Wednesday, May 6, 2026

কোন জগতে -- স্বপন বিশ্বাস

কোন জগতে 
স্বপন বিশ্বাস 
০৩ / ০৫ /২০২৬ 
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হাওয়া 
ঘরের কোন একা, 
মেঘগুলি কেমনে ভাসে 
পায় না কারো দেখা।

বিজলী ঝরে মেঘের পরে,
হৃদয় আমার কেমন করে, 
কেঁদে মরে কাহার তরে, 
চোখে মরণ শিখা। 
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হওয়া 
ঘরের কোণে একা। 

এমন দিনে কেমন করে 
বসে থাকি অন্ধকারে, 
হৃদয় আমার কেদে মরে, 
ললাটে যা লেখা।
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হওয়া 
ঘরের কোণে একা। 

বর্ষা ঝরা এমনি দিনে,
কাহার কথা ক্ষণে ক্ষণে,
ভাবি শুধু আপন মনে, 
পাইনা কারো দেখা। 
আকাশ জুড়ে ঝড়ো হওয়া 
ঘরের কোণে একা।

টেরিফিক !!! -- প্রিয়াংশু বিশ্বাস,

 টেরিফিক  !!! 
 প্রিয়াংশু বিশ্বাস, 
 03.05.2026
যমরাজ মর্ত্যে, নামেন এক শর্তে,
ইচ্ছে হয়েছে নিতে ট্রাফিকের কাজ,
বছরের কোটাতে, পাপিদের ওঠাতে,
টার্গেট ফুলফিল হয়ে যাবে আজ ।

যক্ষ বা যমদূত, ডাইনি, পিশাচ, ভূত,
ডিএ ডিএ চেল্লায় কাজ ফেলে রোজ,
সরকারি কর্মীরা, সব সহমর্মিরা,
মর্ত্যে এনেছে গিয়ে এইসব খোঁজ ।

গুপ্ত সে পেল্লায়, এবিপিতে চেল্লায়,
শূণ্য পড়িয়া তার যমালোকে ডেস্ক,
পরশু অডিট হবে, ডেটা সাবমিট হবে,
রিপোর্ট করতে হবে জুনেতেই পেশ ।

নরকেতে গার্ড নেই, কারো আই কার্ড নেই,
কটা শুধু সিভিকের ভরসায় চলে,
সব কিছু দেখে শুনে, ব্যাপক প্রমাদ গুনে,
সেই থেকে এসেছেন কাজে ধরাতলে ।
 
মানুষেতে জানে না, রুল কেউ মানে না,
সেম স্টোরি রিপিটেড রবি থেকে সোম,
তাই ডেলী রাস্তায়, প্রান যায় সস্তায়,
ডেডবডি চলে যায় নার্সিংহোম ।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে, ধুলাবালি তাড়িয়ে,
খিটখিটে হয়ে পড়ে একেবারে মন,
দুইচোখে জ্বালাপোড়া, বেদনা পায়ের গোড়া,
তার সাথে একটানা কানফাটা হর্ন ।

বুক করে ঢিসঢিস, নাকি ব্রংকাইটিস,
একদিনে হয়ে গেলো ক্যন্সার নাকি,
ডিউটির চাপেতে, যাবে পেচ্ছাপে যে,
সেটুকু সময় নেই কাজে মারা ফাঁকি ।

এর যে কারণটা, আট-দশ ঘণ্টা,
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হয় মাথাব্যথা বেশী, 
এতো ব্যথা ঘাড়ে হয়, হলো নাকি হাড়ে ক্ষয়,
ছেড়ে দে মা চেল্লায় মাংসের পেশী ।

যমরাজ পায় টের, সিগনাল লাইটের,
ভাঙা পড়ে কবে থেকে, মেরামত হয় না,
হিজরার উৎপাত, সেগুলো তো দুধভাত, 
নিত্য ওভারটেক, কারো দেরী সয় না ।

বাম্পারে জার্কিং, বেহিসাবি পার্কিং,
প্রবলেম উবে যায় ছাড়লেই নোট,
ধোঁয়া ছেড়ে স্টাইলে, গাড়ি ছোটে মাইলে,
নামে শুধু বেঁচে আছে, পলুশন বোর্ড ।

যমরাজ শক খায়, শৃঙ্খলা রক্ষায়,
ট্রাফিকের পুলিশেরা কমিটেড কতো ।
শেষ নেই বেহায়ার, বসে খেলে ফ্রি ফায়ার,
একটাও যমালোকে মানবিক হতো ।



Saturday, May 2, 2026

দূরে দূরান্তে অনন্ত গগনে -- জয়ন্ত প্রসাদ গুপ্ত

দূরে  দূরান্তে  অনন্ত  গগনে
জয়ন্ত প্রসাদ গুপ্ত
 ০১/০৫/২০২৬     
            
হাবে  ভাবে  নানা  ভাবে
  বুঝিয়েছ  মোরে
 ভালবাস আমায়,
  যদিও  বল নি  স্পষ্ট  ক’রে ।
 সে   ভালবাসার  সৌরভে
  চিত্ত  আমোদিত   আমারও,
  অস্বীকার  করব তার উপায়  নেই  ।
  থাক  না কত  শত  যোজন দূরে
  তবু  সুরে সুরে
  তোমার  অন্তরের কথা
  গান হয়ে  বাজে মোর  বুকে ।
  দুরন্ত ভাবাবেগ দূরত্বে পরিস্রুত হয়ে
  নিরবয়ব ব্যঞ্জনায়    ধূপের ধোঁয়া ,  ফুলের  সুবাসের
  পরিমণ্ডল ব্যাপ্ত  করে দেয় আমার  মনের আকাশে।
  একটা হাল্কা মদির  আমেজে
  আমার  চেতনা  আচ্ছন্ন  হতে চায়  ।

  মাঝে মাঝে  অনুভব  করি,
  এই  প্লেটোনিক    ব্যাপার  স্যাপারে
  বিদ্রোহী    হয়ে  ওঠে  তোমার মন ।
 মেঘ  জমে তোমার  চেতনার  দিগন্তে ।
  কিন্তু  শেষ  পর্যন্ত  একটা  গুমোট  পরিবেশ ;
  ঝড়ও  ওঠে না,
  বিদ্যুৎ ও   চমকায়  না  ।

 কিন্তু  কী   বলব  তোমাকে আমি !
  আশ্বাস  ?
  সান্ত্বনা ?
  মেকি  কথা  যে  আমি  বলতে পারি না !

