উচ্ছেদ
বনানী সাহা
২১-০৫-২০২৬
ঘিঞ্জি বস্তি ;কতো জীবন বাঁচে সেথা ----
দারিদ্র, রোগ ,অনাহারের সাথে লড়াই করে শহরের অগোচরে ---
দিনের আলোয় আর রাতের অন্ধকারে ।
ঠাণ্ডা ঘরে ,ঠান্ডা মাথায় টেবিলের ওপর কতো প্ল্যান-- আর মিটিং চলে,
রাখা যাবে না ওদের ।
শহরটা তৈরি হবে নতুন করে !
বাধা, সেই ওরা;
বস্তিতে থাকে যারা।
কিংবা ফুটপাতে বসে, পেটের দায়ে জীবন চলে--
কিছু কেনাবেচা করে।
জঞ্জাল সব।
সাফ করতে হবে ওদের ,সব।
না হলে কি করে বাড়ে শহরের গৌরব?
তাই উচ্ছেদ!
উচ্ছেদ টা খুব জরুরী--
বিনা নোটিশে কিংবা ভুয়ো নোটিশ দিয়ে।
কে বুঝবে ? কে জানবে?
সবই টাকার খেলা।
টাকায় সব হার মানবে।
উচ্ছেদ চলে-- শত শত বুলডোজার দিয়ে ।
জঞ্জাল সাফ হবে এবার।
শহরটা তৈরি হবে নতুন করে !
ছোটখাটো বাক্স প্যাঁটরা; রান্নার সরঞ্জাম যত,
চারটি কাঁচা দেয়াল, ফুটো চালা সব , সব ভেঙে পড়ে নিমেশে ---
রান্না বসানো উনুন ভেঙে দেয়।
ওরা দেখে অবাক চোখে!
খিদের জ্বালায় জ্বলছিল ছোট পেটগুলো ----
বলছিল , " মা , ভাত দাও।"
বুলডোজার সেই উনুন গুড়িয়ে দিল ।
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে জ্বলন্ত পেটের ওপরে;
তবু তো শীতল হয় না !
শত শত ,হাজার হাজার মানুষ দিশে হারা ---
কোথায় যাবে? কোন আশ্রয়ে ,নতুন করে বাসা বাঁধবে ওরা!
ঐ ভাঙাচোরা ঘর আর উল্টোপাল্টা সব জিনিসের ভীড়ে---
কতো কষ্ট, নিজের জিনিসগুলো চিনে নেওয়া।
তার পর ? তারপর, নতুন ঠিকানার খোঁজে বেড়িয়ে পড়া---
যেখান থেকে আর উচ্ছেদ হবে না ওরা!
No comments:
Post a Comment