Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Tuesday, May 26, 2026

ক্ষমা করো -- প্রণব চক্রবর্তী

ক্ষমা করো
প্রণব চক্রবর্তী 
২৬/৫/২৬
আমাকে ক্ষমা করো,
তিল তিল করে গড়ে উঠা প্রতিদিনের পাতা 
ক্ষয়িষ্ণু বিবর্ণ ভরা হতাশায়,
বেরঙ জীবনের বাঁচার প্রত্যাশা, 
ক্লান্ত বিধ্বস্থ মলিনতা'য় মাখা,
লড়াই করে চলেছো আজও 
সংগ্রামী জীবন, বাঁচার উত্তরণের পথে।

সরলতা ভরা গভীর দৃষ্টি এখন
শুধু সন্দেহের মেঘে ঢাকা,
কুয়াশা আচ্ছন্ন ভবিষ্যতের বিশ্বাস,
গড়ে তুলতে পারি নাই আমি গভীর আশ্বাস ,
তুলনার তুল্য মুল্য টানে একরাশ অবিশ্বাস, 
আমাকে স্থবির করেছে প্রতিদিনের পথে।
কেউ কি বলে দেবে বিশ্বাস কি? 
যে পিতা মাতার হাত ধরে জগতে আগমন 
যাঁদের ছত্র ছায়ায় পরিপুষ্ট অবয়ব, 
সময়ের কাল চক্রে, তারাও হারায় বিশ্বাস, 
দৈনন্দিন প্রাপ্তি দেখে লাভ আর লোকসান, 
সন্তান মানুষ করার আত্ম গরিমা,
স্নেহের বাঁধন ছিঁড়ে শুধু কর্তব্যের শিক্ষা দান,
ধীরে ধীরে পর হয় আপন আত্মীয় স্বজন।

জীবন তরী বাইব বলে, যার হাত ধরি 
আপন করে বুকে টেনে বিশ্বাসের ভিত গড়ি,
নব পত্র সম্ভারে ভরে উঠে জীবন বৃক্ষ 
এক দিন টের পাই, সেই বৃক্ষের মূল ছিঁড়ে গেছে, 
জোড়া তালি দিয়ে সে আজ শখের টবের গাছ, পাতা আছে, ফুল আছে 
দৃঢ়তা নাই মাটির সাথে,
সংসার আছে, মানুষ আছে, নাই শুধু শিকড়ের টান।

তোমার সব অপ্রাপ্তি গুলো আজ করে হাহাকার, 
না পাওয়ার বেদনা করেছো মুখ ভার,
হয়তো এটাই জীবন, 
মনের কপাট বন্ধ করে 
কাটাই সময়, ঘুম ভাঙ্গা ভোরে নবীন আলোতে ,
অথবা রাতজাগা আকাশের নির্মল বাতাসে,
একই ঘরে একই ছাদের নিচে, 
তুমি, আমি, সকলে, মনের যোজন তফাতে।
__________________

Sunday, May 24, 2026

স্তব্ধতার জ্যামিতি -- কাজল মুখোপাধ্যায়

স্তব্ধতার জ্যামিতি
কাজল মুখোপাধ্যায় 
১৭ ই মে,'২৬
​সব চুপ করে থাকাই পাথর হয়ে যাওয়া নয়,
নয় কোনো মেঘ-পাহাড়ের অহংকার।
কিছু নীরবতা আসলে এক মলাটহীন বই,
যার পাতায় পাতায় কেবল অপেক্ষার দাগ রয়ে গেছে।
​যেমন শরৎ শেষে মাঠের ফসল উঠে যাওয়ার পর
খালি জমিটা রোদের ভেতর চুপচাপ পড়ে থাকে,
সেখানে কোনো শূন্যতা থাকে না,
থাকে আগামী দিনে আবার সবুজ হয়ে ওঠার এক গভীর প্রতীক্ষা।

ঠিক তেমনি, কিছু মানুষ যখন ওষ্ঠাধর বন্ধ রাখে,
বুঝতে হবে তারা কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করছে না,
তারা আসলে সময়কে একটুখানি গুছিয়ে নিচ্ছে।
​যেমন করে একটা আহত পাখি ডানার ভেতর মুখ গোঁজে,
যেমন করে ঝড়ের আগে বাতাস হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়;
এই স্তব্ধতা কোনো অবহেলা বা দূরত্ব নয়।
এ হলো মাটির নিচে শিকড়ের সেই গোপন বোনা,
যা কোনো আওয়াজ না করে,
ধৈর্যের শেষ বিন্দু দিয়ে একটা আস্ত বসন্তকে ধরে রাখে।