  আমার  স্বগতোক্তি কি  তোমার  শ্রবণে  যাবে ?  -----
  চোখের  সামনে ভাসে  সূর্যমুখী ফুল  ।
সূর্যের  ঐ  আলো ,ঐ  উত্তাপ
তাকে  সঞ্জীবিত রাখে ।
  দূরে  থেকে ।
  কিন্তু অপলক  নয়নে  সূর্যের পানে  চাওয়া
  তার  চাওয়ার  শেষ সীমান্ত ।
  সূর্য  যদি  কোনদিন তার প্রচণ্ড    ভালবাসা  নিয়ে
  এগিয়ে  এসে  তাকে  আলিঙ্গন-  আবদ্ধ  করে
  নৈকট্যের  নিবিড়তায়  নিমেষে  খাক  হয়ে যাবে
  তার     প্রণয়াস্পদ তার    সমস্ত  ভালবাসা সমেত ।

  তার   চেয়ে  এই ভাল ---  
থাক  না  সুদূরের  ব্যবধান   !
  দূরে  দূরান্তে অনন্ত  গগনে
 ব্যাপ্ত  হোক  শাশ্বত  বিরহের এই  অমৃতনিষ্যন্দী গান  ।

 

গান -- কৃষ্ণ হাওলাদার

গান
কৃষ্ণ হাওলাদার
০১/০৫/২০২৬
স্মরণ   করি গর্বে ভরি ,
প্রভুর ওই  নামটি  ধরি।
গুনের যার  নাইকো শেষ,
ধরছে  তিনি  কতই  বেশ ,
হৃদয়  মাঝে   বসৎ  করে ,
সকল   বাঁধা    ছিন্ন করি।।

স্বর্গ  সুখ  দিচ্ছে  তিনি,
স্রষ্টা  বলে  সবাই  মানি।
পঞ্চ  ভুতে  পঞ্চ   রুপে,
সবার  মাঝে  থাকছে  চুপে,
সাধন  বলে  দেখতে  পারে,
মনকে   সদা  শক্ত  গড়ি।।

শান্তি  পুর  নয়কো  দুর,
মানব  মনে  ধরলে  সুর।
উজ্জ্বল  জ্যোতি  প্রকাশ হবে,
পিছন  পরে  কেউনা  রবে ,
বিচার বোধে   বিশ্বাস করে ,
থাকবে  নাকো   পিছন   পরি।।

প্রভুর  জ্যোতি   উজ্জ্বল অতি
সবাই  ডাকে  প্রাণ   পতি।
সৌরভ  দানে  উচ্চ মানে
চলছে সদা   জোয়ার বানে ,
রাতুল   কাঁদে  একলা  বসে,
  মরার  আগে  যাচ্ছে  মরি ।

পথ -- প্রণব চক্রবর্ত্তী

 পথ
 প্রণব চক্রবর্ত্তী 
 ২/৫/২৬
নিজেরে সান্তনা দিই নিজের কাছে, 
ভাঙ্গা মন উচাটন জীবন, 
ভঙ্গুর সামাজের মাঝে প্রতিদিন উন্মোচন, 
ব্যথার যন্ত্রণায় কাঁদে উপেক্ষিত মন।

চলেছি পথে মিলে একসাথে, 
তবুও সান্ত্বনা নাই ,
নিজের দায়ভার বইতে হবে নিজেই
অলিখিত চুক্তিই তাই।

দিন ভঙ্গুর, নিশিতার প্রভা অনন্ত কাল, 
মুঠো ভরা বিলাসিতা -
সে তো অনন্ত অশ্রু জলের আভাস ,
রাখি নাই সঞ্চয়, আপনার তরে, 
আমার যা কিছু হলো সকলের , 
এক বুক দীর্ঘশ্বাস, 
আমার প্রকৃত পাওনা।

চলেছি আজও জীবনের পথ,
হাজারের মাঝে, তবুও একেলা জীবন,
শেষ পারাণীর পথে,
সকলেই হাঁটছি এক সাথে,
আপন আপন চিন্তা ধারায়, বহমান চিরকাল।


মনে লতানো স্মৃতি -- দিলীপ ঘোষ

মনে লতানো স্মৃতি
দিলীপ ঘোষ
০২/০৫/২৬
দুপুরের টেবিলে এখনো পড়ে আছে
চায়ের সুগন্ধ নিয়ে, সকালের শূণ্য কাপ
হাসনুহানার মেঠো সুগন্ধ দক্ষিণা জানালা দিয়ে
প্রবেশ করে মনের ঘরে, চাদর পাতে বিছানায়
জলতরঙ্গের টুংটাং বাজনা বাজে
দেওয়ালবিহীন হৃদয় ঘরের কোনায় কোনায়। 

স্মৃতির উর্বর জমিতে আবাদ করি ইচ্ছা রোপিত ফসল
চিন্তা-ভাবনার চন্দ্রলোকে নৃত্য করে মনালিসা
জ্যাৎস্নার স্বর্গীয় দ্যুতিতে নাচে মহাসমুদ্রের জলরাশি
যমুনার আকাশ বাতাসে প্রতিধ্বনিত্ব হয় ফাগুন বাঁশি
মনে হয় কেউ কান পেতে শোনে সেই সুর, অর্হিনিশি। 

