়ে বেড়ায়
নিষ্ঠুর পাষাণ দানব ধর্ষক।

কবির কলম আজিও সদাই
আঁকছে সবুজ সমাজ দর্শন,
কবির কলম কথায় সাজানো 
গড়ার মন্ত্রণা নিষ্পাপ জীবন।

কবির কলমে অতীত চলতি 
সাজানো গহীন মনের উদ্যান,
কবির কলম আঁকতে শেখায়
শিল্পীর তুলিতে রঙিন সটান।

কবির কলম সত্যের সন্ধানে 
ছুটছে ফীদিন দিবস রজনী,
কবির কলমে দেখবো পৃথিবী
পেরিয়ে মনের আঁধার তরনী।

পরোক্ষে আলোচনায় রাখি -- পরেশ চন্দ্র সরকার

পরোক্ষে আলোচনায় রাখি
পরেশ চন্দ্র সরকার
০২/০৯/২০২৫
অবশেষে...
অবশেষে অনেককিছুই হ'তে পারে
ভালো বা মন্দ, সুদিন কিংবা দুর্দিন ইত্যাদি ইত্যাদি
ভালো হ'লে ভালো, মন্দ হ'লে মন্দ
সুদিন হ'লে আরও ভালো, দুর্দিন হ'লে হা-হুতাশ।

ভালো মন্দ, সুদিন দুর্দিন এনারা প্রত্যেকেই
ওতপ্রোতে জড়িত, পর্যায়ক্রমে হাঁটেন,
মন্দ আর দুর্দিন অনুভবে এনাদেরকে আমরা
মনে হয় বেশি সময় পেয়ে থাকি
ভালো কিংবা সুদিন কেমন যেন দিয়ে যায় ফাঁকি।

এভাবেই আমরণ কাটবে জীবন, কাটেও।
আশার শেষ নেই
আমরা, ওতপ্রোতে জড়িয়ে যাপন
একদমই পছন্দ ক'রি না
ভালোকে ভালোবাসি না, সুদিনকে পাত্তা দিই না
পরোক্ষে মন্দ আর দুর্দিনকেই আলোচনায় রাখি।

Monday, September 1, 2025

প্রেমের রূপ -- মোঃ সম্রাট প্রধান

 প্রেমের রূপ
 মোঃ সম্রাট প্রধান 
 ৩১/০৮/২০২৫ ইং 
এই যে তুমি খোলা চুলে ,
স্বপ্ন দিয়ে আলো ছুঁয়ে দিলে ।
ফুলগুলো সব কুড়িয়ে নিলে ,
বুকে ঝরানো আঁচল দিয়ে ।

ডাগর চোখে লাজুক ঠোঁটে ,
কুয়াশা যাচ্ছে তোমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে ।
বসন্তের আগমনী ডাকে ,
তোমার খোলা চুলে ফুল ঝরে শিউলি সুবাস ।

আমি দেখি নয়ন ভরে ,
তুমি হাসও অদ্ভুত এক মিষ্টি সুরে ।
শুনলে মনে হয় ময়ূর নৃত্য ,
প্রেমের সুরে তুমি আমি করি অন্ধ যুদ্ধ ।

এই যুদ্ধের নেই পরাজয় ,
পরস্পরকে জয় করিতে লড়তে হয় ।
এমন ভালোবাসা চিরকাল অক্ষয় হয় ,
ইতিহাস তারই সাক্ষী রয় ।

ফিরে এসো বনলতা -- নিশিকান্ত মেটে

ফিরে এসো বনলতা 
নিশিকান্ত মেটে 
১-৯-২০২৫
ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা, আমার জন্য নয়, 
ফিরে এসো আইস কুইন হয়ে, 
উষ্ণায়নের হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো অমৃত নির্ঝরিনী হয়ে,
খরার হাত থেকে চির সবুজকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো পবন নন্দিনী হয়ে,
বায়ু দূষণের হাত থেকে এই পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো পরমেশ্বরী হয়ে,
দুই মেরুর বরফ গলা জলে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে 
এই নাবালক পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো বনস্পতি হয়ে,
প্রাকৃতি সৌন্দর্যের বুক থেকে ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া পশুপক্ষীকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো তেজোদ্দীপ্তি চোখ হয়ে,
কুয়াশার কুজ্ঝটিকা ভেদ করে মানবতার শত্রু জঙ্গল দস্যুদের পুড়িয়ে মারার জন্যে।