কথা -- লক্ষ্মী কান্ত দাস

কথা 
লক্ষ্মী কান্ত দাস 
১৯.০৫.২০২৬
আমি জর্জরিত হাজার জ্বালায় ,
তুমি তো তাকে মূলধন করে 
সেজেছো রাজা
এই রাজনৈতিক পালায় ,
যেটা আমি আজও আদ্যোপান্ত মনে করি ,
সময়ের নিতান্ত অনাথ অদৃষ্ট নিজ হাতে চালায় ,
আমি কিন্তু তা সত্ত্বেও উৎসুক আপন প্রয়াসে ,
বদ্ধপরিকর ভাঙতে 
অচলায়তনের  শাশ্বত তালায় ।

হে প্রভু আমি যদি প্রকৃতই অসাধু হই ,
তবে তোমার যা শাস্তি দেওয়ার তাই তুমি দিও ,
তাতে আমি এতটুকু অসন্তুষ্ট নই ।
কিন্তু কালের অকারণ কারসাজি ,
কিংবা কোনও অপদার্থের স্বার্থ- নির্দিষ্ট ভোজবাজি ,
আমাকে অন্যায্য বিচলিত করে ,
ইচ্ছে হয় নিজের চিতার জ্বলন্ত কাঠ 
তুলে ,  আলো জ্বেলে দিই ,
ঘরে ঘরে ,
অদূরপনেয় অচেতন অন্ধকারে
তবে জেনো রেখো বন্ধু  , 
আজ থেকে আর জ্বলবে না আলো কোনও আমার চারপাশে 
অজস্র ঘরে ঘরে ।

বিদেহ সংহিতায়
আমি রচনা করি 
দাউ দাউ প্রজ্জ্বলিত চিতা ,
আমার সব অপরাধের বিচারক , 
তুমি কিছুক্ষণ নিরুত্তর থেকো হে বিশ্বপিতা ,
সবকিছু জেনে 
আমার আবেদন মেনে ।

ইচ্ছেপাখি -- হৃদয় রাজ বাড়ৈ

ইচ্ছেপাখি
হৃদয় রাজ বাড়ৈ 
২৪/০৫/২০২৬
মন ছুতে চায় দূর সীমানার নীল পাখিরা,
মন ডুবে যায় অস্ত রবির পাহাড়দ্বীপের মস্ত চূড়ায়।