কথা বলে, পুরস্কারপ্রাপ্ত বইয়ের উপরে আঁকা প্রচ্ছদ
ইমনের তালে বিহুর সুরে কে যেন গান গায়
তোমার আসা যাওয়া, এখনকার অনুপস্থিতি
স্মৃতির আঙুল দিয়ে হৃদয়ের হারমোনিয়াম বাজায়।

Saturday, March 21, 2026

শেষ অধ্যায় -- বরুণ কুমার বিশ্বাস

শেষ অধ্যায় 
শ্রী বরুণ কুমার বিশ্বাস
২০/৩/২০২৬.
সব কথা জানি এখনো হয়তো হয়নি বলা, 
তবুও চলে যেতে হবে বহুদূরে দিগন্তের আড়ে।
ঋতু পরিবর্তন হবে একই রকম পোহালে সময়, 
না বলা কথাগুলো হয়তো বলবে কোন জীবনানন্দ। 
প্রেমের কবিতা গুলোর চরিত্র বদল হবে গবেষণায়, 
ফুটে উঠবে হাজার বছরের পথ চলার রোড ম্যাপ। 

আমিও ভালোবেসেছি, কিন্তু অপ্রকাশ্য থেকে গেছে। 
ব্রাত্য হয়েও নেই অভিযোগ, বাড়েনি একটুও অভিমান। 
পুনর্জন্মের ধারণা বাড়িয়েছে ধৈর্য, অবিরাম ।
তবুও কবিদের মতো বলতে পারিনি,'আবার আসিব ফিরে.... , '
কিশোর বেলার সেই আইরি খেতের আড়ে,
যেথায় হয়েছিল পরিচয়, মনে নেই কোন্ অছিলায়।

হয়তো পরিযায়ী পাখি হয়ে ফিরবো কোন এক বসন্তে, 
পলাশ-মহুয়ার সেই  রাঙা ফুলের আঙিনায়।
পাহাড়ি পথে চলা নূপুর পরা পা দু'খানির 'পরে
পড়বে আমার ছোট্ট মনের অদৃশ্য ছায়া। 
গবেষণা হোকনা, 'ভালোবাসা ও পরজন্ম,' -এ বিষয় নিয়ে ।
 কিন্তু এখন তো সব কিছু ছেড়ে যেতে হবে সেই দিগন্তের আড়ে।

ক্লান্তিহীন কবিতায় -- রামকৃষ্ণ পাল

ক্লান্তিহীন কবিতায়
রামকৃষ্ণ পাল 
২১/০৩/২৬
কবিতায় কথা বলা কত আলাপন 
লিখনীতে লিখে যাই গাথা, 
স্বয়নে স্বপনে সৃষ্টিতে মগন এ মন
বলে যাই কত গোপন কথা।

জীবনের পলে পলে যত সুখ দুঃখ
হাসি কান্না হৃদয় আকাশে,
কলমের আঁচড়ে আঙুলের ছোঁয়ায় 
উদ্ভাসিত মনের ক্যানভাসে।

নদী সাগরের বুক ভরা ব্যথা স্রোতে 
আবর্জনা-গ্লানি বয়ে চলে, 
তবুও মানুষ পরম শান্তিতে আশ্রয়ে
অব্যক্ত মনের কথা বলে। 

প্রবাহমান কালের গহ্বরে লুকানো 
মিলন বিরহের কবিতা,
কাব্যের আরশিতে দেখে নিজ মুখ 
সুশোভিত নয়নের পাতা।

এমনি করেই কালের ধারা প্রবাহিত 
গহীনে মনের কথা বলে,
আনন্দের নীড়ে কবিতায় হাঁটা চলা
ফোটে ফুল নিষ্পাপ দলে।

Friday, March 20, 2026

শিশিরের আর্তনাদ -- মো.ফজলুল হক খান কামাল

শিশিরের  আর্তনাদ 
মো.ফজলুল হক খান কামাল 
১৯.৩.২০২৬
শুনেও শোনে না 
অন্তরের বিশুদ্ধ আকুতি, 
দেখেও দেখে না
পাশে থাকা নিয়তি! 

কবেই দাবানলে পুড়ে গেছে 
আলোকোজ্জ্বল মৌবন,
শিশিরবিন্দু জমে জমে 
সৃষ্টি হবে কি মধুবন? 

চলে যাচ্ছে অভিমানী সময়
আটকাতে পারছে না নিশুতি, 
আরও একটা জিন্দেগী দরকার
পোহাতে ইচ্ছুক অশেষ দুর্গতি। 

না আসুক ফিরে 
হারানো সুখের শ্রাবণ,
চিরতরে কাছে ডাকুক
অদেখা কোনো এক নিদ্রাবন।।

আত্মসম্মান -- শক্তি হালদার

আত্মসম্মান  
শক্তি হালদার 
১৯/০৩/২০২৬ 
আমার বাড়ির ভেতরের উঠোনে,

একটা বিশাল জামগাছ দাঁড়িয়ে আছে ,

তার শিকড় নেমে গেছে গভীর অন্ধকারে।

ঝড় এলে পাতা ঝরে,

ডাল ভাঙে,

তবু কাণ্ডটি নুয়ে পড়ে না। 

মানুষের ভিড় যেন হাটের কোলাহল,

সেখানে দাম ওঠে,

নামে, 

বদলায়।

কিন্তু এই জামগাছ কোনো দরপত্রে ওঠে না,

নিজের ছায়াতেই নিজের আশ্রয় খোঁজে।

কখনও রোদ তাকে পুড়িয়ে দেয়,

কখনও বৃষ্টি তাকে ভিজিয়ে রাখে দীর্ঘক্ষণ,

তবু সে কারোর কাছেই ঋণী নয়,

না আলো বা জলের,

নিজস্ব আকাশেই তার ঋতুর আবর্তন।

শেষে দেখা যায়—

সব হারিয়েও,

সে মাটিতে গেঁথে আছে। 

কারণ আত্মসম্মান আসলে সেই শিকড়,

যা ভাঙে না, মচকায় না  

কেবল আরও গভীরে যায়, আরও গভীরে।

রাগী মাস্টার -- শ্রীরবীন্দ্র নাথ মন্ডল

রাগী মাস্টার
শ্রীরবীন্দ্র নাথ মন্ডল
১৯/৩/২৬
 
চুপচাপ--সব থাক-----নয় কথা একদম,

যদি রাগি--খাবি খাবি--ঘুষি পিঠে দমাদম।

 

কই কই!--খাতা বই---কোথা পেন পেন্সিল?

