Monday, September 1, 2025

ফিরে এসো বনলতা -- নিশিকান্ত মেটে

ফিরে এসো বনলতা 
নিশিকান্ত মেটে 
১-৯-২০২৫
ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা, আমার জন্য নয়, 
ফিরে এসো আইস কুইন হয়ে, 
উষ্ণায়নের হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো অমৃত নির্ঝরিনী হয়ে,
খরার হাত থেকে চির সবুজকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো পবন নন্দিনী হয়ে,
বায়ু দূষণের হাত থেকে এই পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো পরমেশ্বরী হয়ে,
দুই মেরুর বরফ গলা জলে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে 
এই নাবালক পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো বনস্পতি হয়ে,
প্রাকৃতি সৌন্দর্যের বুক থেকে ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়ে যাওয়া পশুপক্ষীকে বাঁচানোর জন্যে।

ফিরে এসো বনলতা, হয়ে তরুলতা,আমার জন্যে নয়, 
ফিরে এসো তেজোদ্দীপ্তি চোখ হয়ে,
কুয়াশার কুজ্ঝটিকা ভেদ করে মানবতার শত্রু জঙ্গল দস্যুদের পুড়িয়ে মারার জন্যে।


আলোর খোঁজ করি না কেউ আমরা -- অরুণ কুমার মহাপাত্র

আলোর খোঁজ করি না কেউ আমরা
অরুণ কুমার মহাপাত্র 
 ৩১/০৮/২০২৫
এক একটি বিশ্বাস কে আঁকড়ে ধরে
হেঁটে চলি অন্ধকার পথে...
দেখি এই বিশ্বাস গুলো কখন যে সংস্কারের 
জালে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে
বুঝতে ও পারিনি...  । 
তাই তো এখন শুধুই আলোর খোঁজ  । 
ঈশ্বর কে চোখে দেখিনি কখনো  । 
তবে মানুষকে ঈশ্বর হতে দেখেছি  । 
তবুও পাথরের পায়ে মাথা কুটে ঈশ্বর
খুঁজেছি...  । 
পাইনি ঈশ্বর... জানি না ঈশ্বর কোথায়  ? 
তোমারই এ পৃথিবীতে মানুষকে আমি 
জানোয়ার হতে দেখেছি  । 
দেখেছি বৈষম্যের পৃথিবীতে নিরন্ন মানুষকে 
তোমার মন্দিরে থালা পেতে দাঁড়াতে  । 
তুমি তো পাথর তাই নীরব...  । 
ঈশ্বর বানিয়েছি আমরাই তোমাকে  । 

শুনেছি আমি সৃষ্টির ইতিহাস...  । 
চোখে দেখছি বিবর্তনের ধারায় আদিম মানুষ 
থেকে আজকের সভ্য মানুষকে...

হ্যাঁ  , সভ্য হয়েছি আমরা  । 
আর সভ্যতাকে বুকে ধরে তাইতো আজ 
আকাশচুম্বী অহঙ্কার আমাদের  । 
আর তাই অন্ধকার দূর করতে আলোর 
খোঁজ করি না কেউ আমরা...   । 


Friday, August 29, 2025

হে মহাপ্রাণ লহ হে প্রণাম -- মধুসূদন সূত্রধর

হে মহাপ্রাণ লহ হে প্রণাম 
মধুসূদন সূত্রধর 
২৯/৮/২০২৫
চির অম্লান হে মহাপ্রাণ 
হে মানবতার কবি 
তুমি আছ মোর হৃদয় মননে 
দেখি মোরে চেয়ে আঁখি খানি মেলে 
পারিনা ভুলিতে তোমারে থাকিতে 
দেখি চেয়ে মোর ছবি 
বরণীয় তুমি স্মরনীয় তুমি 
হে মহাপ্রাণ জানাই প্রণাম মোর তব 
চরণে।

অগ্নিবীণার ঝঙ্কার তুমি 
বিষের বাঁশরীর সুর 
তুমি মোর রক্ত লেখা 
পেয়েছি জীবনে হৃদয় মাঝারে 
ফুটিয়েছ তুমি মানবতা বৃক্ষে ফুল 
কে বলে তুমি চলে গেছ সব ছেড়ে বহু দূর 
হৃদয় বীণাতে পায় যে শুনিতে 
তোমার রাগিণী সুর 
তুমি বুলবুল সবার গো প্রিয় নজরুল।

তুমি অজেয় দুর্বার দূর্জয় 
তোমার গো হাতে বাঁশের বাঁশরী 
আর এক হাতে রণ তূর্য 
তুমি বিদ্রোহী তুমি প্রতিবাদ 
তুমি সংগ্রামী চেতনার গান 
তুমি রাজ টিকা, তুমি দীপ্ত সু বীর্য।

তুমি পূর্নিমার চাঁদ নীল যমুনার জল 
তুমি প্রেমের পূজারীর ফুল 
তুমি কোরান গীতা বাইবেল 
আল্লা কৃষ্ণ কালী মেহের বান 
তুমি প্রেমের তরণী স্বপ্নের বাঁশরী 
তুমি এক মহান প্রিয় কবি নজরুল।

নজরুল মানে এক সংগ্রামী বীর 
করা ভাঙার গান 
জেলে যেতে প্রস্তুত জান 
স্বাধীনতা মা কে করিতে মুক্তি 
তুমি সংগ্রামী চেতনার প্রাণ 
তুমি যে প্রেমের কবিতা শ্যামা সঙ্গীত 
কালী মায়ের চরণের জবা ফুল 
তুমি সত্য ন্যায় মানবতা বিবেক 
তুমি মহা প্রাণ প্রিয় কবি নজরুল।

আজি সেই দিন যেদিন তোমার প্রদীপ 
জ্বলিতে জ্বলিতে মোর নিভে যায় 
এসেছি ফিরিয়া মোর সেই দিন 
নয়ন সম্মুখে তোমারে যে নাহি পায় 
অন্তরে করিতেছ তুমি যে বিরাজ 
মোর দিবা নিশি দেখিতে যে পায়।

হে মহা প্রাণ লহ গো প্রণাম 
তোমায় আজিকে প্রণাম গো করি 
আজি দুর্দিনে দাও গো আসিস 
হৃদয় অন্তরে রাখি গো মোর ভরি।


Tuesday, August 26, 2025

অশ্রুত অনুরণন -- বিকাশ সাহা

অশ্রুত অনুরণন, 
বিকাশ সাহা
২৫-০৮-২৫
শূন্য আকাশে যখন নক্ষত্ররা ঝরে,
অদৃশ্য সুর ভেসে আসে নিঃশব্দ ভোরে।
বাতাসে মিশে থাকে গোপন ব্যথা,
যা কারো চোখে ধরা পড়ে না,
তবু হৃদয়ের গভীরে বাজে নিরন্তর।

পাতার কাঁপনে, নদীর ঢেউয়ে,
বৃষ্টির ফোঁটায় কিংবা শিশির ভেজা ভোরে
অশ্রুত সেই অনুরণন অলক্ষ্যে ছুঁয়ে যায় মন।

কখনও তা বীরের অশ্রু,
যুদ্ধক্ষেত্রে ঝরে পড়া রক্তের ফোঁটা,
কখনও তা প্রেমিকার নিঃশব্দ অপেক্ষা,
চোখের জলে ভিজে থাকা অপ্রকাশিত কবিতা।
শিশুর প্রথম কান্না, মায়ের অশ্রু লুকোনো হাসি,
সবেতেই লুকিয়ে থাকে সেই অশ্রুত বাণী।

মানুষের কোলাহলে হারিয়ে যায়
তবু সময়ের বুক চিরে বাজে ধ্বনি—
অতীতের, বর্তমানের,
এমনকি অনাগত ভবিষ্যতেরও।

অশ্রুত অনুরণন হল এক অনন্ত নদী,
যার উৎস হৃদয়ের অন্তঃস্থলে,
গন্তব্য মহাশূন্যের অসীম অন্ধকারে।
শোনে না সবাই, তবু যে শোনে—
সে খুঁজে পায় জীবনের সত্য,
মৃত্যুর পরম নীরবতাতেও
যে সুর বেঁচে থাকে।

আগুনের আঁচ-- ড. দেবাশিষ চ্যাটার্জী

 "আগুনের আঁচ"
 ড. দেবাশিষ চ্যাটার্জী
  25/08 /2025
মনের মধ্যে জ্বলছে আগুন 

অনাচারের বিষে 

এখনো সব নির্বিকার

আর জাগবে  কিসে?