আলোর খোঁজ করি না কেউ আমরা -- অরুণ কুমার মহাপাত্র

আলোর খোঁজ করি না কেউ আমরা
অরুণ কুমার মহাপাত্র 
 ৩১/০৮/২০২৫
এক একটি বিশ্বাস কে আঁকড়ে ধরে
হেঁটে চলি অন্ধকার পথে...
দেখি এই বিশ্বাস গুলো কখন যে সংস্কারের 
জালে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে
বুঝতে ও পারিনি...  । 
তাই তো এখন শুধুই আলোর খোঁজ  । 
ঈশ্বর কে চোখে দেখিনি কখনো  । 
তবে মানুষকে ঈশ্বর হতে দেখেছি  । 
তবুও পাথরের পায়ে মাথা কুটে ঈশ্বর
খুঁজেছি...  । 
পাইনি ঈশ্বর... জানি না ঈশ্বর কোথায়  ? 
তোমারই এ পৃথিবীতে মানুষকে আমি 
জানোয়ার হতে দেখেছি  । 
দেখেছি বৈষম্যের পৃথিবীতে নিরন্ন মানুষকে 
তোমার মন্দিরে থালা পেতে দাঁড়াতে  । 
তুমি তো পাথর তাই নীরব...  । 
ঈশ্বর বানিয়েছি আমরাই তোমাকে  । 

শুনেছি আমি সৃষ্টির ইতিহাস...  । 
চোখে দেখছি বিবর্তনের ধারায় আদিম মানুষ 
থেকে আজকের সভ্য মানুষকে...

হ্যাঁ  , সভ্য হয়েছি আমরা  । 
আর সভ্যতাকে বুকে ধরে তাইতো আজ 
আকাশচুম্বী অহঙ্কার আমাদের  । 
আর তাই অন্ধকার দূর করতে আলোর 
খোঁজ করি না কেউ আমরা...   । 


Friday, August 29, 2025

হে মহাপ্রাণ লহ হে প্রণাম -- মধুসূদন সূত্রধর

হে মহাপ্রাণ লহ হে প্রণাম 
মধুসূদন সূত্রধর 
২৯/৮/২০২৫
চির অম্লান হে মহাপ্রাণ 
হে মানবতার কবি 
তুমি আছ মোর হৃদয় মননে 
দেখি মোরে চেয়ে আঁখি খানি মেলে 
পারিনা ভুলিতে তোমারে থাকিতে 
দেখি চেয়ে মোর ছবি 
বরণীয় তুমি স্মরনীয় তুমি 
হে মহাপ্রাণ জানাই প্রণাম মোর তব 
চরণে।

অগ্নিবীণার ঝঙ্কার তুমি 
বিষের বাঁশরীর সুর 
তুমি মোর রক্ত লেখা 
পেয়েছি জীবনে হৃদয় মাঝারে 
ফুটিয়েছ তুমি মানবতা বৃক্ষে ফুল 
কে বলে তুমি চলে গেছ সব ছেড়ে বহু দূর 
হৃদয় বীণাতে পায় যে শুনিতে 
তোমার রাগিণী সুর 
তুমি বুলবুল সবার গো প্রিয় নজরুল।

তুমি অজেয় দুর্বার দূর্জয় 
তোমার গো হাতে বাঁশের বাঁশরী 
আর এক হাতে রণ তূর্য 
তুমি বিদ্রোহী তুমি প্রতিবাদ 
তুমি সংগ্রামী চেতনার গান 
তুমি রাজ টিকা, তুমি দীপ্ত সু বীর্য।

তুমি পূর্নিমার চাঁদ নীল যমুনার জল 
তুমি প্রেমের পূজারীর ফুল 
তুমি কোরান গীতা বাইবেল 
আল্লা কৃষ্ণ কালী মেহের বান 
তুমি প্রেমের তরণী স্বপ্নের বাঁশরী 
তুমি এক মহান প্রিয় কবি নজরুল।

নজরুল মানে এক সংগ্রামী বীর 
করা ভাঙার গান 
জেলে যেতে প্রস্তুত জান 
স্বাধীনতা মা কে করিতে মুক্তি 
তুমি সংগ্রামী চেতনার প্রাণ 
তুমি যে প্রেমের কবিতা শ্যামা সঙ্গীত 
কালী মায়ের চরণের জবা ফুল 
তুমি সত্য ন্যায় মানবতা বিবেক 
তুমি মহা প্রাণ প্রিয় কবি নজরুল।