হেসে হেসে--বেশ ঠেসে--করিস তো কিলবিল।

 

দুই ঘর--ঝর ঝর-----নামতাটা দেখি বল,

ব্যাস বুক!---ধুকপুক--থেমে গেলো কলবল।

 

পড়বি না---শুনবি না--খালি খাবি গবাগব?

পাড়া চরা--খেলা করা--মাছ ধরা ছিপে সব?

 

সব ফেলে---মন ঢেলে--পড়াশুনা আগে চাই

নয় ঝাড়--দমে মার--হাতে রেডি বেত তাই।

 

আজ যাক--বেত থাক--কাল ছুলে দেবো চাম,

আজ থেকে--তেল মেখে---জপ কর রাম রাম।

 

চাই পড়া---আমি কড়া---মাস্টার আছে নাম,

ফেল নয়----চাই জয়--শুনে রাখ যতো ভাম।

 

আজ তবে--যা না সবে--ছুটি দিনু পড়া ইতি,

কাল ভোরে--পড়া করে---আসবিরে যথারীতি।

 

আছে শোনা---কথাখানা?রাখ মনে গেঁথে ঠিক,

পড়াখানা----চাই টানা----নইলেই কুঁজো পিঠ।।

কবিতা -- স্বপন বিশ্বাস

কবিতা
স্বপন বিশ্বাস 
২০/৩/২০২৬
কবিতায় দেয় না খাবার
দেয় না ঘরের চাল 
দেয় শুধু উপবাস আর 
বউয়ের গালাগাল।

সবাই করে হাসাহাসি 
পাগল ছাগল বলে, 
ওরে কবি, তখনো তুই 
নিজেই থাকিস ভুলে। 

পাওনাদার যখন আসে 
আড়ালে সে থাকে, 
ঘরের কোণে লুকিয়ে থেকে 
মৃত্যুকে সে ডাকে। 

গালাগালি আর বকাঝকা 
ঘাড় ধাক্কা কত, 
সন্তানেরা লুকিয়ে থাকে 
শাবক পাখির মত।

আবার বসি আবার হাসি 
লিখি মনের গান 
এমনি করে চোখের জলে 
হয়তো যাবে প্রাণ। 

যাহা কিছু পড়েছিলাম 
সারা জীবন ধরে, 
কাব্যে ছন্দে রেখে গেলাম 
আমার ভাঙ্গা ঘরে।

Thursday, March 19, 2026

সেদিন ছিল চৈত্র মাস -- অরুণ কুমার মহাপাত্র

সেদিন ছিল চৈত্র মাস
অরুণ কুমার মহাপাত্র 
১৮/০৩/২০২৬
ডালে ডালে ফুটে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া...
আকাশে আফিম ভরা চৈতি মেঘ আর 
মাতালের মতো দু এক ফোঁটা বৃষ্টি !!
পৃথিবী যেন এক নষ্ট নীড়...
গান গেয়ে ওঠে সারা অঙ্গ...  ।
পাহাড়ের চূড়া যোগান দেয় কামকেলির 
আগুন কণা জলজ বাসনা...

নিঃসাড়ে শুয়ে থাকা মজা নদী
জেগে ওঠে...
রুদ্ধ নদীর বুকে চুম্বন আঁকে 
জ্যোৎস্নার মায়া.... ।
জ্যোৎস্নার আভা ছুঁয়ে যায়
প্রেমের ইচ্ছা...
হ্যাঁচকা টানে সরে যায় গতকাল....
ভেঙে পড়ে নৌকা... ।
রয়ে যায় পাথরে জলের দাগ... ।

প্রহর শেষের আলোয় সে দিন
ছিল চৈত্র মাস... ছিল আমার 
সর্বনাশ... ।



Friday, March 13, 2026

ফাল্গুন -- অভিজিৎ বড়ুয়া অভি

ফাল্গুন 
অভিজিৎ বড়ুয়া অভি
১২/০৩/২৬
রিক্সা চলছে, মন্থর তার গতি,
ক্লান্ত শীর্ণ চালক, ঘামে ভেজা,
নীলা তুমি পাশে, এলো খোঁপা,
তবুও দুই একটি চুল এসে স্পর্শ করে যায়।
ফাল্গুন কি ভালোবাসার মাস?
ফাল্গুনের বাতাসে আছে মুগ্ধতার সুর
শীতলতা বা উষ্ণতা, যেমন তুমি।

তোমার সেই রূপ রস সুবাস,
এ কোন সাজের বা সুগন্ধির নয়,
তোমার দেহে যেন আছে এক মাতাল করা গন্ধ 
বা শিহরণ , স্পর্শ সুখ। সরলতা, সাচ্ছন্দ, শান্তি।
তোমার  রক্তাভগৌরপদ্মসম্ভব গাত্র বর্ণের মুগ্ধতা।

আমি জানি তুমি আমাকে লক্ষ্য করছো,
ঠোঁটের সেই দুষ্ট হাসি আমি বুঝি,
তুমি জানো এই নীরবতা আসলে অব্যক্ত কথা,
তুমি শুনতে পাও বুকে মাঝে আমার জমে থাকা কথা।

আচ্ছা, এখনো কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পথ আছে?
পাহাড়ের মাঝে, দুই ধারে গাছের সারি,
কোকিল যুবার কুহুতান, কে বলে কোকিল শুধু
বসন্তে ডাকে? মিলনের তাড়নায় সে সব ঋতুতে কুহুরে।
এখনো কি কোন যুব যুবা শ্রাবণের অঝোর ধারায় ভিজে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে, হাতে হাত ধরে পথ চলে? 