দেখছি শুনছি সবই মানছি

বুজছি  সবটাই ভুল

তবু ও মুখে তালা চাবি

করছিনা কেউ  কবুল ।

ভাবছি বলে কি আর হবে

আমার কিসের ক্ষতি 

স্বার্থবানে জর্জরিত তাই 

এই সবে নেই মতি ।

এই তো বেশ ভালোই আছি 

চাটু করের পেশায়

খুঁটে  খেয়ে অভ্যস্ত  

অধিক পাওয়ার আশায় ।

ভালো থাকব ভালো রাখব

হচ্ছে কোথায় আর

সমাজ টা আজ রসাতলে

পায় না কেহ বিচার ।

মরছে মানুষ উড়চ্ছে ফানুস

ভিন্ন রঙের মেলায়

নেতা মন্ত্রী ঠান্ডা ঘরে

ব্যস্ত অর্থ খেলায় ।

ভাবছে দিন এমন যাবে 

সুখের ভেলায় ভেসে

শেষ এক দিন হতেই হবে

ঈশ্বর এর জাস্টিসে ।

Sunday, August 24, 2025

পারুলের স্বপ্ন -- পারমিতা চ্যাটার্জি

পারুলের স্বপ্ন
পারমিতা চ্যাটার্জি 
২৩/০৮/২৫
মোহন ঘরে ফিরে এসেছে  গিন্নি পারুল আর মেয়ে আলপনা দুজনেই দুরকম কাজে ব্যাস্ত পারুল নামিয়েছে
সবে এক কড়াই তরকারি লোটা মাছের সাথে আলু কুমড়ো  বেগুন দিয়ে পেঁয়াজ রসুন দিয়ে জমপেশ করে বানান খুব গন্ধ বেরিয়েছে। কিন্তু মোহনের মাছের সাথেলের শ অত তরকারি দিয়ে খেতে ভাল লাগেনা। অনেকদিন বউকে বলেছে এরকম করে করবিনা। 
আরে খেতে তো ভাল হয় আগুন বাঁচে মেয়েটাকে শহরে নিয়ে পড়াতে  তো খরচ আছে। পারুলের শখ মেয়েকে খুব শিক্ষিত করে তোলা। 
তারজন্য রোজ এই অখাদ্য খেতে মোটে ভালো লাগে না দুবেলাই এক তরকারি। আমিও তো খাটছি ভালমন্দ খাওয়া রোজ না হলেও মাসে একদিন তে খেতে পারি? 
আরে তোর মেয়ের পড়ার টাকার অভাব হবে না। রাতে মুরগী নিয়ে আসব ভাল করে রাঁধিস আর পাশের বাড়ির বকুল কে একটু দিয়ে আসিস। হ্যাঁ একবাটি তরকারি বকুলকে আমি রোজ দি,
তাইনাকি?  তাইজন্য একরান্না রোজ তা বেশ করেছিস তোর যে মনটা এত বড় তাতো জানতাম না। পারুল বলল, ভাবছি সামনের মাসে আলপনার সাথে বকুলকেও স্কুলে ভর্তি করে দেব,
হ্যাঁ দিস আজকাল মেয়েদের পড়াশোনা খুব দরকার। বিয়ের চেয়েও পড়াশোনার দরকার আরও বেশি। 
পারুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল অত ভাল করে মাধ্যমিক পাশ করলাম কেউ আমার পড়ার জন্য একটুও ভাবলনা।
উফ্ আবার ফ্যাচফ্যাচানি আরম্ভ হল।  তখন বাবা মা ছিল সামনে আমার বোনের বিয়ে ছিল কত খরচা করে বোনটার বিয়ে দিলাম তাও সামান্য রাখী কেনার অপরাধে বোনটাকে আমার মেরেই ফেলে দিল। দাদা দাদা করে পাগল ছিল মেয়েটা এখনও ওর মুখটা মনে পড়লে চোখের জল সামলাতে পারিনা। তখন তোর পড়াশোনা নিয়ে ভাববার মতন মন ছিল আমার। তোমার মায়ের শরীর খারাপ ছিল  বলে আমাকে তো অল্প বয়েসেই বিয়ে দিয়ে নিয়ে এসেছিলে তোমরা। হ্যাঁ তুই আর বনু একসাথে পড়তিস রাতের রান্না মা করতেন,
রাতের রান্না আর কি ছিল শুধু ভাত আর রুটি কখানা সকালেই তো আমি আর বনু সব করে রাখতাম। কাজ তো কম ছিলনা, 
থাক আর হিসাব দিতে হবেনা, 
আচ্ছা আমার বাবা মা তো প্রায় কিছুই দিতে পারেনি, 
আমরা তো চাইনি। আমরা বাপ বেটা ছিল যা আছে তাই  দিয়ে চলবে প্রাণপণ খেটে রোজকার করব কিন্তু চাইব কেন? 
আমার মা খালি কানের একজোরা দুল আর তোমাকে আংটি  আর সবাই  নাকফুল শেষকালে দিদি কেঁদে জামাইবাবুকে বলল, আমাকে মা হাতের গয়না দিয়েছিল আমার বোনটার হাত খালি থাকবে!  তখন প্রায় শেষমুহুর্তে জামাইবাবু দুটো পলারবালা নিয়ে এল আর মামারা ঘড়ার সাথে হলুদ তোলা শাড়ি তার সাথে আর একটা ভাল ঢাকাই শাড়ি একটা আমার হাতে আংটি দিয়েছিল, জামাই বরণ করেছিল রূপোর আঙটি দিয়ে,
আহা মানুষ আর কত দেবে?  অনেক দিয়েছে, 
তাই ভাবি তোমাদের এত উঁচু দরের মন আর তোমাদের বাড়ির মেয়েকেই এমন করে মেরে দিল, ছেড়ে দিলে শয়তানটাকে? ওর ফাঁসি হওয়া উচিৎ ছিল। লড়েছিলাম তো প্রাণপণ আমি আর বন্ধু পলাশ কিছুই করতে পারলাম না। যাক আমার মেয়েকে একেবারে বিএবিটি পাশ করিয়ে সরকারি স্কুলে পরীক্ষার বসাব একবার না হলে বারবার দেবে বিয়ের কথা ভাববোইনা। আর শক্ত করে তৈরি করবে গায়ে হাত তুলতে এলেই চেঁচামেচি হৈচৈ করে আর ওকে তো কুস্তি শিখিয়েছি ও ঠিক বেরিয়ে আসতে পারবে, 
আগে তো বিএটা পাশ দিক তারপরের কথা পরে আর এবারে যারা চাইবে সেরকম ঘরে বিয়ে দেবোই  না। 
মানুষ স্বপ্নের কাজল পড়তে ভালবাসে পারুলও স্বপ্ন দেখে তার মেয়ে স্কুলের দিদিমনি হবে একদিন  তারজন্য তাকে আরও পড়াতে হবে ওই যে দিদিমনি হতে গেলে যে ট্রেনিং লাগে সেই ট্রেনিং। যা তার নিজের একদিন  স্বপ্ন ছিল  হয়নি তার মেয়েকে সে সফল করবেই।  
মাঝে মাঝে উদাস হয়ে ভাবে আর তার মেয়ে কি তার স্বপ্ন সত্যি সফল করতে পারবে, ভাবতে ভাবতেই আবার
 মাংস রান্নায়  মন দিল। অনেক দিন পরে মাংস এনেছে রান্না খারাপ হলে রাগ করবে  মানুষ টা। 
শেষপর্যন্ত আলপনা  বি এ পাশ করল আর বকুলকেও পারুল  মাধ্যমিক পাশ করিয়ে ছাড়ল। ওর মা শহরে যায় 
বাবুদের বাড়ি রান্না করতে। কষ্টে শিষ্টে চলে যায়। 
পারুল আলপনার সাথে বকুলেরও একটা করে জামা করে। তবে এখন আলপনা হয় শাড়ি পড়ে নয়ত সালোয়ার কামিজ পরে। সালোয়ার কামিজই  বেশি পরে। 
বকুলের মা বলল দিদি বকুল কি আর পড়বে?  আমি তো যা রোজগার করি তাতে দুবেলা রান্না জ্বালানি কেরোসিন এসব কিনতেই চলে যায়।
তোমার খালি নেই নেই স্বভাব। আমরা তো দেখি  না না কি?  বকুলের  অত ভাল রেজাল্ট ও পড়বে না মানে?  ও কে পড়তেই হবে। আলপনার সাবজেক্ট ও নিক সব বই পেয়ে যাবে। 
শেষ পর্যন্ত  বকুল উচ্চমাধ্যমিকে আর আলপনা বিএডে ভর্তি হতে হল। 
ওরা দুজনেই দেখেছে ওদের পড়ানোর জন্য মা বছরে দুটোর বেশি কখনও শাড়ি কেনেনি ওদের কলেজ যেতে হত বলে পয়সা বাঁচিয়ে সালোয়ার-কামিজের সেট কিনে দিত। নিজের প্রচণ্ড ইচ্ছে সত্বেও কিছুই করতে পারলনা।
সেলাই করে রোজকার করত শেষপর্যন্ত একে ওকে ধরাধরি করে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি নিল সেই সাথে বাড়ির সামনে টা একটু ঘিরে নিয়ে সেলাইয়ের দোকান দিল। ব্লাউজ, সালোয়ার কামিজ , শাড়ির ফলস লাগান, মেয়েদের ফ্রক সেলাই করে মোটামুটি চালিয়ে নিত। মেয়েদুটো সময় মতন সেলাইয়ে মাকে সাহায্য করত। খাওয়াদাওয়ার একটু ভাল ব্যাবস্থা  করতে পেরেছিল পারুল। রাতের বেলায় শুতে এসে বর যখন গায়ে হাত বুলিয়ে  বলত সারাজীবন কষ্ট করেই গেলি, এখন মেয়ে দুটো  মানুষ হলে তোর স্বপ্ন পূরণ হয়। আমার দোকান থেকেও এখন আয় পয় ভালই হচ্ছে এবার থেকে নিজেও একটু ভালো করে খাবি শরীরটা ভেঙে যাচ্ছে তো! 
কিছু ভাঙছেনা তুমি অত চিন্তা কোর না তো। 
আলপনা অনেক দিন ধরে টিউশনের চেষ্টা  করছে পেয়েও গেল কলকাতার কাছেই একটা আর একটা নিজেদের গ্রামে। বকুল উচ্চমাধ্যমিকের সাথে সাথে নার্সিং ট্রেনিং নিতে শুরু  করল তার সাথে সাথে লোকের বাড়ি রক্ত নিতে যাওয়া চ্যানেল করা সেগুলো আবার ল্যাবে দিয়ে আসা আার রিপোর্ট নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া এই করে সেও রোজকার শুরু করল। আলপনা বাড়িতে আসার সময় চারজনের চারটে বড় কলা মাখন রুটি সব কিনে আনত। 
খাওয়া দাওয়া ভালোই চলছিল যতটা পুষ্টিকর খাওয়া বাবা মাকে দেওয়া যায় মেয়ে দুটো চেষ্টা করত। 
এইভাবেই দিন চলতে লাগল। আলপনা বুঝতে পারছিল অতিরিক্ত পরিশ্রমে মায়ের শরীর ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। 
সে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিল কিন্তু রেজাল্টের অপেক্ষা না করেই একটা প্রাইভেট স্কুলে ভাল মাইনের চাকরি  নিল। 
বকুলের মা শহরের কোন বাবুর সাথে থাকতে শুরু বকুলের নামে বাড়িটা লিখে দিল। 
বকুল রেগে গিয়ে বলল আমাকে তো চিরকাল তুমিই দেখেছ পারুল মা আজ থেকে  তুমি আমার শুধু মা।
পারুল তার ক্লান্ত দূর্বল  বুকে টেনে নিল। পারুল বকুলকে বলল তুই কতকিছু শিখছিস রে ভাল রোজকার করিস দেখবি পণের জন্যে যেন খুন হতে না হয়। 
বকুল নার্সিং ট্রেনিং থেকে শুরু করে ল্যাব টেকনিশিয়ান হয়ে উঠল। বড় সরকারি হাসপাতালে চাকরি  পেল। জোর করে পারুলকে বলল এবার সেলাই টেলাই বন্ধ কর তো অনেক হয়েছে আমি আর দিদি দুজনেই ভাল চাকরি করছি নাও ওই দুধটুকু খেয়ে নাও না খেয়ে শরীরের যা হাল বানিয়েছ। 
সেদিন সকাল থেকে আকাশটা মেঘলা মনে হচ্ছে যেন ভারি বৃষ্টি হবে, আলপনা খুব তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে ফিরছে হাতে তার সরকারি স্কুলের অফার লেটার  এই গ্রামেই পোস্টিং পেয়েছে খুব খুশি সে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছে, মায়ের চোখের নীচে গাঢ় কালি পড়েছে মনে হয় যেন স্বপ্নের কাজল পরে আছে। 
আলপনা দৌড়ে দৌড়ে এসে দেখল মা তার সেলাইয়ে ঘরে বসে বসেই যেন ঢলে পড়েছে, ওর পেছনে বকুলও এসে দাঁড়িয়েছে ওদের বাবাও যেন প্রাণপণে কান্না চাপার চেষ্টা করছে, বকুলের অভ্যস্ত চোখ সব বুজতে পারল কাছে এসে পারুলের মাথাটা বুকে টেনে নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, দিদি মা আর নেই রে মা আর নেই  
আলপনা তখন চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল মা তোমার স্বপ্ন যে সফল করলাম তুমি তোমার জন্য  কিছু করার সুযোগ দিলেনা চলে গেলে। 
পারুলের স্বপ্ন সফল হলে কিন্তু পারুল চলে গেল। পরিবারটা যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। 