আজি সেই দিন যেদিন তোমার প্রদীপ 
জ্বলিতে জ্বলিতে মোর নিভে যায় 
এসেছি ফিরিয়া মোর সেই দিন 
নয়ন সম্মুখে তোমারে যে নাহি পায় 
অন্তরে করিতেছ তুমি যে বিরাজ 
মোর দিবা নিশি দেখিতে যে পায়।

হে মহা প্রাণ লহ গো প্রণাম 
তোমায় আজিকে প্রণাম গো করি 
আজি দুর্দিনে দাও গো আসিস 
হৃদয় অন্তরে রাখি গো মোর ভরি।


Tuesday, August 26, 2025

অশ্রুত অনুরণন -- বিকাশ সাহা

অশ্রুত অনুরণন, 
বিকাশ সাহা
২৫-০৮-২৫
শূন্য আকাশে যখন নক্ষত্ররা ঝরে,
অদৃশ্য সুর ভেসে আসে নিঃশব্দ ভোরে।
বাতাসে মিশে থাকে গোপন ব্যথা,
যা কারো চোখে ধরা পড়ে না,
তবু হৃদয়ের গভীরে বাজে নিরন্তর।

পাতার কাঁপনে, নদীর ঢেউয়ে,
বৃষ্টির ফোঁটায় কিংবা শিশির ভেজা ভোরে
অশ্রুত সেই অনুরণন অলক্ষ্যে ছুঁয়ে যায় মন।

কখনও তা বীরের অশ্রু,
যুদ্ধক্ষেত্রে ঝরে পড়া রক্তের ফোঁটা,
কখনও তা প্রেমিকার নিঃশব্দ অপেক্ষা,
চোখের জলে ভিজে থাকা অপ্রকাশিত কবিতা।
শিশুর প্রথম কান্না, মায়ের অশ্রু লুকোনো হাসি,
সবেতেই লুকিয়ে থাকে সেই অশ্রুত বাণী।

মানুষের কোলাহলে হারিয়ে যায়
তবু সময়ের বুক চিরে বাজে ধ্বনি—
অতীতের, বর্তমানের,
এমনকি অনাগত ভবিষ্যতেরও।

অশ্রুত অনুরণন হল এক অনন্ত নদী,
যার উৎস হৃদয়ের অন্তঃস্থলে,
গন্তব্য মহাশূন্যের অসীম অন্ধকারে।
শোনে না সবাই, তবু যে শোনে—
সে খুঁজে পায় জীবনের সত্য,
মৃত্যুর পরম নীরবতাতেও
যে সুর বেঁচে থাকে।

আগুনের আঁচ-- ড. দেবাশিষ চ্যাটার্জী

 "আগুনের আঁচ"
 ড. দেবাশিষ চ্যাটার্জী
  25/08 /2025
মনের মধ্যে জ্বলছে আগুন 

অনাচারের বিষে 

এখনো সব নির্বিকার

আর জাগবে  কিসে?