সেই ট্রেন কি এখনো চলে, অনেক যুবা যুবতীর উচ্ছ্বাস,
বন্ধুত্ব, প্রেম, হারানোর কত কথা। রাজনীতি বা সংস্কৃতি,
এখনো কি সেই ডাকঘর আছে? তুমি লিখতে চিঠি, 
মেখে দিতে সুবাস, যা তেরো নদী পেরিয়ে কোন এক যুবকের হতো প্রতীক্ষায় অবসান। আবেগ, ভাললাগা।
বা সেই ডাকবক্স, প্রতিদিন তুমি অধীর হয়ে খুঁজতে প্রতিউত্তর। কোন যুবকের ভালোবাসার চুম্বন। 

পাশাপাশি চলছি, ভাবছি, কিন্ত দুজনে নিশ্চুপ। তোমার সেই হাসি, আড়চোখে দেখা। কাছ ঘেঁষে বসা।
হঠাৎই আমার হাত নিলে, নিজের হাতে। সেই স্পর্শ, আবেগ, উষ্ণতা। একটু সংকোচ হলো। সব বদলে গেছে।
তোমার আমার কালো চুল এখন সাদা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন বিভোর হয়ে, দূরে চলে গেছি দু'জন, আজ প্রতিষ্ঠা এসেছে, হারিয়েছে সময়। জীবন সায়াহ্ন।

ঐ দেখা যায় পথের শেষ। গাড়ি রেখে রিকশা চড়তে চেয়েছিলে। আমার সাদা বড় দামী গাড়ি যেনো আজ ব্যঙ্গ করছে। যেনো অহং কে নির্লজ্জ ভাবে ব্যক্ত করছে। আর তোমার ছোট লাল গাড়ি। শান্ত, স্নিগ্ধ। আচ্ছা সাদা রঙ কি শান্তির প্রতীক না বৈধব্য বা বিচ্ছেদের। আর লাল রঙ? সংসার ত্যাগের মহিমান্বিত রঙ, সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসীর। শান্তির রূপ। যেমন বুদ্ধ। মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষা। 

রিকশার থেকে নামলে, হাত ধরলে, বললে, 'কিছু বলবে?' আমি নিশ্চুপ, বহু বছর আগে, 
যেভাবে তোমার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছি।
 হাত ছাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম, 
বললাম, 'ড্রাইভার চলো'। আরো দ্রুত চলো, 
আমি সেই বিদায় স্মরণ রাখতে চাইনি, চাইনা। 
পেছনে ফিরে দেখতে চাইনা সেই কষ্ট ভরা আঁখি। 
আমি কি তবে পালাচ্ছি। প্রতিষ্ঠা ধন সম্পদের জন্য 
যে ছুটে চলতে, প্রেম থেকে পালিয়েছি, 
এখনো সব পাওয়ার মাঝেও হেরে যাচ্ছি। আমিতো জিততে চেয়েছি। সব পাওয়ার মাঝে। 
নীলা আমি হেরে গেছি। আমি প্রেম, আবেগ, ভালোবাসার ত্যাগ বুঝিনি।

Tuesday, March 10, 2026

অনুপস্থিতির স্থাপত্য --কাজল মুখোপাধ্যায়

অনুপস্থিতির স্থাপত্য
কাজল মুখোপাধ্যায় 
১০ই মার্চ,২০২৬
কখনও হঠাৎ হাত ফাঁকা হয়ে যায়
যেন জীবনের টেবিল থেকে
নিঃশব্দে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
একটি বহুদিনের পরিচিত ভার।

ঘর তখনও একই থাকে
দেয়াল, জানালা, আলোর অভ্যাস ,অপরিবর্তিত,
তবু বাতাসের ভেতর
অর্থের বিন্যাস ধীরে সরে যায়।

আমরা দাঁড়িয়ে থাকি
সেই অনুপস্থিতির সামনে
যেখানে একটু আগে ছিল
অভ্যাসের নীরব আশ্রয়।

কিছু বিদায়
অদৃশ্য নির্মাণের মতো
যেখানে অচেনা কোনো স্পর্শ
আমাদের হাত হালকা করে দেয়।

আর তখনই বোঝা যায়
শূন্য হাতই নতুন দিগন্তের মানচিত্র।

অসমাপ্ত গ্লানি -- সীমান্ত পথিক

অসমাপ্ত গ্লানি
সীমান্ত পথিক 
 ০৯/০৩/২০২৬
সম্মান করতে করতে আমি অসহায়,
জানিনা কোথায় শেষ—
তবু করে করে নিজে ছোট হই,
ভাবি একদিন শেষ হবে।

না, পাইনি এখনো সেই সকাল,
অপমানের ছায়া ঘিরে থাকে;
মনের ভেতর জমে থাকা কথা
ঠোঁটের কাছে গিয়েও থেমে যায় বারবার ।

যারা কাছে এসে দূরে সরে যায়,
তাদের জন্যই নিজেকে ভাঙি—
ভালো থাকুক সবাই ভেবে,
নিজেকেই বারবার হারা মানি।

তবু আশা রাখি, কোথাও একটা আলো
আমার জন্য জ্বলে আছে—
কোনো একদিন নিজের মতো করে
আমি আবার দাঁড়াবো সবার পাশে।

Sunday, March 8, 2026

নারী -- বনানী সাহা

 নারী
 বনানী সাহা 
০৮-০৩-২০২৬
পুরুষ তোমার স্পর্ধা মেপেছে শুধু --
দমননীতি, শোষণনীতি, অত্যাচারের নির্মমতা যেন তৈরি করেছে তোমারই জন্য !
ঘোমটা কিংবা বোরখার সৃষ্টি হয়েছে কেন ?কার জন্য? কখনো ভেবেছ কী?
না নারীর পর্দাপ্রথা একান্ত প্রয়োজন ছিল!
পুরুষের সমকক্ষ হবে কেন নারী?