মন মানে না মর্তলোকের মান রাগিণী
মন শোনে না সুপ্ত সুখের নীদ কাহিনি। 

মন আলাপন মধুর মিলন মত মিতালি,
মন কালাচাঁন কন্ঠ কূজন কলকাকলি। 

মন কোহিনূর কনকচাঁপার কন্ঠকলি,
মন সোহিনীর খোলা খোঁপার জুঁই চামেলি। 

মন বাগিচার বাগচি ডালার পুষ্পবেলি,
মন দোপাটি দোয়েল শ্যামা লাজুক লিলি।

মন কুহেলী কাঁকন নোলক কলসি হাঁড়ি, 
মন পহেলি আকন অলক আলসে ঘুড়ি।

মন পলাতক পলাশ ডাঙার গায়ের পথে, 
মন চড়েছে রাঙা ঘোড়ার পুষ্প রথে।

মন যে কোথায় ঘুরে বেড়ায়  ঘর ছেড়ে ঐ,
মনকে ছেড়ে বন্দী নীড়ে কেমনে যে রই।

মন আসে না আগের মতো কাছেতে আর,
মনের মানুষ মন সঁপে না, মন পাওয়া ভার।

মন বিলাসী মনের ভ্রোম আজ সব করে ক্ষয়,
মন হয়েছে ইচ্ছে পাখি আঁখির আকাশ করেছে জয়।

মন উড়েছে মোহ মায়ার মেদিনী ছেড়ে, 
মন পাখি আর ফেরেনি তার সাধের নীড়ে। 

মন গিয়েছে সঙ্গে তাহার সঙ্গী হয়ে, 
ইচ্ছে পাখি মিলছে ডানা মনটা লয়ে।

মন ভুলেছে মনের সকল পিছুটান আজ,
মন গগনে অস্ত রবি ঘনালো সাঁঝ।

মনের প্রতি তাই কোনো আর নেই অভিমান, 
ইচ্ছে পাখি মন খুলে গাঁক জীবনের গান।

বৃষ্টির প্রার্থনা -- দিলীপ ঘোষ

বৃষ্টির প্রার্থনা
দিলীপ ঘোষ
২৩/০৫/২৬
আকাশ-রানী ওড়না খুলে কথা বলুক
সময় সীমার বাঁধন ভেঙে গল্প জুড়ুক
অভিমানের ঝড়ো হাওয়া নৃত্য করুক মেঘের ঘরে
বৃষ্টি নুমুক ধরাতলে মুষলধারে। 

গোঁয়ারগোবিন্দ তাপের জ্বালায় জ্বলছি সবাই
মল্লযুদ্ধে হারের প্রকাশ ঘামে ঘামে
জল আর ছায়ার ভালোবাসায়
সময় কাটে জিব বের করা কড়া শাসনে। 

বৃষ্টি নামুক ধরাতলে মুষলধারে
ভিজিয়ে নেব আপন শরীর
বৃষ্টি-রানীর প্রেম আধারে
বঙ্গবাসী সব মানুষই বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে।

এসো এসো নজরুল -- দুর্গা শংকর দাস

এসো এসো নজরুল
দুর্গা শংকর দাস
২৪,০৫,২০২৬
আজকের এই অনাচারে ভরা
নিদারুণ দুর্দিনে,
তুমি এসে কবি মনের ভাঙাও ভুল।
এসো তুমি এসো বিদ্রোহ সাথে-
এসো এসো নজরুল।।

জাতপাত নিয়ে মরছে মানুষ
দাঙ্গায় আছে মেতে,
তুমি এসে কবি ওদের ভাঙাও ভুল।
এসো কবি তুমি প্রীতি নিয়ে সাথে
এসো এসো নজরুল।।

নকল কবিতে সমাজ ভরেছে
লিখে চলে হিজিবিজি,
তুমি এসে কবি ওদের ভাঙাও ভুল।
কাব্যের ধারা সাথে নিয়ে এসো
এসো এসো নজরুল।।

ক্ষয় রোগে আজ ভুগছে সমাজ
জীবন ওষ্ঠাগত,
মরণ খেলায় মানুষরা মশগুল।
ওদের বাঁচাতে,সমাজ সাজাতে
এসো এসো নজরুল।।

Friday, May 22, 2026

তপতী তোমাকে"-- আসমিরা খানম

"তপতী তোমাকে"
আসমিরা খানম 
বুধবার ২০/০৫/২০২৬ 
তপতী, তুমি তো সেই সূর্য-কন্যা, 
কখনও উদীয়মান সূর্য--- 
কখনও বৈশাখী ঝড়! 
দেশ কে নিয়ে যত ভাবনা 
নিরঙ্কুশ সেই ভালোবাসা, 
তুমি খরস্রোতস্বিনী-ভাসিনী 
কখনও তুমি অগ্নি কন্যা, 
তপতীর, অস্থির চিত্ত---- 
সারাদিন হয়ে আছো ভৃত্য, 
তপতীর, কপতী মন উড়ে যতক্ষণ! 
গগন ভেদী চিৎকার শুনতে কি পাও? 
তপতীরা,মরে না যুগে যুগে 
জন্ম হয় একজন। 
স্নিগ্ধ চেহারা চোখে মুখে অনুকম্পা, 
তপতী, তুমি অনির্বাণ, লেলিহান অগ্নি শিখা---- 
তুমি তো সেই অগ্নি কন্যা!! 

(ডালাস টেক্সাস থেকে)

উচ্ছেদ -- বনানী সাহা

উচ্ছেদ 
বনানী সাহা
 ২১-০৫-২০২৬
ঘিঞ্জি বস্তি ;কতো জীবন বাঁচে সেথা ----
দারিদ্র, রোগ ,অনাহারের সাথে লড়াই করে শহরের অগোচরে ---
দিনের আলোয় আর  রাতের অন্ধকারে ।

ঠাণ্ডা ঘরে ,ঠান্ডা মাথায় টেবিলের ওপর কতো প্ল্যান-- আর মিটিং চলে,
রাখা যাবে না ওদের ।
শহরটা তৈরি হবে নতুন করে !

