হে মৃত্যুঞ্জয়ী বীর
মধুসূদন সূত্রধর
১১/০৮/২০২৫
অগ্নি যুগের অগ্নি শিশু মৃত্যুঞ্জয়ী বীর
নাম যে তার মহান ভারতে ক্ষুদিরাম
হাসি মুখে নিল মোর একদিন ফাঁসি
বাংলার মেদনিপুর হলো তার ধাম।
সবুজ জোয়ান ফুলের কুঁড়ি
যেন ভোর আকাশের এক উজ্জ্বল রবি
মায়া ভরা চোখ হাসি ভরা মুখ
মহান ভারতে এক উজ্জ্বল গর্বের ছবি।
দেশ মাতৃকার গর্বের সন্তান
বুঝল সে ওগো মায়ের ব্যথা
মায়ের মুক্তি,ঘুচাতে সে তায়
চললো লড়ায়ে শুনলো না কোন কথা।
মায়ের মুক্তি সংকল্প স্বপ্ন তার
চাই সে দেশের স্বাধীনতা
সব ফেলে তাই নামলো রনে
ঘোচাতে দেশের পরাধীনতা।
চলছে তখন ব্রিটিশ শাসন দেশে পিশাচ ইংরেজ হয় যে দেশের রাজা
মায়ের মুক্তির স্বপ্ন চোখে মুখে
চাই সেদিতে অত্যাচারীর সাজা।
নির্মম শাসন চালাই ইংরেজ
সহ্য করে বুক পেতে সব দেশ যে পরাধীন
দেশ মাতার তাই চাই সে মুক্তি
নিল সে শপথ অগ্নি মন্ত্রে করবে গো দেশ স্বাধীন।
ভীষন গো তার ছিল যে সাহস
ছিল যে আগুন তেজা
দেশ মাতৃকার করতে মুক্তি
চোখ ছিল তার ভেজা।
সিংহের মতন তেজ ছিল তার
বুকে যে আগুন ছিল
দেশ মাতৃকার করতে মুক্তি
প্রাণ বলিদান দিল।
ব্রিটিশ যখন হয় হিংস্রক
অত্যাচার যায় বেড়ে
সকাল বিকাল রাত গো দুপুর
আসতো ব্রিটিশ তেড়ে।
দেখলে ব্রিটিশ উঠতো ক্ষেপে
জ্বলতো আগুন বুকে
মনের মধ্যে করতো ছটফট
করতো সহ্য দুখে।
বুকে ভরা তার ছিল যে মন্ত্র
হাতে ছিল তার বোমা
একতারার সুর গাইলো একদিন
দে রে বিদায় দে ও মা।
তাইতো একদিন যায় বেড়িয়ে
যোগ দেয় বিপ্লব ঘরে
অগ্নি মন্ত্রে নেয় সে প্রাণে দীক্ষা
দেশ স্বাধীনের তরে।
অত্যাচার শাসক কিংসফোর্ড কে
মারতে সে একদিন গেল
বোম মেরে মোর পড়লো ধরা
জেলেতে সে ঠাঁই পেল।
কলের বোমা, সে মারলো ছুঁড়ে
মরলো গো তাজা প্রাণ
ফাঁসির দড়ি সে গলায় পরে
দিল প্রাণ বলি দান।
চললো বিচার দুখ নাই তার মনে শুধু ব্যথা দেয় যে নারা
অত্যাচারী কিংস্ফোর্ড কে তার
আর যে হলো না মারা।
সব আইন তার ছিল মোর পাশে
নেয়নি সে কোন দান
দেশ মাতৃকার মুক্তির তরে
দিল সে ফাঁসিতে প্রাণ।
কাদের গো তুমি, মারতে গেলে
মারলে যে বোমা তুমি
চেয়ে দেখে মোর স্বাধীন দেশ আজ
যেন গো নরক ভূমি।
ব্রিটিশ যেন আজ এদের রক্তে
আছে ওগো মোর মিশে
দেশটা কে আজ খাচ্ছে ছিঁড়ে
মানুষ গুলি কে সব পিশে।
হে মহা প্রাণ, মৃত্যুঞ্জয়ী বীর
লহ গো প্রণাম
যুগ হতে যুগ যুগান্তরে থাকবে তুমি
বাঙালির হৃদয় অন্তরে
হে অগ্নি শিশু মৃত্যুঞ্জয়ী বীর ক্ষুদিরাম।
No comments:
Post a Comment