ঈশ্বরও কাঁদছে -- রবীন্দ্রনাথ মন্ডল

ঈশ্বরও কাঁদছে 
রবীন্দ্রনাথ মন্ডল
২৩/৮/২৫
পৃথিবীর সমস্ত সম্রাটের চোখেই ন্যাবা।নীল চশমা  পরিহিত।খালি চোখেও দেখতে পান না।প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে নৈতিকতা।লাজ-লজ্জার খিলান-গুলো সব খুলে পড়ে গেছে।বোয়াল মাছগুলো খেয়ে ফেলছে যত ছোট ছো্ট মাছ।মানবতার ডিমগুলো ফুটতে দিচ্ছে না।কদর্যতা ইতরতা অরাজকতা,বিশৃঙ্খলা দামামা বাজাচ্ছে উল্লাসে। মুনাফার অনৈতিক ক্ষিদের অবগ্রাস দুর্বল ক্ষেতের উপর রোপন করছে শোষণ নিপীড়নের চারা।মানুষের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে বেশ্যাখানা,জুয়া,লটারী, মদের ভাঁটি।মদের নেশায় চেতনা যেন সব কিছু রঙিন দেখে।শত্রুদের যেন না চেনে।আর কান্না,অভিযোগ,প্রার্থনার জন্যে গড়ে দিয়েছে মন্দির মসজিদ।পৃথিবীর চতুর্দিকে গড়ে তুলেছে মেরুদন্ড ভাঙার কারখানা।ঢালাও উৎপাদন হচ্ছে ঘৃণ্য স্তাবকতা, সুবিধাবাদ,অন্যায্যতা,ভেদাভেদ,মৌলবাদ,বিদ্বেষ,যুদ্ধোন্মাদনা।আমরা পরষ্পরের মাংস ছিঁড়ে খেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। আর সাতসকালে গঙ্গায় স্নান করে শুচি বস্ত্র পরে মন্দির গির্জা কিংবা মসজিদে গিয়ে বলছি’হে সর্বশক্তিমান ‘দুষ্টের দমন করো সৃষ্টের করো পালন,।হাজার হাজার বছর ধরেই এই প্রার্থনার আর্তি ইথার-তরঙ্গ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বুমেড়াং হয়ে ফিরে আসছে সে সব করুণ ধ্বনি।আর ঈশ্বর বা আল্লা হয়তো বলছে আমি প্রকৃতি-জগতের দায়ভার সামলাতেই হিমসিম খাচ্ছি,ঝড়,বৃষ্টি,দাবানলের মত দুর্যোগ।তোমাদের অভিযোগ শুনি কি করে?তাছাড়া জীব-জগতের দায়ভার সমস্ত কেড়ে নিয়েছে আমা্য রক্তাক্ত করে যম আর ইতর অসুরেরা।তাদের অনাচার,অত্যাচারে আমি আঘাতপ্রাপ্ত অসহায় ঈশ্বর,আল্লা।আমিও কাঁদছি।শুধুই অঝোরে কাঁদছি।ঠিক তোমাদের মতো।

কতোবার ভেঙেছি নিজেকে -- সাইফুল ইসলাম মৌন

কতোবার ভেঙেছি নিজেকে
 সাইফুল ইসলাম মৌন
24/08/2025
কতোবার ভেঙেছি নিজেকে—
মনে হয় আমি এক প্রাচীন ভাস্কর্য,
যার ফাটলে জমে আছে সহস্র বছরের নীরবতা।
ভাঙন আমার শত্রু নয়,
বরং এক দীক্ষাগুরু,
যে শেখায়—
অসম্পূর্ণতাই পূর্ণতার গভীরতম সংজ্ঞা।

কখনো মনে হয় আমি মরুভূমি,
যেখানে প্রতিটি বালুকণা একেকটি ক্ষতচিহ্ন,
ঝড় এলে তা উড়ে যায় আকাশে
আর তারার মতো ঝলমল করে—
কিন্তু কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়
ওগুলো আসলে শুকনো অশ্রু।

আমি পর্বতও হয়েছি,
ভাঙনের শব্দে যার খণ্ড খণ্ড পাথর
গড়িয়ে পড়ে অতল গিরিখাতে।
তবু শিখরে রয়ে গেছে অবিচল দৃঢ়তা—
যেন ভাঙনের পরেও দাঁড়িয়ে থাকা
একটি আধ্যাত্মিক অনুশীলন।

কখনো মনে হয়েছে আমি আগুন,
নিজেকে ভেঙেছি ছাইতে,
যাতে ছাই থেকেই আবার জন্ম নিতে পারি।
পুড়ে গিয়েছি অগণিতবার,
তবু প্রতিবারই জেনেছি—
জীবনের শিখা নিভে যায় না,
শুধু রূপ পাল্টায়।

চাঁদের গর্তের মতো আমার অন্তর,
যেখানে প্রতিটি ভাঙন একেকটি দাগ,
যা আলোকে ম্লান করে না,
বরং বাড়িয়ে দেয় রহস্যের গভীরতা।

তাই যখনই নিজেকে ভাঙি,
মনে হয়—
আমি শিখছি অনন্ত পাঠ:
যতবার ভাঙি, ততবার শিখি
অস্তিত্বের সংজ্ঞা নতুন করে।
ভাঙনের মধ্যেই বুঝি—
আমাকে শেষ করা যায় না,
কারণ আমি ভাঙন থেকেই জন্ম নিই
বারবার, অনন্তবার।

মৃত শৈশব হবে দূর -- রাণু বর্মণ

মৃত শৈশব হবে দূর 
রাণু বর্মণ 
২৪/৮/২৫
প্রতিবছর শরৎ আসে 
   সঙ্গে মা আসে ধরা তলে —
 শ্বেত পদ্ম শোভা ছড়ায় 
       সরোবরের জলে ।

আনন্দ উৎসব শুরু হয় 
      বেজে ওঠে ঢাক —
আকাশ জুড়ে বন খঞ্জর
     ওরে ঝাঁকে ঝাঁক ।

দীনের ঘরে আশার প্রদীপ
     নেভে আর জ্বলে,
মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেয় 
    নীরব চোখের জলে।

 টাকা ছাড়া জীবন খানা 
     শুধুই ছেঁড়া তাস 
ভাঙ্গা ঘরে আধ পেটা খেয়ে
     ফেলে গভীর দীর্ঘশ্বাস।

 কেউ মদ জুয়ায় উড়িয়ে দেয়
      লক্ষ লক্ষ টাকা ,
কারো চিকিৎসার টাকা নেই 
     গায়ে দুর্গন্ধ মাখা। 

কেউ হীরা জহরত সোনা গহনা 
     প্রাচুর্যে থাকে মোড়া
কেউ ঋণের বোঝায় সর্বশান্ত 
      কপাল খানা পোড়া।

দীন মজুর ঝরছে ঘাম 
     পেটে নেই ভাত —
কারো চোখে ঠিকরে আসে
    কারো নিদ্রাহীন রাত।

সমাজের মাপ কাঠি
    ভিন্ন দুই রূপ ,
ধরা তলের এ বিভাজনে দেখে
     কেন মা নিশ্চুপ!!

 শুনেছি সর্বশক্তিমান তুমি 
      দেবী মহামায়া —
পারোনা মা মুছে দিতে 
      দারিদ্রতার ছায়া??

 তোমার সন্তানে যদি সুখী হয়
     মৃত শৈশব হবে দূর। 
একই সুরে গাইবে সবাই
       বিজয়ার সুর।।

অনুভবে দেখা ও শোন -- দিলীপ ঘোষ

অনুভবে দেখা ও শোন
দিলীপ ঘোষ
২৪/০৮/২৫
অনুভূতির চোখে দেখি
দেখা তাই ভুল হয় মাঝে মাঝে
অনুভবের কানে শুনি
শোনা তাই মাতাল-পা ফেলে কাজে
মাঝে মাঝে। 

হাত পা বিহীন মনগড়া পূর্ব অনুমান
আগুন লাগায় হনুমানের ল্যাজে
অস্থিরতার আগুনে বিচলিত ধোঁয়া
লঙ্কাকাণ্ড ঘটায় লঙ্কাহীন রাজ্যে। 

বিমূর্ত মূর্তি সিদ্ধান্ত প্রসব করে
শরীরের গায়ে লাগে ছায়া
শূণ্যে ঢিল ছোঁড়ার পরে
সমন ধরায় আকুতির পেয়াদা। 

অনুভবে দেখা ও শোনা
কখনো ঠিক, কখনো বাড়ায় দেনা।

Friday, August 22, 2025

ইন্দ্রজালের ফাঁদে -- রামকৃষ্ণ পাল

 ইন্দ্রজালের ফাঁদে
 রামকৃষ্ণ পাল
 ২২/০৮/২৫
সবকিছুই সাদা কালো, দিনের আলোয় 
বুঝতে পারি না আসল রং, 
সবকিছুই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ,ঝকঝকে 
প্রতারণার কত ছল ও ঢং।

আধুনিকতার মায়াজালে দেখতে সুন্দর 
মুশকিল আসান নয় কিছুতেই, 
ফুলদানিতে সাজানো কাগজের ফুলগুলি 
সতেজ ,সুগন্ধি ম ম সুবাসেই।

'কানা কে কানা,' 'খোঁড়া কে খোঁড়া' বলিও না 
তাদের মনে যে বড় কষ্ট হয়, 
যা দেখতে বা শুনতে পাচ্ছো ,মেনে নাও 
না হলেই জীবন যাতনাময়।

যত পারো মানত করো ,পাবে সফলতা 
দান দক্ষিণায় না কোন কার্পণ্য,
খুলে -'দাও'  সবে 'পেটে খেলে পিঠে সয়' 
উপরওয়ালার জুটবে যে পুণ্য।

'ঠগ বাঁছতে গাঁ উজাড়' ভন্ডামি অধিকার 
বাহ! কি সুন্দরই না ইন্দ্রজাল,
'অসহায় সততা' আতঙ্কে, নয় কারাগারে 
জুটছে মার বা পুড়ছে কপাল।

দুনিয়াকে থোড়া ভয় পাই-- সুরজিৎ পাল

 দুনিয়াকে থোড়া ভয় পাই।
 সুরজিৎ পাল 
 ২২.৮.২০২৫
কি বোঝায় আহত হৃদয়,
কেনো বারেবারে আঘাত পায়।
কেউতো একটু খোঁজ নিতে পারত - 
বেদনার  কারণ জানার চেষ্টা করতো?
মানসিক বৈকল্য,হৃদয়ে জাগ্রত, 
 অসংখ্য যন্ত্রণার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুভূতি ফুটন্ত।
লোকে বলে -
অসংলগ্ন কথা বকে বাচাল-
তাইতো ওরা বলে পাগল ,
বকে যায় বাধাহীন অনর্গল।
ভাগ্যের মার হতাশা গিলে কারাগারে পুড়লো,
ঈপ্সিত নির্দয় হয়ে গেল,
ফুল ফোটার আগে ভাড়ে ডাল ভাঙ্গাল ।
চোখে রঙিন স্বপ্নের সমাহার-
হলো ধূসর, চোখে পড়লো গভীর ছানি,
খুশি গুলোকে দিয়েছি আহুতি,
যদি ফোটে বাঁশ ফুল -
গায়ে মাখি বিভূতি।
হিমালয় পর্বত হবে গন্তব্য,
অনেকের গলায় থাকবে মন্তব্য।
যাত্রার আগে ফলের থালা হাতে সুজাতা,
পায়েস বিসর্জিত ডাস্টবিনে, সমর্পিত নকুল দানা সঙ্গে চিরতা।
তুমিই ছিলে আমার মুক্তিকামী পূর্ণিমার চন্দ্র ,
আজ তুমি পরিবর্তনের অস্তগামী সূর্য।
ভেবেছিলাম পাব হৃদয়ে স্থান,
পেলাম বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ক্লিষ্ট প্রাণ।
প্রথম পদক্ষেপে হোঁচট খাই,
মুখ ঘুরিয়ে বলে গেলে বাই বাই।
সন্যাসী হয়ে হিমালয়ে যাই,
বুদ্ধ যদি না হই হবো সত্য সাঁই।
এখন আমি স্বাধীন,
কাকুতি,মিনতি আওয়াজ কানে শুনি - প্রচারক আমি,
দুনিয়াকে থোড়াই ভয় পাই।