বাধা, সেই ওরা;
বস্তিতে থাকে যারা।
কিংবা ফুটপাতে বসে, পেটের দায়ে জীবন চলে--
কিছু কেনাবেচা করে।

জঞ্জাল সব।
সাফ করতে হবে ওদের ,সব।
না হলে কি করে বাড়ে শহরের গৌরব?
তাই উচ্ছেদ!

উচ্ছেদ টা খুব জরুরী--  
বিনা নোটিশে কিংবা ভুয়ো নোটিশ দিয়ে।
কে বুঝবে ? কে জানবে?
সবই টাকার খেলা। 
টাকায় সব হার মানবে।

উচ্ছেদ চলে--  শত শত বুলডোজার দিয়ে ।
জঞ্জাল সাফ হবে এবার।
শহরটা তৈরি হবে নতুন করে !

ছোটখাটো বাক্স প্যাঁটরা; রান্নার সরঞ্জাম যত, 
চারটি কাঁচা দেয়াল, ফুটো চালা সব , সব  ভেঙে পড়ে নিমেশে ---
রান্না বসানো উনুন ভেঙে দেয়। 
ওরা দেখে অবাক চোখে!

খিদের জ্বালায় জ্বলছিল ছোট পেটগুলো ----
বলছিল , " মা , ভাত দাও।"
বুলডোজার সেই উনুন গুড়িয়ে দিল ।
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে জ্বলন্ত পেটের ওপরে;
তবু তো শীতল হয় না !

শত শত ,হাজার হাজার মানুষ দিশে হারা ---
কোথায় যাবে? কোন আশ্রয়ে ,নতুন করে বাসা বাঁধবে ওরা!
ঐ ভাঙাচোরা ঘর আর উল্টোপাল্টা সব জিনিসের ভীড়ে---
 কতো কষ্ট, নিজের জিনিসগুলো চিনে নেওয়া।

তার পর ? তারপর, নতুন ঠিকানার খোঁজে বেড়িয়ে পড়া---
যেখান থেকে আর উচ্ছেদ হবে না ওরা!


খোঁজ -- প্রণব চক্রবর্তী

খোঁজ
প্রণব চক্রবর্তী 
২২/৫/২৬
তোমারই অপেক্ষায়, জন্ম থেকে জন্মান্তর 
বহু মানবীর কোলে জন্মেছি বহুবার,
বহু মানবের ভালোবাসা পেয়েছি অফুরন্ত,
বহু লোকের হিংসায় হয়েছি বিদীর্ণ,
লোকান্তরে পাড়ে, সবই স্মৃতিভ্রংশ,
শুধু সন্ধান থেমে নেই অতীত থেকে বর্তমান।

নিজেকে জিজ্ঞাসা করেছি বহুবার 
কেন এই আসা আর যাওয়া, 
কোন অদৃশ্য শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে জীবাত্মা,
উপলব্ধিতে শুধু তুমিই,
সৃষ্টিতে সবই আছে, আছে জন্ম আছে মৃত্যু, 
বোধহীন জগতের নাই কোনও জিজ্ঞাসা ,
মহা জগতের মাঝে নিয়ন্ত্রিত পথে,
গ্রহ তারারা ঘুরছে আপন আবর্তে,
কত সুখী ওরা,জীজ্ঞাসা করে না, 
কিছু সময়ের ব্যবধানে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে।

বোধ'যুক্ত স্বত্তা শুধু মানবের আত্মা,
হাজারও জিজ্ঞাসা আর অনন্ত কৌতুহল 
ধীরে ধীরে গড়ে তুলে আপন সাম্রাজ্য,
মৃত্যুর পরপারেও তাঁর অনন্ত গতি,
জ্ঞান বিজ্ঞান দর্শনে খুঁজে জগতের সৃষ্টি,
আমিও খুঁজে চলেছি সেই সৃষ্টির স্রষ্টা কে 
জন্মান্তরের পথে বারে বারে।
______________

মাতৃগর্ভে আর মানুষ জন্মে না -- অরুণ কুমার মহাপাত্র

মাতৃগর্ভে আর মানুষ জন্মে না
অরুণ কুমার মহাপাত্র 
২২/০৫/২০২৬
অহেতুক এ জীবন
মাতৃগর্ভে আর মানুষ জন্মে না 
পাপের পরিধি বাড়ে জন্মের
সমান্তরালে...
অন্ধকার জড়ো করে লাশ হয়  মানুষ...
দুষিত জন্মের দায়ে আজ
ঈশ্বর অভিযুক্ত....
জন্ম নেবো না তাই আর...
ছেঁড়া ফাটা বিষণ্ণ কাগজে তাই
লিখে গেলাম এ কবিতা...
জানি পড়বে না কেউ এ কবিতা...  ।