পায়ের মলের ছমছম আওয়াজ বলছে শোনো---- বন্দিনী তুমি নারী; পরিমিত স্থানে বিচরণ কারিনী।
শাড়ির আঁচলে সংসারের চাবি ;পরিবারের সকলের ভার---
 উদয়াস্ত পরিশ্রম সবই রইল বাধা তোমার জন্য।
নাকি তোমাকে বাঁধতে---   কে জানে?

পুরুষের জন্য তো আছে জলসাঘর মনোরঞ্জনের প্রয়োজন বোধে ।
শুধু--- তোমার বাধা পাখির মতো উড়ান ভরতে!
যখন তুমি স্বাধীনতার নিশান উড়িয়ে দেখাতে চাও তুমি পুরুষের থেকে কোথাও কম নও --
সমকক্ষ হবার মতো তোমার জ্ঞান, বিজ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা সবই আছে ।
ওদের পৌরুষে লেগেছে!
স্বেচছাচারিনী ,কুলটা আরো কতো কি নামে তোমায় ডেকেছে!

প্রতিঘরের দেয়ালে এখনো তোমার কষ্ট ,কান্না  আর আঘাতের শব্দ লেগে।
সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারে বারে-- 
সেই রামায়ণের কাল থেকে সীতার আঁচল ছুঁয়ে। 
অগ্নি পরীক্ষা দিতে হয়েছে ।
আবার সেই পুরুষই তোমায় টেনে এনেছে পতিতালয়ে !

তুমি মা ,মেয়ে ,স্ত্রী ,বোন হয়ে  পুরুষের পাশে থাকতে জানো।
এটাও ভুলে যেয়ো না প্রয়োজনে ঝাঁসিররানী হয়ে লড়তেও  জানো। 
তোমার সেবা ধর্ম যেমন পৃথিবী  রাখে সবুজ ; পরিবার রাখে মমতায় ধরে।
তেজস্বিনী হয়ে বুকে আগুন লালল করতে জানো।
সেই আগুনে জগত আলো করতে জানো। 
সেই আগুন তোমায় একদিন রাষ্ট্রপ্রধান দ্রৌপদী মুর্মু, মহাকাশ বিজয়ীনী সুনীতা উইলিয়ামস কিংবা বিশ্বজয়ী হরমনপ্রীত করও  বানাতে পারে!

 কখনো লক্ষ্য বিচ্যুত হয়ো না।
কক্ষচ্যুত ধূমকেতুর মতো---
 জ্বলে পুড়ে হারিয়ে যেয়ো না।
নিজের শক্তিকে চেনো।
 নিজেকে ছেয়ে যেতে দাও বাতাসে। উড়তে দাও নীল আকাশে। 
স্বপ্নগুলোর অপমৃত্যু কিছুতেই মেনে নিয়ো না।
কখনো নিজের কাছে হেরে যেয়ো না। 

পুরুষ মানুষ হয় যদি নারীও মানুষ নয় কেন?
অন্যের অবহেলায় নারীত্বের মৃত্যু হয় না ,নারী শক্তির ক্ষয় হয় না --
হয়, নিজের প্রতি নিজের অবহেলায়
মনে রেখো ।

 