পারবো তোমায় দিতে -- প্রীতি

পারবো তোমায় দিতে
 প্রীতি 
22/08/25
 পারবো তোমায় দিতে -
 কাঙ্খিত মায়াবী সেই সোনা ঝরা 
 আলোর সকাল ,
 যেখানে আমার শ্বাস প্রশ্বাসে -
 সদা জাগে গোপন সেই জ্যোতি প্রবাল।
 তুমি যদি হও নির্জন, নিস্তব্ধ 
 রাতের ধ্রুবতারা,
 আমি হবো চুম্বনের আলো -
 জাগ্রত- অচেনা চেতনার ধারা।
 তুমি যদি হও শরতের দূত-
 সাদা কাশফুলের তরঙ্গ দোলা,
 আমি হবো নদী তব , যে কূলে বাঁধা রবে 
 চিরকাল জীবনের ভেলা।
 তুমি যদি হও নিবিড় বনানীর 
 নিখাঁদ নির্জন সুবাসিত সোভা,
 আমি তখন মনোলোভা -
মলয় পবন হয়ে মিশে যাব অঙ্গে তব-
 নীরবে নিভৃতে জ্বেলে দিতে অন্তরে প্রভা।
 তুমি যদি হও আমার জ্বলন্ত সূর্যের -
 বাসনার অন্তর্লীন দীপ্তি ,
 আমি তবছায়া হয়ে , দেহে তব রেখে যাবো -
 আশ্রিত স্মৃতির তৃপ্তি।
 তুমি যদি হও শেষে ভোরের শিশির সম
 স্বচ্ছতার প্রকাশ, আর -
 তখনো রয় যদি অশ্রু বিষে নীল!
 আমি তবে ঠোঁট হয়ে চুম্বনে মুছে দেবো -
 প্রতিটি বিষাক্ত আবিল।
 প্রেম যদি হয় সময়ের বাঁধন হারা -
 রূপকথার' কথা,
 তবে তুমি তার অর্থবহ দূত,
 আমি তবে তার বহু প্রতীক্ষার নিরলস -
 সার শ্রোতা।
 শুন্যতার বুকে বুনবো এবার -
 অদৃশ্য অনন্ত এক -
 অনন্যা জ্যোৎস্নার মায়াজাল,
 পারবো আমি, পারবো দিতে তোমায় -
 মায়াবী সেই সোনালী সকাল ।

Thursday, August 21, 2025

আইনানুগ হনন -- ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ

আইনানুগ হনন
ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ 
২১.৮.২০২৫
ট্রাম খুন হলো তার গুমটির জমি 
আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছিল বলে; 
বাসবন্দরের পায়ের তলার মাটিও দ্রুত বদলে যাচ্ছে সোনায়,
তাদের হয়ে যাচ্ছে সুচতুর হরণ
যন্ত্রণাযান সম্প্রদায়কে 
স্লো পয়জনিং করার কৌশলে...

কলকাতা চলে যাবে কিছুদিন পরে
একান্তই অটো টোটো
ফোতো মাফিয়াদের 
অক্টোপাস দখলে;
ভিক্টোরিয়ার অলিন্দে হবে 
বিখ্যাত কফিশপ:
তার পরী নেমে এসে 
অ্যাপ্রন পরে 
খদ্দের ধরে ধরে 
করবে পরিবেশন
সুগন্ধি কফি,হ্যামবার্গার,
পিৎজা আর মাটন চপ,
আবিল উচ্ছিষ্টে ভরে যায় ক্রমশঃ 
বাংলা মায়ের ময়লা আঁচল

আর সব বাসস্টপ 
কমা,সেমিকোলন হতে হতে 
অবশেষে হবে চমৎকার নীল সাদা ফুলস্টপ

পারমিতা প্রতীক্ষার রোদ মাথায় নিয়ে 
এ নষ্ট শহরে 
দাঁড়িয়ে থাকবে কোথায়?
পারমিতার মোনালিসা হাসি 
কি হবে বিপন্ন ইতিহাস?
থেকে যাবে শুধুই 
তিলোত্তমা কলকাতার
পাথরের মতো ভারী দীর্ঘশ্বাস?

তবুও আপাদমস্তক ক্ষতবিক্ষত কলকাতা 
জানে মনে মনে 
একদিন ভয়ের কাছে হার না মেনে 
অভয়াদের দিতে সুবিচার 
ছিঁড়ে ফেলে আছে যত
সন্ত্রাসের শেকল লাগাতার
আগামী সব দিন,সব রাত 
নতুন এক তরুণ মেধাবী কলকাতাই করবে দখল...

গভীর রাতে
পারমিতা একা একা আসবে ময়দানে নিশিভ্রমণে,  
আকাশভরা নক্ষত্রদের সাথে হবে তখন 
তার নির্ভীক কথোপকথন...

হোক না এ এক নির্লজ্জ অনৃতকথন!

Wednesday, August 20, 2025

নব্য এক প্রেম কাব্য! বিনয়ব্রত ভট্টাচার্য্য

 নব্য এক প্রেম কাব্য!
 বিনয়ব্রত ভট্টাচার্য্য
 ১৯/০৮/২০২৫
কাল সারারাত দু'চোখের পাতা এক করতে পারিনি।
বাইরে টিপটিপ অবিশ্রান্ত শ্রাবণের ধারা বয়ে চলেছে একটানা অবিরাম!
মনটা কেমন যেন উদাস উতলা হয়ে গেলো!
পুরানো দিনের কিছু স্মৃতি মনের মাঝে উঠলো ভেসে।
শ্রাবণী রাতের ভেজা বাতাসেও হাসনুহানার সুগন্ধ নাকে এলো
সাপেরাও তো শুনেছি সৌগন্ধে উন্মাদ হয়ে যায় 
কামনায় উদ্বেল হয় বুঝি মিলনের তিয়াসে!
দলে দলে আসে তারা ছাতিম গাছে পতঙ্গের মত 
ছাতিম ফুলের উগ্র গন্ধে কেমন মাতোয়ারা হয়! 
এই অসরে তোমার প্রেমজ সুবাস যেন ভেসে এলো মনের দেউড়িতে।
অভিসারে,মিলন বাসরে, বুঝি হাতছানি দেয় অন্তরের বাসনা, কামনা!
আমার যত চিন্তা ভাবনা চেতনা কল্পনা সবই মিশে একাকার হয়ে যায়।
কালো মেঘপুঞ্জ আবৃত জলদাকীর্ণ আকাশের ব্যালকনিতে গিয়ে মেশে!
দিগন্তের ওই দূর সীমানায় এক গভীর চুম্বন এঁকে দেয়
নীলাকাশের অসীম অনন্ত মোলায়েম বুকের প্রশস্ত আঙিনায়!
শারীরিক কম্পনে যেন রিখটার স্কেলের সাত ডিগ্রী ভূকম্প হয়
অশান্ত এমন চিত্তে প্রশান্তি বিবর্জিত গভীর নিশিথে
ঘুমেরাও বুঝি ছুটি নিয়ে অচিন দেশে পাড়ি জমায়!
তোমার আমার হারিয়ে যাওয়া অমলিন প্রেম কাব্য
কালের গণ্ডি পেরিয়ে এসে মনের দেউড়ীতে আছড়ে পড়ে আবারও!
আমি বুঝি হারিয়ে যাই 
তোমাতে বিলীন হই!
যেন ভিক্টোরিয়ার স্বেত মর্মর পাষাণে খোদিত করি নব্য এক প্রেম কাব্য!

শিশুর বায়না -- হরষিত মজুমদার।

 শিশুর বায়না               
 হরষিত মজুমদার।           
 ২০.০৮.২০২৫
আবাসে দুটি দ্বার  যৌথ পরিবার 
      গ্রাম গাঁয়ে ওদের বাস,
করে উপার্জন      সব্জি চাষে মন
     রাখছে সাথে মাছ চাষ।

এসেছে শিশু কাছ কাটছে মায়ে মাছ
          বায়না মা'র গলা ধরে,
আকাশ পানে ঘুড়ি  চরকা হাতে বুড়ি
      কী আনন্দে খেলা করে?

দড়ি পেন্টুল পড়ে  আপন মনে করে
          গাঁয়ের পথে রথ চাকা,
ঘুরছে ফেরিয়ালা মায়ের কানে তালা
           বায়না শুধু দুটি টাকা।

এগোবে যত দিন   শ্রদ্ধা হবে ক্ষীন
         রুক্ষ হবে নারী টোন,
গল্প কথা বলে সেদিন গেছে চলে
      শিশু চাইছে মুঠি ফোন।

স্বার্থ হবে বড়ো    উপার্জন করো
          সুশিক্ষায় নয় মন,     
শৈশব যে ম্লান   শিক্ষার কী প্লান
     ন্যায়,নীতিহীন জীবন।

মাঞ্জা ঘুড়ি নয়  ওড়ালে আছে ভয়
          কার্টুন দেখাই ভালো,
একটি সন্তান     হবেন বিদ্যান 
           নম্বর পেলেই আলো।      

নীতির কৌশল  বেকারত্বে ছল 
     শিশুর ভবিষ্যৎ খল,
লেখাপড়া দরদ  নম্বরে মরদ
     ওরা হারায় মনোবল।

ঠাম্মা দাদু নাই     বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই 
      কে শেখাবে ন্যায় নীতি, 
টিভিতে ওরা দেখে শৈশবেতে শেখে
         চাকরি বেচার দুর্নীতি।

অরাজকতার করো অবসান -- আশীষ কুমার রায়

অরাজকতার করো অবসান
আশীষ কুমার রায়
২০/০৮/২০২৫
এবার নাকি মাগো তুমি আসছো গজে ,এর ফল জানিনা  শুভ নাকি অশুভ হয়, 
শুভ যা কিছু ছিল হারিয়েছি কবেই, তাই  আর আমাদের অকল্যাণের নেই কোন ভয়। 
যে বাহনেই আসো না মাগো,আমরা মনেপ্রাণে চাই আসো তুমি এবার তোমার প্রলয় রুপ ধরে, 
সমাজের যারা অনিষ্টকারী,সমাজের করছে কল্যাণ হরণ, তাদের বিনাশ করে তবেই ফিরো মাগো কৈলাসে শ্বশুর ঘরে।
এখন মাগো তোমার পূজায় আর সেই ভক্তি শ্রদ্ধা নেই,শুধুমাত্র রয়েছে বাহ্যিক আড়ম্বর, 
যখন সবাই উৎসবে মাতে,কত বাচ্চাদের দেখি বস্ত্রাভাবে, পথে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে হয়ে দিগম্বর। 
এখন মাগো উপাসনা করে নয়,শ্রদ্ধাহীন জাঁকজমকের সাথে তোমায় ওরা করে  বরণ,
ঘরের রক্ত মাংসে গড়া দূর্গা কে অবহেলা করে, রাতে কোনো অসহায় দূর্গা কে পেলে নির্দ্ধিধায় করে তার আব্রু হনন। 
সাবেকি প্যান্ডেল হয়না যে মা  আর, থিমের মন্ডপ হয়,দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়, 
তোমার প্রতিমায় করজোড়ে প্রণাম করার আগেই,একরকম ঘাড় ধরে বের করে দেয়। 
এখন পূজো হয়, চাঁদার নামে জুলুমবাজির টাকা আর অনুদানের অর্থে, 
মন্দ হত কি, যদি পূজোয় নয়,অনুদানের ওই টাকা খরচ হতো ওই পথশিশুদের স্বার্থে। 
চাই না মাগো এমন জাঁকজমক পূজো, চাই না এমন আড়ম্বর, 
কি লাভ এসব জৌলুসের,যেখানে যোগদান নেই, আপামর জনতার। 
তাইতো মাগো তোমার কাছে করছি মোরা এই নিবেদন, 
মাগো এই মানুষ রুপি অসুরদের বিনাশ করে, এই অরাজকতার করো অবসান।

Monday, August 18, 2025

অদৃশ্য রেজিস্টার -- সাধন কর্মকার

 অদৃশ্য রেজিস্টার ৪
 সাধন কর্মকার
 ১৮/০৮/২৫
অদেখা সিঁড়িঘর

নিচে নামতে থাকি,
কোনো শেষ পাওয়া যায় না।
ধাপে ধাপে শূন্যতায় নামি,
যেখানে আলোও পৌঁছায় না।
হয়তো এই সিঁড়িঘরেই
রাখা আছে নামহীনদের
শেষ হিসাব।

নীরব পতাকা

খুঁটির মাথায় পতাকা নেই,
তবু বাতাসে নড়ে ওঠে কাপড়ের মতো।
কারা যেন অদৃশ্য হাতে
ধরে আছে গর্বের চিহ্ন।
হয়তো তাদের জন্যই
জাতির ইতিহাসে
অদৃশ্য পাতাগুলো জ্বলজ্বল করে।