Wednesday, May 6, 2026

কোন জগতে -- স্বপন বিশ্বাস

কোন জগতে 
স্বপন বিশ্বাস 
০৩ / ০৫ /২০২৬ 
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হাওয়া 
ঘরের কোন একা, 
মেঘগুলি কেমনে ভাসে 
পায় না কারো দেখা।

বিজলী ঝরে মেঘের পরে,
হৃদয় আমার কেমন করে, 
কেঁদে মরে কাহার তরে, 
চোখে মরণ শিখা। 
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হওয়া 
ঘরের কোণে একা। 

এমন দিনে কেমন করে 
বসে থাকি অন্ধকারে, 
হৃদয় আমার কেদে মরে, 
ললাটে যা লেখা।
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হওয়া 
ঘরের কোণে একা। 

বর্ষা ঝরা এমনি দিনে,
কাহার কথা ক্ষণে ক্ষণে,
ভাবি শুধু আপন মনে, 
পাইনা কারো দেখা। 
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হওয়া 
ঘরের কোণে একা।

টেরিফিক !!! -- প্রিয়াংশু বিশ্বাস,

 টেরিফিক  !!! 
 প্রিয়াংশু বিশ্বাস, 
 03.05.2026
যমরাজ মর্ত্যে, নামেন এক শর্তে,
ইচ্ছে হয়েছে নিতে ট্রাফিকের কাজ,
বছরের কোটাতে, পাপিদের ওঠাতে,
টার্গেট ফুলফিল হয়ে যাবে আজ ।

যক্ষ বা যমদূত, ডাইনি, পিশাচ, ভূত,
ডিএ ডিএ চেল্লায় কাজ ফেলে রোজ,
সরকারি কর্মীরা, সব সহমর্মিরা,
মর্ত্যে এনেছে গিয়ে এইসব খোঁজ ।

গুপ্ত সে পেল্লায়, এবিপিতে চেল্লায়,
শূণ্য পড়িয়া তার যমালোকে ডেস্ক,
পরশু অডিট হবে, ডেটা সাবমিট হবে,
রিপোর্ট করতে হবে জুনেতেই পেশ ।

নরকেতে গার্ড নেই, কারো আই কার্ড নেই,
কটা শুধু সিভিকের ভরসায় চলে,
সব কিছু দেখে শুনে, ব্যাপক প্রমাদ গুনে,
সেই থেকে এসেছেন কাজে ধরাতলে ।
 
মানুষেতে জানে না, রুল কেউ মানে না,
সেম স্টোরি রিপিটেড রবি থেকে সোম,
তাই ডেলী রাস্তায়, প্রান যায় সস্তায়,
ডেডবডি চলে যায় নার্সিংহোম ।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে, ধুলাবালি তাড়িয়ে,
খিটখিটে হয়ে পড়ে একেবারে মন,
দুইচোখে জ্বালাপোড়া, বেদনা পায়ের গোড়া,
তার সাথে একটানা কানফাটা হর্ন ।

বুক করে ঢিসঢিস, নাকি ব্রংকাইটিস,
একদিনে হয়ে গেলো ক্যন্সার নাকি,
ডিউটির চাপেতে, যাবে পেচ্ছাপে যে,
সেটুকু সময় নেই কাজে মারা ফাঁকি ।

এর যে কারণটা, আট-দশ ঘণ্টা,
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হয় মাথাব্যথা বেশী, 
এতো ব্যথা ঘাড়ে হয়, হলো নাকি হাড়ে ক্ষয়,
ছেড়ে দে মা চেল্লায় মাংসের পেশী ।

যমরাজ পায় টের, সিগনাল লাইটের,
ভাঙা পড়ে কবে থেকে, মেরামত হয় না,
হিজরার উৎপাত, সেগুলো তো দুধভাত, 
নিত্য ওভারটেক, কারো দেরী সয় না ।