Friday, March 6, 2026

ঘুমের আগে -- কাজল মুখোপাধ্যায়

ঘুমের আগে
কাজল মুখোপাধ্যায় 
৪ইমার্চ,' ২৬
আর একটা নতুন দিনের সকাল। সকালের ব্রেকফাস্ট চা খেয়ে অনির্বাণ তৈরি হয়ে গেল বেরোনোর জন্য।মায়া রান্নাঘরে ছিল,অনির্বাণ ব্যাগে একটা জলের বোতল, ডায়রি , পেন আর চশমার খাপটা নিয়েছিল, মায়াকে আলাদা করে বলার ছিল না, সে তো জানতই ।শুধু যাওয়ার আগে অনির্বাণবলল, 'আমি আসছি'।
মায়া জিজ্ঞেস করেছিল, 'ট্রেন কটায়?'
'ন’টা পনেরো।'
'দুপুরে ফিরবে?'
অনির্বাণ একটু থেমে বলেছিল,
চেষ্টা করব।
এই “চেষ্টা করব”-এর মধ্যে কোনও অনিশ্চয়তা ছিল না,ছিল শুধু বাস্তব।
স্টেশন থেকে যখন সে বেরোল,রাস্তাটা কিন্তু তার চেনা ছিল না।
মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে অনির্বাণ মেয়েটিকে ফোন করল, মেয়েটি অনির্বাণকে স্কুলের পথনির্দেশ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিল ফোনে।
আজ আর নতুন জায়গায় যেতে অনির্বাণের অস্বস্তি লাগছিল না, সেটা কাল রাতেই চলে গেছে।
আজ কেবল গন্তব্যস্থলে যাওয়া, মেয়েটার দেওয়া দিক নির্দেশ মত।
স্কুলটা ছোটো, সামনে সাইনবোর্ডের স্কুলের নাম লেখা,কয়েকটা ঘর, মাঝখানে উঠোন। মেয়েটি স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা, অনির্বাণ মেয়েটিকে দেখে আন্দাজ করেছিল, সামনে গিয়ে পরিচয় দিতে মেয়েটি অনির্বাণকে হাতজোড় করে নমস্কার করল, তারপর উচ্ছসিত হয়ে বলল ,'আপনি এসেছেন '? এই কথাগুলোর মধ্যে বিস্ময় ছিল না, ছিল স্বস্তি।
অনির্বাণকে লাইব্রেরী ঘরের দিকে নিয়ে গেল মেয়েটি।লাইব্রেরি ঘরের একদিকে একটা বইয়ের আলমারি,তার মধ্যে কয়েকটা নতুন-পুরোনো বই,কিছু পাঠ্যবই, কিছু গল্প, প্রবন্ধের বই।
'এইটা তোমাদের লাইব্রেরি?' অনির্বাণ জিজ্ঞাসা করল। 
মেয়েটি বলল, 'হ্যাঁ আগেও ছিল ,তবে মাঝে বন্ধ ছিল অনেকদিন ,এখন আবার শুরু করার চেষ্টা হচ্ছে'।
ঘরের মধ্যে জনা বিশেক ছোটো ছোটো ছেলে মেয়ে বেঞ্চে বসে ছিল, কয়েকজন নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল, কয়েকজন আমার মন দিয়ে বই পড়ছিল।
অনির্বাণকে ওই ঘরে প্রবেশ করতে দেখে ,কৌতূহলে তার দিকে তাকিয়ে থাকল তারা।
মেয়েটি ধীরস্বরে বলল,'ওরা জানে না আপনি কে।'
অনির্বাণ হালকা হেসে বলল,'আমিও ঠিক জানি না।'
অনির্বাণ তাদের সামনে চেয়ারটায় বসে পড়ল,তারপর বলল,তোমরা কী কী বই পড়তে ভালোবাসো?
প্রথমে কেউ কোনো উত্তর দিল না, এরপর একটা ছোট মেয়ে একটু আস্তে করে বলল, 'গল্পের।'
এই শব্দটার মধ্যে দিয়ে ঘরের ক্ষনিকের নীরবতাটা যেন সরে গেল। অনির্বাণ বলল,'আমিও গল্পের বই পড়তে ভালোবাসি'।
এরপর অনির্বাণ নিজের স্কুল জীবনের কথা কিছু কিছু বলল,নিজের স্কুল লাইব্রেরিতে  গিয়ে পড়াশোনার কথা বলল , ছোটবেলায় কীভাবে গল্পের বই খুলে গল্পের মধ্যে ঢুকে পড়ত, তখন খেলা বা খাওয়ার কথাও মনে থাকতো না তার ।ছেলে মেয়েগুলো মন দিয়ে অনির্বাণেরকথা শুনছিল, তারা অনির্বাণের কথায় লাইব্রেরী আর গল্পের বই পড়াসম্বন্ধে বেশ উৎসাহিত হয়ে পড়েছিল, এটা তাদের চোখ মুখ দেখে বেশ বোঝা যাচ্ছিল।
মেয়েটি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল,মেয়েটি বুঝতে পারছি না লাইব্রেরী সম্বন্ধে তার পরিকল্পনা সফল হতে  চলেছে।
কিছুক্ষণ পরে ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক এসে ওই ঘরে ঢুকলেন।
মেয়েটির পাশে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন অনির্বাণের কথা শুনছিলেন তিনি,তারপর মেয়েটিকে বললেন,'এই ভদ্রলোক কে?মেয়েটি একটু ইতস্তত করে বলল,'উনি… আজ এসেছেন… বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলতে লাইব্রেরীর বিষয়ে, আমিই ওনাকে ডেকেছি,'
প্রধান শিক্ষক অনির্বাণের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আমি এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক,আপনি কি স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে স্কুল লাইব্রেরীতে এসেছেন?'
অনির্মাণ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। 
বুঝতে পারল ,এই প্রশ্নটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তাই অনির্বাণ প্রশ্নটা শুনে একটু চুপ করে থাকল,তারপর বলল,'না।'
প্রধান শিক্ষক বললেন,'এইসব ব্যাপার এভাবে করা যায় না।'
অনির্বাণ মাথা নেড়ে বলল,'আমি ঠিক জানি না,তবে আপনি বললে আমি এখনই চলে যাব এখান থেকে'।
প্রধান শিক্ষক কিছু একটা ভাবলেন,তারপর ওই ঘরের বেঞ্চে বসা ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের দিকে তাকালেন।
এরপর বললেন, 'না না, আজ থাকুন,আপনি যে রকম ভাবে ওদের সাথে কথা বলছেন সেটাই করুন'।
এই কথাটা কোনও অনুমতি নয়,কিন্তু অনির্বাণ বুঝতে পারল,এই “আজ থাকুন” মানে অন্তত আজকের দিনের জন্য অনুমতি পাওয়া।
দুপুরে ফেরার সময় মেয়েটি স্কুলের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিল অনির্বাণকে।
'আজকের পরে আপনি আবার আসবেন তো?'
এই প্রশ্নে তেমন কোনও প্রত্যাশা ছিল না,শুধু জানতে চাওয়া।
অনির্বাণ একটু ভেবে বলল,'হ্যাঁ, যদি প্রধান শিক্ষক অনুমতি দেন , তাহলে আমাকে জানিও'।
এই “হ্যাঁ” বলার সময় সে নিজেই বুঝল,এটা শুধুই কথার কথা।
ফেরার সময় স্টেশনের পাশের একটা হোটেলে ঢুকে অনির্বাণ দুপুরের খাবার খেয়ে নিল।
ফেরার ট্রেনে বসে তার মনে হল,আজ সে কোনও বড় কাজ করেনি,কাউকে বিশেষ সহযোগিতা করেনি
কোনও নতুন ব্যবস্থা তৈরি করেনি।
কিন্তু আজ সে নিজের একটা ভুল ধারণা ভেঙেছে, অবসরের পরে সে এতদিন ভেবেছিল,তার সব দরকার ফুরিয়ে গেছে,আজ সেই ভাবনাটার অনেকটাই বদলে গেল।
সন্ধ্যায় বাড়ি ঢুকতে মায়া বলল, 'সারাদিন কিছু খেয়েছো'?
অনির্বাণ বলল ,'হ্যাঁ হোটেলে খেয়ে নিয়েছি',এরপর বলল,'আজ লাইব্রেরীতে গিয়ে ছোটোছোটো ছেলেমেয়েদের সাথে কথা বলে ভালো লাগল।
মায়া মাথা নেড়ে বলল,'আমি বুঝতে পেরেছি।'
অনির্বাণ একটু হেসে ফেলল,'কী করে?'
মায়া কাপে চা ঢালতে ঢালতে বলল,'আজ তোমার মুখের ভাব যেরকম,কাল তেমন ছিল না।'
এই কথাটার ব্যাখ্যা অনির্বাণ জানতে চাইল না,তার দরকারও ছিল না।

