টেরিফিক !!!
প্রিয়াংশু বিশ্বাস,
03.05.2026
যমরাজ মর্ত্যে, নামেন এক শর্তে,
ইচ্ছে হয়েছে নিতে ট্রাফিকের কাজ,
বছরের কোটাতে, পাপিদের ওঠাতে,
টার্গেট ফুলফিল হয়ে যাবে আজ ।
যক্ষ বা যমদূত, ডাইনি, পিশাচ, ভূত,
ডিএ ডিএ চেল্লায় কাজ ফেলে রোজ,
সরকারি কর্মীরা, সব সহমর্মিরা,
মর্ত্যে এনেছে গিয়ে এইসব খোঁজ ।
গুপ্ত সে পেল্লায়, এবিপিতে চেল্লায়,
শূণ্য পড়িয়া তার যমালোকে ডেস্ক,
পরশু অডিট হবে, ডেটা সাবমিট হবে,
রিপোর্ট করতে হবে জুনেতেই পেশ ।
নরকেতে গার্ড নেই, কারো আই কার্ড নেই,
কটা শুধু সিভিকের ভরসায় চলে,
সব কিছু দেখে শুনে, ব্যাপক প্রমাদ গুনে,
সেই থেকে এসেছেন কাজে ধরাতলে ।
মানুষেতে জানে না, রুল কেউ মানে না,
সেম স্টোরি রিপিটেড রবি থেকে সোম,
তাই ডেলী রাস্তায়, প্রান যায় সস্তায়,
ডেডবডি চলে যায় নার্সিংহোম ।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে, ধুলাবালি তাড়িয়ে,
খিটখিটে হয়ে পড়ে একেবারে মন,
দুইচোখে জ্বালাপোড়া, বেদনা পায়ের গোড়া,
তার সাথে একটানা কানফাটা হর্ন ।
বুক করে ঢিসঢিস, নাকি ব্রংকাইটিস,
একদিনে হয়ে গেলো ক্যন্সার নাকি,
ডিউটির চাপেতে, যাবে পেচ্ছাপে যে,
সেটুকু সময় নেই কাজে মারা ফাঁকি ।
এর যে কারণটা, আট-দশ ঘণ্টা,
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হয় মাথাব্যথা বেশী,
এতো ব্যথা ঘাড়ে হয়, হলো নাকি হাড়ে ক্ষয়,
ছেড়ে দে মা চেল্লায় মাংসের পেশী ।
যমরাজ পায় টের, সিগনাল লাইটের,
ভাঙা পড়ে কবে থেকে, মেরামত হয় না,
হিজরার উৎপাত, সেগুলো তো দুধভাত,
নিত্য ওভারটেক, কারো দেরী সয় না ।
বাম্পারে জার্কিং, বেহিসাবি পার্কিং,
প্রবলেম উবে যায় ছাড়লেই নোট,
ধোঁয়া ছেড়ে স্টাইলে, গাড়ি ছোটে মাইলে,
নামে শুধু বেঁচে আছে, পলুশন বোর্ড ।
যমরাজ শক খায়, শৃঙ্খলা রক্ষায়,
ট্রাফিকের পুলিশেরা কমিটেড কতো ।
শেষ নেই বেহায়ার, বসে খেলে ফ্রি ফায়ার,
একটাও যমালোকে মানবিক হতো ।
No comments:
Post a Comment