বাম্পারে জার্কিং, বেহিসাবি পার্কিং,
প্রবলেম উবে যায় ছাড়লেই নোট,
ধোঁয়া ছেড়ে স্টাইলে, গাড়ি ছোটে মাইলে,
নামে শুধু বেঁচে আছে, পলুশন বোর্ড ।

যমরাজ শক খায়, শৃঙ্খলা রক্ষায়,
ট্রাফিকের পুলিশেরা কমিটেড কতো ।
শেষ নেই বেহায়ার, বসে খেলে ফ্রি ফায়ার,
একটাও যমালোকে মানবিক হতো ।



মূল প্রস্তুর - আনিছুর হক

মূল প্রস্তুর 
আনিছুর হক 
০৪/০৪/২৬
মেঘলা আকাশ,
                 ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি।
জমে থাকা জল,
                    অপরূপ কৃষ্টি। 

টপ টপ টপাটপ, 
           ঝিরি ঝিরি ঝর ঝর।
পাতায় জমে জল, 
               করে শুধু টলমল। 

পাতার কিনারায়,
               ঝরবে অপেক্ষায়।
শৈশব চমকায়,
            ফিরে যায় ভাবনায়। 

ডর ভয় শিহরণ, 
               ভাবনাহীন রঙিন।
দুরন্ত অভিসার 
                 চপলতায় নয়ন। 

অভাবের তাড়নায়,
                   শৈশব যাতনায়।
শৈশব অকালে,
            কত কেন ঝরে যায়। 

মনে পড়ে কচুবন,
               আলো প্রতিফলন।
পাতার আচরণ,
                মন কেন ব্যাকরন। 

স্মৃতি আবেগ,
                ফিরে পাওয়া দুস্কর।
জীবনের মূল প্রস্তর,
                সামাজিক  সমাপন।।

নীল শাড়িতে নক্ষত্র কন্যা -- মোঃ শিবলী নোমান

নীল শাড়িতে নক্ষত্র কন্যা
মোঃ শিবলী নোমান 
 ০৫/০৫/২০২৬
নক্ষত্র কন্যা নীল শাড়িটা 
     এসো তুমি পড়ে। 
আমি কিন্তু তাকিয়ে থাকবো 
      দুটি নয়ন ভরে।

নীল শাড়িটা পড়লে তোমায় 
      এত সুন্দর লাগে।
নীল শাড়িতে তোমায় দেখবো 
      ভাবিনি তো আগে।

নীল শাড়ির নীলাভ আলোয়  
       সারা আকাশ ভরা
নক্ষত্র কন্যাকে দেখে যেন 
       মনে ফেলে সাড়া।

নক্ষত্র গুলো আজ যেন 
       দিচ্ছে নীল আলো।
নীল আলোয় হারিয়ে গেছে 
      রাতের আধার কালো।

নক্ষত্র কন্যা নীল শাড়িতে 
       চেয়ে দেখি তাকে।
যেন নীলকন্ঠী পাখি হয়ে 
       গভীর রাতে ডাকে।

সেই ডাকে সাড়া পেয়ে 
      আমি তাকিয়ে থাকি। 
নক্ষত্র কন্যা আজ যেন 
      নীলকন্ঠী পাখি।

অনুপ্রেরণায় উৎসাহ আঁকি - পরেশ চন্দ্র সরকার

অনুপ্রেরণায়_উৎসাহ_আঁকি
পরেশ_চন্দ্র_সরকার
০৫_০৫_২০২৬_ইং
সময় হয় না সময়ের অভাবে
সময়ের অন্তরালে সময় যখন
তারমধ্যেই সময়কে সমাদর করে
কিছু লিখতে গেলে নিশুতি নামে
চঞ্চল মনে মনে হয় তখন
এই কি তাহলে লেখার সময়?
প্রশ্ন জাগে মনে, ঝাপসা আঁকে
দৃষ্টিতে, দৃশ্যত মনোযোগের অভাব।
তারই মাঝে উথালপাথাল পাতায়
যাকিছু সহজলভ্য শব্দ, বাচনভঙ্গি
সাজিয়ে নিয়ে চটপট লিখে ফেলি
কাব্য কিনা জানিনা, তবে কাব্য একখানি।
পোষ্ট করে ছেড়ে দিই পাঠক মহলে
প্রত্যাশায় প্রহর গুনি ততোধিক ধৈর্য ধরে,
মন্তব্যে মুগ্ধ হ'ই, মুগ্ধ হ'ই নানা মন্তব্য পড়ে
অনুপ্রেরণায় উৎসাহ আঁকি, ধারাবাহিক থাকি।