হারানো ঢেউ

নদী শুকিয়ে গেছে বহু আগে,
তবু কানে বাজে ঢেউয়ের শব্দ।
জল নেই, তবু স্রোত আছে—
অদৃশ্য ধারায় বয়ে চলে।
হয়তো স্মৃতিই নদী হয়ে
চিরকাল বয়ে যায়
আমাদের ভেতরে।

 ফাঁকা সমাধি

শিলালিপি নেই, নামও নেই,
কেবল ঘাসে ঢাকা এক ঢিবি।
তবু মনে হয় এখানে শুয়ে আছেন কেউ।
কোনো ইতিহাস লিখে রাখেনি তাকে,
তবু অদৃশ্য রেজিস্টারে
তার নামই হয়তো
সবচেয়ে উজ্জ্বল।

অচেনা মুখোশ

মেলা শেষ হয়ে গেছে,
তবু পড়ে আছে এক মুখোশ।
চোখের ফাঁক দিয়ে
অচেনা দৃষ্টি তাকায় স্থির।
হয়তো যে মুখ আমরা
কখনো দেখিনি,
সে-ই মুখোশে বেঁচে আছে।

 নিভে যাওয়া আগুন

চুল্লি ঠান্ডা,
কোনো ধোঁয়া নেই।
তবু গন্ধে ভরে আছে ঘর।
হয়তো আগুনটা
অদৃশ্য হয়ে গিয়েও
রেখে গেছে নিজের উষ্ণতা
স্মৃতির মতো।

 শূন্য আসন

সভা শেষ,
সবাই চলে গেছে।
কেবল একটি আসন ফাঁকা রয়ে গেল—
যেন কারো জন্য রেখে দেওয়া।
হয়তো সেই অনুপস্থিতিই
সবচেয়ে বড় উপস্থিতি
এই পৃথিবীতে।

নিখোঁজ ছায়াপথ

আকাশে তারার অভাব নেই,
তবু একেক রাতে দেখি
অচেনা অন্ধকার লাইন।
মনে হয় সে-ই হারানো ছায়াপথ,
যেখানে তারারা লুকিয়ে রাখে
নিজেদের নিস্তব্ধ নাম।

অদৃশ্য পাল

নৌকা আছে, দাঁড় আছে,
কিন্তু পাল নেই কোথাও।
তবু বাতাস বইলে
নৌকা ভেসে যায় দূরে।
হয়তো সেই অদৃশ্য পালই
জীবনের যাত্রাকে
অজানার দিকে ঠেলে দেয়।

ফেলে আসা বাগান

যে বাগান ভেঙে গেছে বহু আগে,
আজো তার গন্ধ ভেসে আসে।
কোনো ফুল নেই, কোনো পাতা নেই,
তবু মনে হয়—
সেখানে বসে আছে কেউ,
আমাদের ডাকছে নিঃশব্দে।

অন্তর্লিখন

সব লেখা মুছে ফেলার পরও
পাতায় থেকে যায় হালকা দাগ।
কালি মুছে গেলেও
চোখে পড়ে অদৃশ্য অক্ষর।
হয়তো সেই অক্ষরগুলোই
প্রমাণ দেয়—
কিছু লেখা কখনো মুছে যায় না।

Sunday, August 17, 2025

জন্মাষ্টমী -- কাইউম আজাদ

জন্মাষ্টমী
কাইউম আজাদ 
১৬/০৮/২০২৫ 
​গভীর রাতের আঁধারে যখন সবাই ঘুমায়,
কারাগারের লৌহদণ্ড সেদিন থর থর কাঁপে।
দেবকী মাতার চোখে তখন আনন্দ আর ভয়,
মমতার বাঁধনে পুত্রকে তিনি আগলে রাখেন।

​কংসের হুকুম, শিশুর জন্ম যেন না হয়,
ভয়ে ভয়ে প্রহর কাটে, দেবকীর অশ্রু ঝরে।
হঠাৎ এক অলৌকিক আলোয় ভরে ওঠে সব,
আকাশে গর্জন, বৃষ্টি নামে অবিরাম, ঝড়ে।

​বাসুদেব কোলে নিয়ে যমুনা পার হন,
ফণা তুলে নাগরাজ পথ করে দেয়,
বাতাসে আনন্দের সুগন্ধ ভেসে আসে,
বৃন্দাবন আজ জেগে ওঠে নতুন করে।

​গোয়ালে জন্ম নিলেন নন্দের দুলাল,
মা যশোদা হাসে, দেখে তার মুখ।
বাঁশি বাজায় গোয়ালিনীরা, নাচে তালে তালে,
আনন্দধারায় ভরে ওঠে সবার বুক।

​কালো মেঘের মতো তার সুন্দর কেশ,
শ্যামলা বরণে মন ভরে যায়,
চঞ্চল পায়ে ঘুরে বেড়ায় বনে,
গরুর পালে দুষ্টুমি করে হাসে।

​ননী চুরি করে খায়, রাধা হাসে তার রূপে,
গোপিনীরা ছুটে আসে, দেখে তার মুখ।
রাধার মনের দুঃখ দূর করে দেয় সে,
সবাই তার রূপে মুগ্ধ, সবাই খুশি।

​এই দিনে জন্ম নিলেন তিনি,
জীবনের আলো নিয়ে এলেন পৃথিবীতে।
জন্মাষ্টমীর এই দিনে প্রার্থনা করি,
শান্তি আসুক সবার জীবনে।

জেগে ওঠো মহাকাল -- সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ

জেগে ওঠো মহাকাল
সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ
17/08/25

স্বাধীনতা এসেছে অনেক রক্তের বিনিময়ে
বহু বিপ্লবীর ত্যাগে,মুক্তির উচ্ছ্বাসে জয়ে,
সেই স্বাধীনতা আমাদের কাঙ্খিত ভালোবাসা
কোটি দেশবাসীর জীবনের একমুঠো আশা।

স্বাধীনতা তাই প্রবীণের সুখ,নবীনের প্রেরণা
পথ চলতে জীবনমন্ত্র একতার বন্ধন চেতনা,
স্বাধীনতা তোমার আমার পরম জীবন স্পন্দন
স্বাধীনতা সম্প্রীতির রাখীবাঁধা হাতে মেলবন্ধন।

তবু এদেশে ভিখারীরা খুচরো কয়েনে জেরবার
কান পেতে শুনি কোটি বেকারের যত হাহাকার,
স্বাধীন দেশ ,তবু টাকাতেই যত প্রতিভার দাম
দুবেলা দুমুঠোর জন্য রোজ ফেলে মাথার ঘাম।

একদেশ দুই ছবি-স্বাধীন দেশে কেন দেখি আজ
নির্মমতায় হানে শোষণ চাবুক,ছেড়ে সব লাজ?
অন্ন চাই,প্রাণ চাই-হাহাকারে ভরে ওঠে দশদিক
বিপথে কেন  চলে দেশ,ভুলকে বানিয়ে ঠিক?

ত্রিশূল হানো,বিপ্লব আনো-জাগো মহাকাল
বাজাও মাদল সৃস্টির সুখে-ধরো দেশের হাল,
সমাজের কোণে,স্বার্থের ধ্যানে মগ্ন আছে যারা
ধ্বংসবিষাণে,প্রলয়মাতনে ভাঙো আঁধার কারা।

জাগো মহাকাল জাগো,পোড়াও কুবেরপুরী
যক্ষের ধনে লাগাও আগুন তাণ্ডব নাচ ধরি,
সৃস্টি-ধ্বংস মাতনে সব শয়তান হোক বেহাল
মানুষের মাঝে এ দূর্দিনে,জেগে ওঠো মহাকাল।

Friday, August 15, 2025

স্বাধীনতা তুমি কার -- রণজিৎ হালদার

স্বাধীনতা তুমি কার
 রণজিৎ হালদার
 ১৫/০৮/২০২৫
সত্তর পার করে আশির ঘরে,
স্বাধীনতা আছে বিরাজ ক'রে।
চারিদিকে কেনো হাহাকার ! 
প্রশ্ন, স্বাধীনতা তুমি কার?

বিনয় বাদল দীনেশ বাঘা যতীন,
সূর্য্য প্রফুল্ল ক্ষুদিরাম বারীন।
লড়াই সংগ্রাম হাতে হাতিয়ার,
স্বাধীনতা বলো তুমি কার ?

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সিংহাসন,
আজ দখলের জন্য নেক্কার নির্বাচন।
ফন্দি,ক্ষমতা আর অর্থ কামাবার,
স্বাধীনতা আজ তুমি কার ?

সাধারণ মানুষ নয়তো স্বাধীন,
পরাধীন সেই দাস দাসত্বাধীন।
ভেঙ্গেচুরে লৌহ কপাট যার 
স্বাধীনতা বলো তুমি কার ?

দিক দিগন্তে চলে পতাকা উত্তোলন, 
ছোট বড়ো সবাই মানুষ তো সাধারণ। 
করজোড়ে নতমস্তকে করি নমস্কার,
বলো স্বাধীনতা তুমি আজ কার ?

Thursday, August 14, 2025

ফিরে এসো -- শচীদুলাল দাস

  ফিরে এসো 
  শচীদুলাল দাস
   14.08.2025.
আমার ছিল না কিছুই 
ভালোবেসে তোমাকে দেওয়ার 
ছিল এক নির্জন রাত 
ছিল ভোরের বাতাসের সুগন্ধি সুবাস 
আর ছিল হৃদয়ের জমানো ব্যথা 
ছিল শুধু তপ্ত আকাশ অশ্রু মেঘো ভার 

তোমাকে দেওয়ার জন্য সঞ্চিত করেছি শুধু 
কুড়িয়ে আনা ব্যাথার ফসল 
কুড়িয়েছি কিছু ফুল শিশিরে ভিজেছে যারা 
রাতের স্বপ্ন নিয়ে জেগে ছিল তারা 
সঞ্চয় করেছি হৃদয নিংড়ানো মধু 

উপোসী রাতের মত চেয়ে থাকি একা একা 
নিদ্রা গিয়েছে হারায়ে
উপবাসি মনের পূজারী তুমি প্রিয়তমা 
আমার এ সঞ্চয় সবতোমারই 

ফিরে এসো এসো ফিরে 
এ হৃদয় ভরে যাক ফুলের সুবাসে 
সব তারা ডুবে গেছে চাঁদের স্বপ্ন দেখে 
শীতের শুকনো হৃদয় ধুঁকে মরে 
বসন্তের বাসনা নিয়ে

চলো, তাড়াতাড়ি চল -- দিলীপ ঘোষ

চলো, তাড়াতাড়ি চলো
দিলীপ ঘোষ
১৪/০৮/২৫
চলো, তাড়াতাড়ি চলো
রাত হলো
অমাবস্যার অন্ধকার নেমেছে
জ্বালতে হবে আলো, 
চলো, তাড়াতাড়ি চলো। 

ন্যায়বিচার আদায় করতে
লোহার প্রাচীর ভাঙতে হবে
একতার হাতুড়ি মাথায় মারতে
রাত দখল করতে হবে, 
চলো, তাড়াতাড়ি চলো। 

অন্যায়ের প্রতিবাদে, প্রতিরোধে
একসাথে
শয়তানের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে
আজ রাতে
রাত ও রাস্তার দখল নিতে, 
চলো, তাড়াতাড়ি চলো। 

হক পাওনার স্বাধীনতা চাই
সেই অভিমুখে
আজ রাত বারোটায় জাতীয় পতাকা হবে তুলতে
সব ভেদাভেদ ভুলে, ভাসিয়ে জলে
চলো, তাড়াতাড়ি চলো
রাত ও রাস্তার দখল নিতে।