দেখছি শুনছি সবই মানছি

বুজছি  সবটাই ভুল

তবু ও মুখে তালা চাবি

করছিনা কেউ  কবুল ।

ভাবছি বলে কি আর হবে

আমার কিসের ক্ষতি 

স্বার্থবানে জর্জরিত তাই 

এই সবে নেই মতি ।

এই তো বেশ ভালোই আছি 

চাটু করের পেশায়

খুঁটে  খেয়ে অভ্যস্ত  

অধিক পাওয়ার আশায় ।

ভালো থাকব ভালো রাখব

হচ্ছে কোথায় আর

সমাজ টা আজ রসাতলে

পায় না কেহ বিচার ।

মরছে মানুষ উড়চ্ছে ফানুস

ভিন্ন রঙের মেলায়

নেতা মন্ত্রী ঠান্ডা ঘরে

ব্যস্ত অর্থ খেলায় ।

ভাবছে দিন এমন যাবে 

সুখের ভেলায় ভেসে

শেষ এক দিন হতেই হবে

ঈশ্বর এর জাস্টিসে ।

Sunday, August 24, 2025

পারুলের স্বপ্ন -- পারমিতা চ্যাটার্জি

পারুলের স্বপ্ন
পারমিতা চ্যাটার্জি 
২৩/০৮/২৫
মোহন ঘরে ফিরে এসেছে  গিন্নি পারুল আর মেয়ে আলপনা দুজনেই দুরকম কাজে ব্যাস্ত পারুল নামিয়েছে
সবে এক কড়াই তরকারি লোটা মাছের সাথে আলু কুমড়ো  বেগুন দিয়ে পেঁয়াজ রসুন দিয়ে জমপেশ করে বানান খুব গন্ধ বেরিয়েছে। কিন্তু মোহনের মাছের সাথেলের শ অত তরকারি দিয়ে খেতে ভাল লাগেনা। অনেকদিন বউকে বলেছে এরকম করে করবিনা। 
আরে খেতে তো ভাল হয় আগুন বাঁচে মেয়েটাকে শহরে নিয়ে পড়াতে  তো খরচ আছে। পারুলের শখ মেয়েকে খুব শিক্ষিত করে তোলা। 
তারজন্য রোজ এই অখাদ্য খেতে মোটে ভালো লাগে না দুবেলাই এক তরকারি। আমিও তো খাটছি ভালমন্দ খাওয়া রোজ না হলেও মাসে একদিন তে খেতে পারি? 
আরে তোর মেয়ের পড়ার টাকার অভাব হবে না। রাতে মুরগী নিয়ে আসব ভাল করে রাঁধিস আর পাশের বাড়ির বকুল কে একটু দিয়ে আসিস। হ্যাঁ একবাটি তরকারি বকুলকে আমি রোজ দি,
তাইনাকি?  তাইজন্য একরান্না রোজ তা বেশ করেছিস তোর যে মনটা এত বড় তাতো জানতাম না। পারুল বলল, ভাবছি সামনের মাসে আলপনার সাথে বকুলকেও স্কুলে ভর্তি করে দেব,
হ্যাঁ দিস আজকাল মেয়েদের পড়াশোনা খুব দরকার। বিয়ের চেয়েও পড়াশোনার দরকার আরও বেশি। 
পারুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল অত ভাল করে মাধ্যমিক পাশ করলাম কেউ আমার পড়ার জন্য একটুও ভাবলনা।
উফ্ আবার ফ্যাচফ্যাচানি আরম্ভ হল।  তখন বাবা মা ছিল সামনে আমার বোনের বিয়ে ছিল কত খরচা করে বোনটার বিয়ে দিলাম তাও সামান্য রাখী কেনার অপরাধে বোনটাকে আমার মেরেই ফেলে দিল। দাদা দাদা করে পাগল ছিল মেয়েটা এখনও ওর মুখটা মনে পড়লে চোখের জল সামলাতে পারিনা। তখন তোর পড়াশোনা নিয়ে ভাববার মতন মন ছিল আমার। তোমার মায়ের শরীর খারাপ ছিল  বলে আমাকে তো অল্প বয়েসেই বিয়ে দিয়ে নিয়ে এসেছিলে তোমরা। হ্যাঁ তুই আর বনু একসাথে পড়তিস রাতের রান্না মা করতেন,
রাতের রান্না আর কি ছিল শুধু ভাত আর রুটি কখানা সকালেই তো আমি আর বনু সব করে রাখতাম। কাজ তো কম ছিলনা, 
থাক আর হিসাব দিতে হবেনা, 
আচ্ছা আমার বাবা মা তো প্রায় কিছুই দিতে পারেনি, 
আমরা তো চাইনি। আমরা বাপ বেটা ছিল যা আছে তাই  দিয়ে চলবে প্রাণপণ খেটে রোজকার করব কিন্তু চাইব কেন? 