কালবৈশাখী - নূপুর আঢ্য


কালবৈশাখী
নূপুর আঢ্য
০৫/০৫/২০২৬
বৃষ্টি পড়ে মুষলধারে
সারাটিদিন ধরে,
চতুর্দিক জলমগ্ন
বৈশাখের ঝড়ে।

ভাঙছে গাছ ভাঙছে বাড়ি
সবার মন ভার,
ভেবে আকুল প্রমাদ গুনে
কিভাবে হবে পার।

সূর্যিমামা রাগ করেছে
নেইকো দেখা তার,
অশনি ডাকে বিকট স্বরে
শুধুই বার বার।

জনশূন্য রাস্তাঘাট
আঁধারে ঢেকে আছে,
যায় না দেখা কোনও কিছু
যতই থাক কাছে।

আকাশ যেন হয়েছে ফুটো
বাতাস জোরে বয়,
মানুষজন বন্দি ঘরে
চেপে বসেছে ভয়।

কিছু ভালো মুখ -- অরুণ কুমার মহাপাত্র

 কিছু ভালো মুখ
অরুণ কুমার মহাপাত্র 
০২/০৫/২০২৬
অভিযোগের পাহাড় নিয়েও ইতিহাসের 

পাতায় কেউ কেউ বিখ্যাত আজ...

যা কিছু ভালো সেসব ভুলে যায় মানুষ...

সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায় 

কিছু ভালো মুখ...

অমানবিক কর্ম সুষমা নিয়ে অভিযুক্তেরা

অমর হয়ে বেঁচে রয় মানুষের মনে বহুদিন ।

অসহায় মানুষের ঘাম আর অশ্রুতে

পরিপুষ্ট হয় রাষ্ট্র....

অশ্রুসিক্ত মানুষের বেষ্টনীতে

সংবর্ধিত হয় নেতারা...

ঘিরে থাকা মানুষেরা লাল নীল গেরুয়া 

পুতুল হয়ে পাহারা দেয় রাজার ঘর...

ভালো মানুষের কিছু নাম কিছু 

কন্ঠস্বর আবছা হতে হতে হারিয়ে

যায় একদিন....

সময় সবকিছু মুছে দেয়....

তবুও কিছু দাগ  , কিছু ক্ষত থেকে 

যায় বুকের ভেতর...

চোখের আয়নায় কখনো সখনো

ভেসে ওঠে অস্পষ্ট কোন ভালো 

মানুষের মুখ...  ।

Saturday, May 2, 2026

দূরে দূরান্তে অনন্ত গগনে -- জয়ন্ত প্রসাদ গুপ্ত

দূরে  দূরান্তে  অনন্ত  গগনে
জয়ন্ত প্রসাদ গুপ্ত
 ০১/০৫/২০২৬     
            
হাবে  ভাবে  নানা  ভাবে
  বুঝিয়েছ  মোরে
 ভালবাস আমায়,
  যদিও  বল নি  স্পষ্ট  ক’রে ।
 সে   ভালবাসার  সৌরভে
  চিত্ত  আমোদিত   আমারও,
  অস্বীকার  করব তার উপায়  নেই  ।
  থাক  না কত  শত  যোজন দূরে
  তবু  সুরে সুরে
  তোমার  অন্তরের কথা
  গান হয়ে  বাজে মোর  বুকে ।
  দুরন্ত ভাবাবেগ দূরত্বে পরিস্রুত হয়ে
  নিরবয়ব ব্যঞ্জনায়    ধূপের ধোঁয়া ,  ফুলের  সুবাসের
  পরিমণ্ডল ব্যাপ্ত  করে দেয় আমার  মনের আকাশে।
  একটা হাল্কা মদির  আমেজে
  আমার  চেতনা  আচ্ছন্ন  হতে চায়  ।

  মাঝে মাঝে  অনুভব  করি,
  এই  প্লেটোনিক    ব্যাপার  স্যাপারে
  বিদ্রোহী    হয়ে  ওঠে  তোমার মন ।
 মেঘ  জমে তোমার  চেতনার  দিগন্তে ।
  কিন্তু  শেষ  পর্যন্ত  একটা  গুমোট  পরিবেশ ;
  ঝড়ও  ওঠে না,
  বিদ্যুৎ ও   চমকায়  না  ।

 কিন্তু  কী   বলব  তোমাকে আমি !
  আশ্বাস  ?
  সান্ত্বনা ?
  মেকি  কথা  যে  আমি  বলতে পারি না !