Wednesday, August 13, 2025

পরিশ্রমের বিকল্প নেই -- কার্তিক দেবনাথ

 পরিশ্রমের বিকল্প নেই।
 কার্তিক দেবনাথ
 ১৩-০৮-২০২৫ ইং

মনে থাকলে প্রবল বিশ্বাস,
              প্রথমবারে সফল না হলে,
কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়
                 কখনো যায় না বিফলে।

দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে 
             প্রতিকারের উদ্যোগ নেবে,
সঠিক ভাবে দূর করতে পারলে
                   সফল তুমি হবেই হবে।

জীবন মানেই যুদ্ধ আর
                    আশায় যোগায় শক্তি,
চেষ্টায় আসে সফলতা,
         তেমনি বিশ্বাসে মিলায় মুক্তি।

হাল না ছেড়ে কর কাক চেষ্টা
               বক ধ্যান কর নিজ পক্ষে,
তোমার চেষ্টা, তোমার বিশ্বাসেই
             পৌঁছে যাবে সঠিক লক্ষ্যে।

অন্যের কাছে কেঁদে ভাসালে বুক,
       সান্ত্বনার স্থলে করবে অপমান,
মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে
      তারাই করবে তোমার গুণগান।

পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই
            সফলতার দিশা খুঁজে নাও,
কষ্ট করে সফল হয়ে
         তাদেরকে উচিত শিক্ষা দাও।

দক্ষতা আসে অভিজ্ঞতা থেকে
             অভিজ্ঞতার জন্ম ব্যর্থতায়,
ব্যর্থতা জীবনের আশির্বাদ, 
              তার থেকেই সাফল্য পায়।

    

ছায়া -- রবীন্দ্র নাথ মন্ডল

ছায়া 
রবীন্দ্র নাথ মন্ডল
১৩/৮/২৫

ছায়ার খোঁজে বেরিয়েছি।‘একটু ছায়া দেবে গো কেউ,?

একটু স্নিগ্ধ ছায়া?

বুমেডাং হয়ে ফিরে আসছে আমার কাতর আকুতি। আক্ষেপ,অনুতাপের ঝড় বইছে।বেঁচে থাকা আর মরার এখন আর যেন কোন পৃথক সত্ত্বা নাই।বাড়ির পাশে দিঘিটার জল শুকিয়ে গেছে।আর্তনাদ করে সে ক্লান্ত।সে এখন ফুটিফাটা।পাঁক আর আবর্জনাপূর্ণ।বুকফাটা কান্না মেখে একফোঁটা বৃষ্টির প্রতীক্ষায় হা-পিত্যেশ করে আকাশের পানে তাকিয়ে আছে।পাড়ের বটগাছটা কবে যে বিনাশের বাড়ি গেছে মনে পড়ে না।শৈশবে দেখেছি বটগাছটায় কত পাখি আসতো।সর্বদাই থাকতো রমরমা। কোলাহলময়।ছিলো স্নিগ্ধ মিষ্টি ছায়া।এখন পাখিও নেই কূজনও নেই।

অতিষ্ঠতার প্রমোটার দখল নিয়েছে বাড়ি।মরুভূমি এসেছে উঠোনে মরীচিকাকে সঙ্গে নিয়ে।কোথাও একফোঁটা ছায়া নেই।কাঠ ফাটারোদ।শুধুই পিপাসা।কোথায় আছে ছায়া?

দুর্ভিক্ষ।কে দেবে ছায়া?

Tuesday, August 12, 2025

হে মৃত্যুঞ্জয়ী বীর -- মধুসূদন সূত্রধর

হে মৃত্যুঞ্জয়ী বীর 
মধুসূদন সূত্রধর 
১১/০৮/২০২৫
অগ্নি যুগের অগ্নি শিশু মৃত্যুঞ্জয়ী বীর 
নাম যে তার মহান ভারতে ক্ষুদিরাম 

হাসি মুখে নিল মোর একদিন ফাঁসি 
বাংলার মেদনিপুর হলো তার ধাম।

সবুজ জোয়ান ফুলের কুঁড়ি 
যেন ভোর আকাশের এক উজ্জ্বল রবি 
মায়া ভরা চোখ হাসি ভরা মুখ 
মহান ভারতে এক উজ্জ্বল গর্বের ছবি।

দেশ মাতৃকার গর্বের সন্তান 
বুঝল সে ওগো মায়ের ব্যথা 
মায়ের মুক্তি,ঘুচাতে সে তায় 
চললো লড়ায়ে শুনলো না কোন কথা।

মায়ের মুক্তি সংকল্প স্বপ্ন তার 
চাই সে দেশের স্বাধীনতা 
সব ফেলে তাই নামলো রনে 
ঘোচাতে দেশের পরাধীনতা।

চলছে তখন ব্রিটিশ শাসন দেশে পিশাচ ইংরেজ হয় যে দেশের রাজা 
মায়ের মুক্তির স্বপ্ন চোখে মুখে 
চাই সেদিতে অত্যাচারীর সাজা।

নির্মম শাসন চালাই ইংরেজ 
সহ্য করে বুক পেতে সব দেশ যে পরাধীন 
দেশ মাতার তাই চাই সে মুক্তি 
নিল সে শপথ অগ্নি মন্ত্রে করবে গো দেশ স্বাধীন।

ভীষন গো তার ছিল যে সাহস 
ছিল যে আগুন তেজা 
দেশ মাতৃকার করতে মুক্তি 
চোখ ছিল তার ভেজা।

সিংহের মতন তেজ ছিল তার 
বুকে যে আগুন ছিল 
দেশ মাতৃকার করতে মুক্তি 
প্রাণ বলিদান দিল।

ব্রিটিশ যখন হয় হিংস্রক 
অত্যাচার যায় বেড়ে 
সকাল বিকাল রাত গো দুপুর 
আসতো ব্রিটিশ তেড়ে।

দেখলে ব্রিটিশ উঠতো ক্ষেপে 
জ্বলতো আগুন বুকে 
মনের মধ্যে করতো ছটফট 
করতো সহ্য দুখে।

বুকে ভরা তার ছিল যে মন্ত্র 
হাতে ছিল তার বোমা 
একতারার সুর গাইলো একদিন 
দে রে বিদায় দে ও মা।

তাইতো একদিন যায় বেড়িয়ে 
যোগ দেয় বিপ্লব ঘরে 
অগ্নি মন্ত্রে নেয় সে প্রাণে দীক্ষা 
দেশ স্বাধীনের তরে।

অত্যাচার শাসক কিংসফোর্ড কে 
মারতে সে একদিন গেল 
বোম মেরে মোর পড়লো ধরা 
জেলেতে সে ঠাঁই পেল।

কলের বোমা, সে মারলো ছুঁড়ে 
মরলো গো তাজা প্রাণ 
ফাঁসির দড়ি সে গলায় পরে 
দিল প্রাণ বলি দান।

চললো বিচার দুখ নাই তার মনে শুধু ব্যথা দেয় যে নারা 
অত্যাচারী কিংস্ফোর্ড কে তার 
আর যে হলো না মারা।

সব আইন তার ছিল মোর পাশে 
নেয়নি সে কোন দান 
দেশ মাতৃকার মুক্তির তরে 
দিল সে ফাঁসিতে প্রাণ।

কাদের গো তুমি, মারতে গেলে 
মারলে যে বোমা তুমি 
চেয়ে দেখে মোর স্বাধীন দেশ আজ 
যেন গো নরক ভূমি।

ব্রিটিশ যেন আজ এদের রক্তে 
আছে ওগো মোর মিশে 
দেশটা কে আজ খাচ্ছে ছিঁড়ে 
মানুষ গুলি কে সব পিশে।

হে মহা প্রাণ, মৃত্যুঞ্জয়ী বীর 
লহ গো প্রণাম 
যুগ হতে যুগ যুগান্তরে থাকবে তুমি 
বাঙালির হৃদয় অন্তরে 
হে অগ্নি শিশু মৃত্যুঞ্জয়ী বীর ক্ষুদিরাম।

শহীদ ক্ষুদিরাম -- বনানী সাহা


  শহীদ ক্ষুদিরাম 
  বনানী সাহা 
  ১১-০৮-২০২৫
বৃথা যায় নি তোমার আত্ম বলিদান ,
ফাঁসির মঞ্চে প্রথম শহীদ অমর ক্ষুদিরাম !
দেশ হয়েছে স্বাধীন আজ ;স্বার্থক বলিদান ,
ফাঁসির মঞ্চে প্রথম শহীদ অমর ক্ষুদিরাম !

দেশকে ভালোবাসা অপরাধ ছিল যার,
ফাঁসির মঞ্চে শহীদ হল তাই তো ক্ষুদিরাম !
সবাই এলো তোমায় দেখে ,এগিয়ে এই পথে।
দেশ পেলো তাই স্বাধীনতা, শহীদ  ক্ষুদিরাম ।

চির তরুণ, চির নবীন, তুমি নির্ভীক ক্ষুদিরাম !
ভারত মাতার গর্বের আর যোগ্য বীর সন্তান ।
ফাঁসির মঞ্চে কাঁপেনি বুক, মৃত্যুঞ্জয়ী তুমি !
আমাদের দিলে স্বাধীন দেশ ,তোমায় প্রণমি ।

দেশের প্রতি ভালোবাসার তুমি নজির গড়লে!
"বন্দে মাতরম" ধ্বনিতে হাসি মুখে চলে গেলে !
তুচ্ছ জীবন তোমার কাছে ,লুটায় পায়ের কাছে!
মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে, মুকুট হয়ে শোভিছে!

তোমার কী কভু ছিল না ভয় জীবন হারাবার?
ভয় ছিল না মৃত্যুর কিংবা কষ্টের কারাগার?
"হাসি হাসি পড়লে ফাঁসি "দেখলো ভারতবাসী !
এসো ফিরে বারে বারে তুমি, দেশকে ভালোবাসি ।

ধর্ম ও জিরাফ -- নিবারণ চন্দ্র দাস

ধর্ম ও জিরাফ 
নিবারণ চন্দ্র দাস 
১২/০৮/২০২৫

এমন একটা ধর্ম খুঁজি 
  যেথায় কোন "ধর্ম" নেই,
কোথায় আছে এমন ধর্ম 
  খুঁজতে গিয়ে হারাই খেই।

কে ক্ষেপালো মুসলমানে,
  কে যে ক্ষেপায় হিন্দুদের?
সবখানেতেই গাঁজাখুরি 
  পাইনা একটা বিন্দু টের।

ভোটটা এলেই ধর্ম লড়াই 
  আমার সোনার এই দেশে,
ভাইয়ে ভাইয়ে লড়ায় কারা?
  দৃষ্টি ওদের একপেশে।

কে গড়েছে ধর্মক্ষেত্র 
  কর্মক্ষেত্র না গড়ে?
আমরা মরি জাতের ধুয়ায়,
  ফালতু 'জাত' লড়াই লড়ে।

কুরুক্ষেত্র কারবালা আর 
  ক্রুসেড যখন বারংবার,
ধর্ম জিগির জিইয়ে রাখার 
  সত্যি কি আছে দরকার?