রাতে ঘুমোবার আগে সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ বাইরের তাকিয়ে রইল,এই শহরে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে,হারে, জেতে, ভুল করে, ফিরে আসে,কিন্তু আজ তার নিজের সাথে একটা ছোটো ঘটনা যেন নিঃশব্দে আলাদা হয়ে গেল,কোনও খবরের কাগজে নয়,কোনও ফলকে নয়,শুধু তার নিজের কাছে ।
এই কারণে, আজকের দিনটা তার কাছে মনে রাখার মত একটা দিন হয়ে রইল, কারণ সে জানে লাইব্রেরীটাতে সহযোগিতা করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষেরঅনুমতি পাক আর না পাক,ওই স্কুলের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েগুলোর কাছে সে যে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পেরেছিল,এটাই তার আজকের সাফল্য।

Monday, March 2, 2026

চেয়ে নেবো মুক্তি পৃথিবীর কাছে -- অরুণ কুমার মহাপাত্র

চেয়ে নেবো মুক্তি পৃথিবীর কাছে
অরুণ কুমার মহাপাত্র
০১/০৩/২০২৬
জীবনের খেলাঘরে কেটে গেছে সময়...
দেখেছি শৈশব , দেখেছি কৈশোর
এখন দেখছি নুয়ে পড়া বার্ধক্য ।
সবার ভালোর জন্য কেটেছে সময়...
আজ হিসেব কষে সে সব লাভ কি বলো ?
সবাই আত্ম চৈতন্যে বিভোর ... ।
জীবনের সব হিসেবই তো আজ গরমিল ।
আমার 'আমি' বলতে নেই কিছু আর ।
তবুও দিনের শেষে এখনো বন্দী আমি
ভালোবাসার কাছে ।
কখনো সখনো কপর্দকশূন্য ভালোবাসার
দড়ি টানাটানিতে ভালোবাসা মুখ 
থুবড়ে পড়ে  ...
কেউ মনে রাখে না কাউকে  ।
কে কাকে মনে রেখেছে বলো  ?
যে ভালোবাসার জন্যে হৃদয়ে তুফান ওঠে
সেই ভালোবাসা শিথিল হলে 
বাঁধন ছেঁড়ে  ।

ভালোবাসার গল্পগুলো খুঁজতে গিয়ে
দেখি...
আমার ভালোবাসার পৃথিবীটা আজ
বেরসিক অন্ধকারে নিখোঁজ  ।
পৃথিবীর কাছে হাত পেতে নিয়েছি
কত কিছু ।
দিতে পেরেছি তার কতটুকু  ?
পৃথিবীর কাছে ঋণী হয়ে আছি আমি...
এখনো যতটুকু ভালোবাসা দেবার
মত আছে
সবটুকু দিয়ে নিঃশেষ হয়ে চেয়ে নেবো
মুক্তি পৃথিবীর কাছে  ।

Thursday, February 26, 2026

বিজনে

বিজনে 
শিপ্রা বসাক 
২৫/০২/২০২৬
এভাবেই মরে যেতে চাই একটু একটু করে ---
প্রতি দিন, প্রতি ক্ষণে,
এভাবেই দুহাতে তুলে নিতে চাই শিউলি-ফোঁটা ভোর
এভাবেই দুচোখে এঁকে নিতে চাই স্বপ্ন মাখা রোদ ,
এভাবেই পার হয়ে যাবো যুগের পরে যুগ , অবিচল ,
জন্ম থেকে জন্মে ।
           *        *        *        *        *         *
সদ্য কুসুম-ফোঁটা কিশোরীবেলায় আগুনরাঙা মেঘ
শুনিয়েছিল বিরহী যক্ষের কথা 
তারপর কত মেঘ পার হয়ে , ঘুম ঘোরে , স্বপ্নরাজ্যে
ছন্দে ছন্দে পেয়েছিলাম আগমন বার্তা ।

অচেতন তনুমন জানালো প্রবেশ তার 
রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিরায় শিরায় 
আনত চোখ তুলে তাকিয়ে থাকি শুধু 
প্রেম তার , সবটুকু , চিনে নিতে চায়।

একবার পাই, আবার হারাই , জীবন জুড়ে শুধু 
আলো আর ছায়ার খেলা ,
দিনরাত কত পথ , কখনো বন্ধুর , কখনো সমতল
এভাবেই কেটে যায় বেলা ।
             *        *        *        *        *        *
এভাবেই কেটে যাক , বয়ে যাক , তাপসী সময়টুকু 
চিনে নিক আপনার জন ,
এভাবেই কালের খাতায় রঙীন কলম থেকে ঝরে পড়ুক প্রেম ,
এভাবেই উত্তরণের পথে বেঁচে থাক নম্রচোখে না পাওয়া অভিলাষ ,
এভাবেই শূন্য থেকে ক্রমাগত এগিয়ে চলি পূর্ণতার পথে
যত্নে আগলে রেখো সারাটা জীবন।