  আমার  স্বগতোক্তি কি  তোমার  শ্রবণে  যাবে ?  -----
  চোখের  সামনে ভাসে  সূর্যমুখী ফুল  ।
সূর্যের  ঐ  আলো ,ঐ  উত্তাপ
তাকে  সঞ্জীবিত রাখে ।
  দূরে  থেকে ।
  কিন্তু অপলক  নয়নে  সূর্যের পানে  চাওয়া
  তার  চাওয়ার  শেষ সীমান্ত ।
  সূর্য  যদি  কোনদিন তার প্রচণ্ড    ভালবাসা  নিয়ে
  এগিয়ে  এসে  তাকে  আলিঙ্গন-  আবদ্ধ  করে
  নৈকট্যের  নিবিড়তায়  নিমেষে  খাক  হয়ে যাবে
  তার     প্রণয়াস্পদ তার    সমস্ত  ভালবাসা সমেত ।

  তার   চেয়ে  এই ভাল ---  
থাক  না  সুদূরের  ব্যবধান   !
  দূরে  দূরান্তে অনন্ত  গগনে
 ব্যাপ্ত  হোক  শাশ্বত  বিরহের এই  অমৃতনিষ্যন্দী গান  ।

 

পথ -- প্রণব চক্রবর্ত্তী

 পথ
 প্রণব চক্রবর্ত্তী 
 ২/৫/২৬
নিজেরে সান্তনা দিই নিজের কাছে, 
ভাঙ্গা মন উচাটন জীবন, 
ভঙ্গুর সামাজের মাঝে প্রতিদিন উন্মোচন, 
ব্যথার যন্ত্রণায় কাঁদে উপেক্ষিত মন।

চলেছি পথে মিলে একসাথে, 
তবুও সান্ত্বনা নাই ,
নিজের দায়ভার বইতে হবে নিজেই
অলিখিত চুক্তিই তাই।

দিন ভঙ্গুর, নিশিতার প্রভা অনন্ত কাল, 
মুঠো ভরা বিলাসিতা -
সে তো অনন্ত অশ্রু জলের আভাস ,
রাখি নাই সঞ্চয়, আপনার তরে, 
আমার যা কিছু হলো সকলের , 
এক বুক দীর্ঘশ্বাস, 
আমার প্রকৃত পাওনা।

চলেছি আজও জীবনের পথ,
হাজারের মাঝে, তবুও একেলা জীবন,
শেষ পারাণীর পথে,
সকলেই হাঁটছি এক সাথে,
আপন আপন চিন্তা ধারায়, বহমান চিরকাল।


মনে লতানো স্মৃতি -- দিলীপ ঘোষ

মনে লতানো স্মৃতি
দিলীপ ঘোষ
০২/০৫/২৬
দুপুরের টেবিলে এখনো পড়ে আছে
চায়ের সুগন্ধ নিয়ে, সকালের শূণ্য কাপ
হাসনুহানার মেঠো সুগন্ধ দক্ষিণা জানালা দিয়ে
প্রবেশ করে মনের ঘরে, চাদর পাতে বিছানায়
জলতরঙ্গের টুংটাং বাজনা বাজে
দেওয়ালবিহীন হৃদয় ঘরের কোনায় কোনায়। 

স্মৃতির উর্বর জমিতে আবাদ করি ইচ্ছা রোপিত ফসল
চিন্তা-ভাবনার চন্দ্রলোকে নৃত্য করে মনালিসা
জ্যাৎস্নার স্বর্গীয় দ্যুতিতে নাচে মহাসমুদ্রের জলরাশি
যমুনার আকাশ বাতাসে প্রতিধ্বনিত্ব হয় ফাগুন বাঁশি
মনে হয় কেউ কান পেতে শোনে সেই সুর, অর্হিনিশি। 

কথা বলে, পুরস্কারপ্রাপ্ত বইয়ের উপরে আঁকা প্রচ্ছদ
ইমনের তালে বিহুর সুরে কে যেন গান গায়
তোমার আসা যাওয়া, এখনকার অনুপস্থিতি
স্মৃতির আঙুল দিয়ে হৃদয়ের হারমোনিয়াম বাজায়।