সত্যি কথা বললে তোমায় 
  বেজার মুখে দেখতে পাই,
মিথ্যাবাদীর সত্যি ভাষণ 
  দেব বলে ভাবছি তাই।

নামাবলী,তাবিজ কবজ 
  মাথায় গায়ে বাঁধব কি?
টিকি দাড়ি তিলক কেটে 
  ঘুরব এবার, ছিঃ ছিঃ ছিঃ।
  
সবকিছুতেই খুঁজব ভালো 
  কালোর মাঝে অন্ধকার,
নইলে জানি চিরতরে 
  বন্ধ হবে মুক্ত দ্বার।
       

ভোরের আলো -- শেনিল ষন্নিগ্রহী

ভোরের আলো
শেনিল ষন্নিগ্রহী
12.08.2025
নৈশব্দের ভাঙে ঘুম-চুপকথা ভাষা পায়-পাখিদের গানে
কলরবে মুখরিত,জড়ত্বের অবসানে প্রভাতের আলো।
নীরবতা ভেঙে দেয়- আগমনে সুপ্রভাত স্পর্শে সব প্রাণে
নতুন আশার আলো- দিগন্তে ঊষার বেশ-মনে লাগে ভালো।
স্নিগ্ধতায় ভরা রূপ- প্রকৃতির অপরূপ শোভা চারিধার
বৃক্ষশাখে দোলা লাগে পবন দোলায় দোলে, দৃশ্য সুনয়নে।
নদী জল ছলছল বয়ে চলে অবিচল ধারা দুর্নিবার
অরন্যের বুক চিরে খুশির লহরী ছুটে সমুদ্র গমনে।

সুন্দরের আগমনে-ছিন্ন ভাষা আঁধারের ভূষামাখা রূপ
তরুণ প্রকৃতি মাঝে মুখরিত কোলাহল অপূর্ব প্রকাশ
সব জ্ঞান খুলে যায়- নতুনের ছোঁয়া পায় - শোভা অপরূপ।
ঊষা যেন শৈশবের অফুরন্ত আবেগের প্রাণের বিকাশ
ঘুম ঘুম চোখ জুড়ে-আলস্যের মুখ ভরে- মনেতে আলাপ
এ খেলায় দিননাথ পিতৃসম রূপে ছায় সমগ্র আকাশ।

Saturday, August 9, 2025

অতীত বাড়িয়ে দেয় হাত -- মধুসূদন সূত্রধর

অতীত বাড়িয়ে দেয় হাত
মধুসূদন সূত্রধর 
 ০২/৮/২০২৫,,
ভুলতে পারিনা অতীত,
অতীতের সাগর 
সমুদ্রের ঢেউ আষাঢ়ী বৃষ্টি,গঙ্গা যমুনা 
চম্পা চামেলী শিলং পর্বত 
ফেবিষ্টিক আঁঠার মত আছে গায়ে লেগে 
পারিনা ছাড়াতে তাদের সকাল বিকাল সাঁঝে,।
প্রেমের পানসী ভাসিয়ে নিয়ে 
আজও চলি অতীতের সাগরে 
সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে খেলি 
গোধূলি বিকেলে লুকোচুরি,
আষাঢ়ী বৃষ্টি গায়ে মেখে করি স্নান 
স্নেহময়ী জননীর মত গঙ্গা , 
গা থেকে মুছিয়ে দেয় ময়লা।
ঝর্নার সাথে হাত ধরে নাচি জলসায় 
তেড়ে খিটা তাতা ধিন ধিন তাতা 
থৈ থৈ তালে 
প্রিয় যমুনা নেয় যে টেনে বুকে ,
মুরলির সুর টেনে নেয় বিকেলে 
কদমের তলে, 
বসে কয় সুখ দুঃখের কথা 
গভীর রাতে খুঁজে পায় অভিসারিকা রাধিকার মত
একাকি পথ 
ডাকিনা কাউকে 
চলি বিড়ালের মত নিঃশব্দে,  ধরিনা কার ও হাত।

অতীতের কিছু দিন কিছু মাস 
কখনো কৃষ্ণচূড়া, কখনো 
রঙিন পলাশ 
কখনো চাঁদের জোছনার মত 
ছিল কিছু দিন সাঁঝারের আঁধারের
মতো 
 কখনওছিল মেঘের মতন কালো ,
কখনো ছিল জোনাক পোকার মত আলো ভরা, 
করতো যেন মস্তান মত ঘোরাফেরা। 

অতীত যেন জীবনের ধারাপাত 
জীবন দর্শন, কাব্য গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি
দাঁড়িয়ে কথা বলার স্বপ্নের তাজমহল, 
গড়ের মাঠে বসে চোখ মেলে একবার ভিক্টোরিয়ার দিকে তাকানো, 
স্বপ্নের বিছানা পাতার জন্য এক শক্ত মাটি।
অতীতের স্মৃতি গুলি জীবন পৃথিবীর যেন এক প্রাচীর, 
রেখেছে চার দিক থেকে ঘিরে
দিয়ে চলেছে প্রেরণা 
ভালোবাসা, মানবতার গান 
সব ছিল তারা এক নির্ভেজাল 
খাঁটি।

অতীত কখনো হয়ে যায় বাস্তবের মাটিতে 
স্বপ্নের হাত ছানি, 
ভাবে গোধূলি বিকেল, যেন এক 
বেড়ানোর স্বর্গ ।
সাগর মরুভূমি যেন ডুব দিতে ডাকে 
পাহাড়ী ঝর্ণা মত যেন ডাকে চোখের ইশারায় 
যেন ডাকে চাঁদের মত তার মুখের খিল খিল হাসি, 
ডাকে মনের বাগিচার ফুটে ওঠা গোলাপ গুলি 
প্রেমের হাত ছানি দিয়ে।
মন যেন ডুব দিতে চায় পিয়াসী 
প্রেমের মত 
স্বপ্নের পানসী তে ফিরে আসতে চায় হাত ধরে 
জোছনার আলোয় 
মিশে যেতে চায় অন্তরে অন্তরে 
সব আগাছলা লণ্ড ভন্ড হয়ে 
পড়ে আছে চারিদিকে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভুলে।
চায়না আর এ পথে হাঁটতে 
ভুল গুলি ফুল ভেবে কুড়িয়ে 
নিয়ে ভরি সাজিতে ।

অতীত পারিনি আজও ভুলতে 
শুধু মাত্র বর্তমান কে চেনার জন্য 
বেহুলার মত আজও চলেছি 
মড়া স্বামীর কঙ্কাল পুটুলিতে 
বেঁধে ভেসে,
পৌঁছাতে হবে স্বর্গে ফেরাতে হবে স্বামীর প্রাণ।
ছেঁড়া কেথার মত ছুঁচ সুতো দিয়ে সেলাই করে চলেছি 
একান্নবর্তী সংসার 
মাঝ খানে দুই ভাই তুলে দেয় প্রাচীর 
যেন ভারত পাকিস্তানের কিংবা 
ভারত বাংলা দেশের সীমান্তের 
কাঁটা তারের বেড়া।
বুকটা করে রেখেছি আজও 
বেঁচে থাকার জন্য 
শত পুত্র হারা গান্ধারীর মত,
ঘড়ির কাঁটার মত ঘুরে চলে 
জীবন ঘড়ির কাঁটা,
ডুবে চলে ধীরে ধীরে বেলা 
তবু মনে দৃঢ় বিশ্বাস 
সে ফিরবে,
তাইতো অহল্যার মত পাষাণ হয়ে রয়েছি পড়ে 
সাবিত্রীর মত কোমরে কাপড় জড়িয়ে 
করে চলেছি যমরাজের সঙ্গে যুদ্ধ ।
ভাবছি সব দেব ছেড়ে 
দেব বলে কি দেওয়া যায়,
উই ঢিপির ভিতরে দস্যু রত্নাকরের 
বাল্মীকি হওয়ার সাধনার মন্ত্র 
আসে ভেসে জীবন নদীর তীরে,
কিন্তু অতীত 
আমায় ছাড়ছে না, 
অসুররা,যেমন 
ছাড়েনি দেবতাদের পিছন 
গ্রহগুলি যেমন ছাড়েনা কক্ষপথ 
আকাশ যেমন ছাড়েনা চাঁদ 
শিয়াল যেমন ছাড়েনা মাংস,
ছাড়েনা ঠিক এই ভাবে অতীত আমাকে, 
চুম্বকের মত করে রেখেছে
আকর্ষণ।
কোন স্বপ্ন দেবে জীবনে সে উপহার 
লতা যেমন গাছ কে জড়িয়ে থাকে ধরে 
ভীষ্ম যেমন ধরে রেখেছে সংকল্প 
যুধিষ্ঠির যেমন ধরে রেখেছে সত্য 
ত্যাগ মহৎ আদর্শ 
শ্রীকৃষ্ণ যেমন তার বুকে ধরে রেখেছে নিখিল বিশ্ব জগৎ 
অন্তরে রেখেছে ধরে রাধা,
আমাকে রেখেছে আস্টে পিষ্টে 
ধরে 
জানিনা কবে পাব রেহাই
তার বাহু বন্ধন থেকে আলগা।


শেয়াল পন্ডিতের পাঠশালা -- অজিত কুমার রায়


শেয়াল পন্ডিতের পাঠশালা
অজিত কুমার রায় 
৮/৮/২০২৫
বৃষ্টি ঝরছে বালি রাস্তায়, ঠাকরুণ তলায়, পলাশের লাল পাপড়ি কেঁপে কেঁপে ওঠে।
বর্ষা শাল গজারির জঙ্গলে, বর্ষা স্মৃতির ঠোঁটে। 

কে কোথায় যায় বর্ষা জলে ভিজে! কোন ঠাকুরের যেন পুজো হবে ঋষি পাড়ায়। 
তাদের চামড়ার শিল্প চাপা পড়ে গেল সভ্যতায়!

এখন বুড়ো বয়সের পুরনো দিনের ছায়াছবিগুলো
দেখা, স্বর্ণযুগের গান শোনা। 
নতুন কর্মজীবীদের বৃষ্টি ভুলে সিঁড়ির ধাপ গোনা। 

ভাগ্যের কাঁধে হাত, ওরা ইলেকট্রিক ট্রেনে ছোটে,
নিভৃত বকুল মালতী ফোঁটা।
পেছনে বহুদূরে ইতিবৃত্ত, উৎস, সংস্কৃতিটা গোটা।

তেঁতুল গাছ ইতিহাস বলে, ভালো লাগা বাঁশঝাড়, 
কত না গল্পের শ্রাবণ আষাঢ়;
ডুবুডুবু স্বকীয় যা কিছু, রক্ত ধরেছে রক্তের ঘাড় ।

Friday, August 8, 2025

সূর্যের কলঙ্ক নেই -- ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ

সূর্যের কলঙ্ক নেই 
ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ 
০৮.৮.২০২৫
(বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্মরণে) 
কাশপ্রতিম সাদা চুল অমলিন সাদা হৃদয় 
এত সাদায় আশ্চর্য বাঙ্ময়  
যেন সাদা ধুতি পাঞ্জাবিতে 
স্বয়ং সূর্য নেমেছে লাল নিশান হাতে 
মিছিল নগরীর রাস্তায়... 

ধূ ধূ প্রান্তরে একাই জ্বলে 
শরীর মন দিয়ে রাখে জড়িয়ে 
শিল্পগর্ভিনী বাংলা মায়ের 
ভীতসন্ত্রস্ত উজ্জ্বল সম্ভাবনা!

একদিন পরিকল্পিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র 
পিছন থেকে টেনে দিল
আচমকা নির্মম ট্রিগার; 
ফিনকি দিয়ে ছড়িয়ে গেল সারা বাংলায়
এক নষ্ট ভ্রূণের
দুকূলপ্লাবী রক্তবান!
খুন হলো সেদিনই তার সাথে 
সেই নিষ্পাপ শুভ্রতার অসমসাহসী প্রাণ:
জাহ্ণবীর জল তখনই পাঁশুটে লাল!

তারপর থেকে শুধুই অন্ধকার আরো অন্ধকার! 
এক যুগোত্তর নিঃসীম শূন্যতার অসহ্য কাল! 

অবশেষে কালের প্রহরী  
থামিয়ে দিল নির্মমতায় 
কোনো এক বোবা ভোটার কার্ডের 
শেষ হৃদস্পন্দন!
 
তবুও সূর্য রয়েছে হৃদয়দিগন্তে 
চির শুভ্রতায় সমুজ্জ্বল 
আগেরই মতন...