আমার মা খালি কানের একজোরা দুল আর তোমাকে আংটি  আর সবাই  নাকফুল শেষকালে দিদি কেঁদে জামাইবাবুকে বলল, আমাকে মা হাতের গয়না দিয়েছিল আমার বোনটার হাত খালি থাকবে!  তখন প্রায় শেষমুহুর্তে জামাইবাবু দুটো পলারবালা নিয়ে এল আর মামারা ঘড়ার সাথে হলুদ তোলা শাড়ি তার সাথে আর একটা ভাল ঢাকাই শাড়ি একটা আমার হাতে আংটি দিয়েছিল, জামাই বরণ করেছিল রূপোর আঙটি দিয়ে,
আহা মানুষ আর কত দেবে?  অনেক দিয়েছে, 
তাই ভাবি তোমাদের এত উঁচু দরের মন আর তোমাদের বাড়ির মেয়েকেই এমন করে মেরে দিল, ছেড়ে দিলে শয়তানটাকে? ওর ফাঁসি হওয়া উচিৎ ছিল। লড়েছিলাম তো প্রাণপণ আমি আর বন্ধু পলাশ কিছুই করতে পারলাম না। যাক আমার মেয়েকে একেবারে বিএবিটি পাশ করিয়ে সরকারি স্কুলে পরীক্ষার বসাব একবার না হলে বারবার দেবে বিয়ের কথা ভাববোইনা। আর শক্ত করে তৈরি করবে গায়ে হাত তুলতে এলেই চেঁচামেচি হৈচৈ করে আর ওকে তো কুস্তি শিখিয়েছি ও ঠিক বেরিয়ে আসতে পারবে, 
আগে তো বিএটা পাশ দিক তারপরের কথা পরে আর এবারে যারা চাইবে সেরকম ঘরে বিয়ে দেবোই  না। 
মানুষ স্বপ্নের কাজল পড়তে ভালবাসে পারুলও স্বপ্ন দেখে তার মেয়ে স্কুলের দিদিমনি হবে একদিন  তারজন্য তাকে আরও পড়াতে হবে ওই যে দিদিমনি হতে গেলে যে ট্রেনিং লাগে সেই ট্রেনিং। যা তার নিজের একদিন  স্বপ্ন ছিল  হয়নি তার মেয়েকে সে সফল করবেই।  
মাঝে মাঝে উদাস হয়ে ভাবে আর তার মেয়ে কি তার স্বপ্ন সত্যি সফল করতে পারবে, ভাবতে ভাবতেই আবার
 মাংস রান্নায়  মন দিল। অনেক দিন পরে মাংস এনেছে রান্না খারাপ হলে রাগ করবে  মানুষ টা। 
শেষপর্যন্ত আলপনা  বি এ পাশ করল আর বকুলকেও পারুল  মাধ্যমিক পাশ করিয়ে ছাড়ল। ওর মা শহরে যায় 
বাবুদের বাড়ি রান্না করতে। কষ্টে শিষ্টে চলে যায়। 
পারুল আলপনার সাথে বকুলেরও একটা করে জামা করে। তবে এখন আলপনা হয় শাড়ি পড়ে নয়ত সালোয়ার কামিজ পরে। সালোয়ার কামিজই  বেশি পরে। 
বকুলের মা বলল দিদি বকুল কি আর পড়বে?  আমি তো যা রোজগার করি তাতে দুবেলা রান্না জ্বালানি কেরোসিন এসব কিনতেই চলে যায়।
তোমার খালি নেই নেই স্বভাব। আমরা তো দেখি  না না কি?  বকুলের  অত ভাল রেজাল্ট ও পড়বে না মানে?  ও কে পড়তেই হবে। আলপনার সাবজেক্ট ও নিক সব বই পেয়ে যাবে। 
শেষ পর্যন্ত  বকুল উচ্চমাধ্যমিকে আর আলপনা বিএডে ভর্তি হতে হল। 
ওরা দুজনেই দেখেছে ওদের পড়ানোর জন্য মা বছরে দুটোর বেশি কখনও শাড়ি কেনেনি ওদের কলেজ যেতে হত বলে পয়সা বাঁচিয়ে সালোয়ার-কামিজের সেট কিনে দিত। নিজের প্রচণ্ড ইচ্ছে সত্বেও কিছুই করতে পারলনা।
সেলাই করে রোজকার করত শেষপর্যন্ত একে ওকে ধরাধরি করে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি নিল সেই সাথে বাড়ির সামনে টা একটু ঘিরে নিয়ে সেলাইয়ের দোকান দিল। ব্লাউজ, সালোয়ার কামিজ , শাড়ির ফলস লাগান, মেয়েদের ফ্রক সেলাই করে মোটামুটি চালিয়ে নিত। মেয়েদুটো সময় মতন সেলাইয়ে মাকে সাহায্য করত। খাওয়াদাওয়ার একটু ভাল ব্যাবস্থা  করতে পেরেছিল পারুল। রাতের বেলায় শুতে এসে বর যখন গায়ে হাত বুলিয়ে  বলত সারাজীবন কষ্ট করেই গেলি, এখন মেয়ে দুটো  মানুষ হলে তোর স্বপ্ন পূরণ হয়। আমার দোকান থেকেও এখন আয় পয় ভালই হচ্ছে এবার থেকে নিজেও একটু ভালো করে খাবি শরীরটা ভেঙে যাচ্ছে তো! 