Wednesday, August 6, 2025

তুমিহীন আমি রিক্ত -- তাপস কুমার বাগচী

তুমিহীন আমি রিক্ত
তাপস কুমার বাগচী
06/08/2025
তুমি যখন ছিলে কাছে, মনের বীণায় বাজতো আশার সুর। 
তুমি গিয়েছো দূরে চলে, হৃদয় তানপুরাতে  বাজে বিষাদের সুর। 
তুমি যখন ছিলে কাছে, প্রতিদিন জীবন আকাশে উঠতো সোনালি সূর্য। 
তুমি আজ অনেক দূরে, জীবন আকাশ থেকে অস্তমিত হয়েছে পূর্ণিমা চন্দ্র। 
চোখে ছিল সোনালি স্বপ্ন, মনে ছিল বিশ্বভুবন জয় করার বাসনা। 
তুমি যখন দিতে আমায় নিংড়ে তোমার হৃদয়ের উচ্ছাস,ভালবাসা। 
তুমি যখন ছিলে কাছে, প্রতিদিন পান করতাম তোমার অঙ্গ-মাখা স্নিগ্ধ সুধা। 
আজ তুমি অনেক দূরে, আমাকে পান করতে হয় ক্ষতিকারক কালহারিকা। 
হৃদয় কুড়ে কুড়ে খায় হতাশা, পারি না সইতে বিরহের জ্বালা। 
জীবনদীপ আমার নিভে যাবে, কাছে না আসলে তুমি, দূরের নীহারিকা।

শাওন ধারায়,নিজেকে হারাই -- সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ

শাওন ধারায়,নিজেকে হারাই
সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ
05/08/25
শাওনের বর্ষার মেঘমল্লারে ভাসে মন,
উদাসী আঁখিতে অপলকভাবে দেখি
ফেলে আসা ছবি এক জীবন বসন্তের।
ফাগুনে নয়নের আগুনে দৃষ্টি
হারিয়েছে পথ সেই কবে।
তারপর কত বসন্ত গেছে চলে,
মধুর কুহু ডাক শুনিনা আর শাখে,
শিশিরে ভেজা মাটি করে না আলিঙ্গন।
মধুময় স্মৃতি তাড়া করে আজও-
আবেগে হাতড়াই স্মৃতির নুড়ি পাথর।

আজ শাওনের ঝরো ঝরো বাদলদিনে
বর্ণহীন জলে এঁকে যাই ছবি অবিরাম,
হৃদয়ের খাঁজে গড়ে তুলি তাজমহল।
আকাশের মেঘপাহাড়ে খুঁজে পাই
অন্তরের শান্ত,নীরব প্রেমের সমাধি,
টুপটাপ শব্দে ভাসে তোমার চরণধ্বনী-
যেভাবে আগে দেখেছি তোমায় অভিসারে।
সবুজ পাতায়,বিকশিত ফুলে ফুলে
বৃষ্টির আলতো ছোঁয়ায় প্রেমের আলিঙ্গন,
ইতিহাসের ছেঁড়া পাতার মতো পদ্মপাতায়
বৃষ্টিফোঁটায় খুঁজে পাই সম্পর্কের বয়স।
মন বলে-আজ সারাদিন ঝরুক শাওনধারা
হারাই নিজেকে পুরনো,মধুর স্মৃতি রোমন্থনে
না পাওয়ার যন্ত্রণা ভুলে ভাসি কল্পলোকে।

ফি বছরের কান্না -- রামকৃষ্ণ পাল

 ফি বছরের কান্না
 রামকৃষ্ণ পাল 
 ০৫/০৮/২৫
ঝর ঝরিয়ে পড়ছে বৃষ্টি 
গড় গড়িয়ে পাহাড়, 
ছলাৎ করে ঢেউ এসে 
গিলছে নদীর পাড়।

ফি বছর আসে বারবার 
বাঁধভাঙ্গারই কান্না, 
প্রতিশ্রুতির বন্যা আসে 
সমাধানটি পান না।

জলে তোড়ে ভেসে গ্রাম 
আকাশ তলে ঘর ,
পাকা প্রাপ্তি খেয়ে নিয়েছে 
গরিবরাই রয় পর ।

কাজ দেখানো নাম করে 
বালির বস্তা দিয়ে, 
উদ্বাস্তু জীবনের কাহিনী
চিড়া মুড়ি খেয়ে ।

কুম্ভীরাশ্রূর হয় না অভাব 
অভাবটা স্বভাবের, 
খয়রাতির ঢাক পিটিয়েই
গল্প বৈতরণী পারের।

ফড়েরা সব থাকে মজায় 
অভাব তাদের নেই, 
গরিবেরা থাকে অন্ধকারে 
অস্তিত্বটা যেই সেই।

পাবে না তো প্রতিকার! -- প্রভাত চৌধুরী!

 পাবে না তো প্রতিকার! 
  প্রভাত চৌধুরী! 
  ০৬/০৮/২০২৫
বাঁধা গরু ছাড়া পেলে
বাগে আনা বড়ো দায়! 
পেটভরা ক্ষুধা নিয়ে-
যা দেখে সে তাই খায়! 

রাজনীতি করে যারা
কাটমানি বড়ো খায়।
ভাবে না সে আগুপিছু
টাকায় পিছনে ধায়।

শয়তান বেঁকে বসে-
পায় যদি ক্ষমতা! 
ভুলে যায় সবকিছু
স্নেহ, মায়া, মমতা! 

ভাড়া করা গুন্ডারা
ছুরি মারে, ঝরে খুন! 
ভাবে না সে একবারো
এটা তার বদগুন!!

স্বার্থের কীট যারা--
মকা পেলে একবার-
দংশনে বিষ ঢালে
পাবে না তো প্রতিকার!! 

উপায় এদের থেকে
দূরে থাকা দরকার! ।।

Sunday, August 3, 2025

অব্যক্ত ভবিষ্যৎ -- চন্দনা কুন্ডু

অব্যক্ত ভবিষ্যৎ 
চন্দনা কুন্ডু 
2.8.25
ভবিষ্যৎ পরলোক - এই সব নিয়ে কথা হচ্ছিল আমাদের দুজনের । আমার আর বৃদ্ধ মানুষটির ।
শ্রী অপূর্বকুমার হালদারের বড়ো অদ্ভুত লাগছিল 
বৃদ্ধ মানুষটিকে । কথাবার্তা কেমন যেন । তিনি বললেন, 'আমাদের মতো বুড়োদের দিন তো কোনো
রকমে শেষ হয়ে এল । এবার যত বিপর্যয় বাকি, 
সব তোমাদের সময়ে । সেই সব ধাযক্কা সামলানো খুব একটা সহজ হবে না, বুঝলে ?
আমাকে অবাক হতে দেখে মানুষটি বললেন,‌ 'তুমি 
হরপ্পা সভ্যতা দেখেছ ? কিংবা রোমের কলোসিয়াম,
অথবা ধর, ডোডো পাখি ? কিংবা ডাইনোসর ? 
তুতেনখামেন, ফারাও- সব....সব কিছু আজ হারিয়ে গিয়েছে, বুঝলে ? শুধুমাত্র আরশোলা ছাড়া 
তারাই একমাত্র মানিয়ে নিয়েছে সবকিছুর সঙ্গে ।
সামান্য নীরবতার শেষে বৃদ্ধ আবার বললেন,
'সব কিছুরই একটা এক্সপায়ার ডেট' আছে,
 বুঝলে ? আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাবে আমাদের 
নিজেদের মধ্যে সব সম্পর্ক, সমাজ, সংসার, বিশ্বাস!
তারপর, মানব -সভ্যতা । তারও পরে, মানুষ স্বয়ং ।
সব জনপদ ! এমনকি, জীবজন্তুও । এটাই ভবিতব্য তবে এই ইভোলিউশনের জন্য অনেক বছর সময় 
লাগবে, এটাই যা রক্ষে !
আমি ভাবলাম, একেকটা মানুষ কেমন যেন ' পেসিমিস্টিক' হয় । পার্কের বেঞ্চি থেকে উঠতে উঠতে ভাবলাম, এই সদ্য আলাপ হওয়া বৃদ্ধ মানুষটা বড্ডো ' নেগেটিভ ' ! আমি বৃদ্ধের কথাটা 
মানতে পারলাম না । কিছুতেই না ! 
আর তখনই আমার মোবাইলটা বেজে উঠল ।
ফোনে আমার ছোটো মাসি বলল , 'আজ বাবলুদের
ডিভোর্সের অর্ডারটা বেরিয়ে গেছে, বুঝলি ?
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে অন্ধকার নামল আমার চারদিকে ।

সে ফিরেনি— আর ফেরা হয়নি তদন্ত কমিটিও -- সাধন কর্মকার

  সে ফিরেনি— আর ফেরা হয়নি তদন্ত কমিটিও
  সাধন কর্মকার
   ০৩/০৮/২৫
তার নাম এখন শুধুই "নিখোঁজ"।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের সেই ঘরটা
তিনবার রঙ করা হয়েছে—
তবু দেয়ালের ছোপে রয়ে গেছে
তার পড়ে থাকা চশমার ছায়া।

সে শেষ এসেছিল লাইব্রেরি থেকে,
পড়ছিল 'রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ন্যায়বিচার'।
বন্ধু বলেছিল,
"ভালো করে পড়,
ক্লাস টেস্টে এইবার বাদ পড়বি না।"

সেই রাতেই
দুইজন পরিচয়হীন মানুষ
তাকে ডেকে নেয়।
ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ
দুদিন পর ‘দুর্ঘটনাবশত’ মুছে যায়।

পরদিন রেজিস্টার বললেন,
“ছেলেটা মাঝে মাঝে উগ্র হয়ে উঠতো।”
মা থানায় গেলে অফিসার প্রশ্ন করল,
“ছেলে কি পার্টি করতো?”
তার বাবা শুধু বলেছিলেন,
“সে শুধু কবিতা লিখত আর প্রশ্ন করত।”

তদন্ত কমিটি—
তিন মাসে তিনবার বসেছিল।
প্রতিবার একখানা ফাইলে লেখা হতো:
“তথ্য অপর্যাপ্ত। তদন্ত চলমান।”

পাঁচ বছর পর
ছেলেটির খাতা মিলেছিল
এক পুরনো হোস্টেল রুমের সিলিংয়ে—
সেখানে লেখা ছিল শেষ লাইনটি:
“প্রশ্ন করাই কি অপরাধ?”

বিপ্লব ঘরে ফিরে যাবে এবার -- অরুণ কুমার মহাপাত্র

বিপ্লব ঘরে ফিরে যাবে এবার 
অরুণ কুমার মহাপাত্র 
 ০৩/০৮/২০২৫
কিছুই করতে পারবে না তোমরা...
বিপ্লব মরে যাচ্ছে মাথা কুটে
ক্লান্তির প্রশান্তি নিয়ে ফিরে যাও তোমরা
দেখছো না , পরাজিত বিপ্লব কেমন হাহুতাশ করছে তোমাদের দোষে.… !
তোমরা এখনও শূন্য হতে  শেখনি
তুমি তুমি উন্মাদনায় এ তোমাদের
বিরক্তিকর উচ্ছাস  !
তোমাদের মুখ চেয়ে আমরা বহুকাল 
অপেক্ষায় ...
দিক ভুলে যাচ্ছো তোমরা
কিছু স্ফুলিঙ্গ ছিটিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেছ
এখন তোমরা
ইদানীং প্রেম আর বিপ্লব বড়ো অসহায়...
পাপের পরিধি ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে
ধর্মের সমান্তরালে....
তোমাদের দেখে মনে হয় বিপ্লব ঘরে
ফিরে যাবে এবার...
অবাধ চোখের জলের নিঃশব্দ স্বাধীনতায়
হায় ! এ যেন এক অলীক রূপকথা... !