কিছু ভাঙছেনা তুমি অত চিন্তা কোর না তো। 
আলপনা অনেক দিন ধরে টিউশনের চেষ্টা  করছে পেয়েও গেল কলকাতার কাছেই একটা আর একটা নিজেদের গ্রামে। বকুল উচ্চমাধ্যমিকের সাথে সাথে নার্সিং ট্রেনিং নিতে শুরু  করল তার সাথে সাথে লোকের বাড়ি রক্ত নিতে যাওয়া চ্যানেল করা সেগুলো আবার ল্যাবে দিয়ে আসা আার রিপোর্ট নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া এই করে সেও রোজকার শুরু করল। আলপনা বাড়িতে আসার সময় চারজনের চারটে বড় কলা মাখন রুটি সব কিনে আনত। 
খাওয়া দাওয়া ভালোই চলছিল যতটা পুষ্টিকর খাওয়া বাবা মাকে দেওয়া যায় মেয়ে দুটো চেষ্টা করত। 
এইভাবেই দিন চলতে লাগল। আলপনা বুঝতে পারছিল অতিরিক্ত পরিশ্রমে মায়ের শরীর ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। 
সে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিল কিন্তু রেজাল্টের অপেক্ষা না করেই একটা প্রাইভেট স্কুলে ভাল মাইনের চাকরি  নিল। 
বকুলের মা শহরের কোন বাবুর সাথে থাকতে শুরু বকুলের নামে বাড়িটা লিখে দিল। 
বকুল রেগে গিয়ে বলল আমাকে তো চিরকাল তুমিই দেখেছ পারুল মা আজ থেকে  তুমি আমার শুধু মা।
পারুল তার ক্লান্ত দূর্বল  বুকে টেনে নিল। পারুল বকুলকে বলল তুই কতকিছু শিখছিস রে ভাল রোজকার করিস দেখবি পণের জন্যে যেন খুন হতে না হয়। 
বকুল নার্সিং ট্রেনিং থেকে শুরু করে ল্যাব টেকনিশিয়ান হয়ে উঠল। বড় সরকারি হাসপাতালে চাকরি  পেল। জোর করে পারুলকে বলল এবার সেলাই টেলাই বন্ধ কর তো অনেক হয়েছে আমি আর দিদি দুজনেই ভাল চাকরি করছি নাও ওই দুধটুকু খেয়ে নাও না খেয়ে শরীরের যা হাল বানিয়েছ। 
সেদিন সকাল থেকে আকাশটা মেঘলা মনে হচ্ছে যেন ভারি বৃষ্টি হবে, আলপনা খুব তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে ফিরছে হাতে তার সরকারি স্কুলের অফার লেটার  এই গ্রামেই পোস্টিং পেয়েছে খুব খুশি সে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছে, মায়ের চোখের নীচে গাঢ় কালি পড়েছে মনে হয় যেন স্বপ্নের কাজল পরে আছে। 
আলপনা দৌড়ে দৌড়ে এসে দেখল মা তার সেলাইয়ে ঘরে বসে বসেই যেন ঢলে পড়েছে, ওর পেছনে বকুলও এসে দাঁড়িয়েছে ওদের বাবাও যেন প্রাণপণে কান্না চাপার চেষ্টা করছে, বকুলের অভ্যস্ত চোখ সব বুজতে পারল কাছে এসে পারুলের মাথাটা বুকে টেনে নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, দিদি মা আর নেই রে মা আর নেই  
আলপনা তখন চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল মা তোমার স্বপ্ন যে সফল করলাম তুমি তোমার জন্য  কিছু করার সুযোগ দিলেনা চলে গেলে। 
পারুলের স্বপ্ন সফল হলে কিন্তু পারুল চলে গেল। পরিবারটা যেন স্তব্ধ হয়ে গেল।