Saturday, August 9, 2025

অতীত বাড়িয়ে দেয় হাত -- মধুসূদন সূত্রধর

অতীত বাড়িয়ে দেয় হাত
মধুসূদন সূত্রধর 
 ০২/৮/২০২৫,,
ভুলতে পারিনা অতীত,
অতীতের সাগর 
সমুদ্রের ঢেউ আষাঢ়ী বৃষ্টি,গঙ্গা যমুনা 
চম্পা চামেলী শিলং পর্বত 
ফেবিষ্টিক আঁঠার মত আছে গায়ে লেগে 
পারিনা ছাড়াতে তাদের সকাল বিকাল সাঁঝে,।
প্রেমের পানসী ভাসিয়ে নিয়ে 
আজও চলি অতীতের সাগরে 
সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে খেলি 
গোধূলি বিকেলে লুকোচুরি,
আষাঢ়ী বৃষ্টি গায়ে মেখে করি স্নান 
স্নেহময়ী জননীর মত গঙ্গা , 
গা থেকে মুছিয়ে দেয় ময়লা।
ঝর্নার সাথে হাত ধরে নাচি জলসায় 
তেড়ে খিটা তাতা ধিন ধিন তাতা 
থৈ থৈ তালে 
প্রিয় যমুনা নেয় যে টেনে বুকে ,
মুরলির সুর টেনে নেয় বিকেলে 
কদমের তলে, 
বসে কয় সুখ দুঃখের কথা 
গভীর রাতে খুঁজে পায় অভিসারিকা রাধিকার মত
একাকি পথ 
ডাকিনা কাউকে 
চলি বিড়ালের মত নিঃশব্দে,  ধরিনা কার ও হাত।

অতীতের কিছু দিন কিছু মাস 
কখনো কৃষ্ণচূড়া, কখনো 
রঙিন পলাশ 
কখনো চাঁদের জোছনার মত 
ছিল কিছু দিন সাঁঝারের আঁধারের
মতো 
 কখনওছিল মেঘের মতন কালো ,
কখনো ছিল জোনাক পোকার মত আলো ভরা, 
করতো যেন মস্তান মত ঘোরাফেরা। 

অতীত যেন জীবনের ধারাপাত 
জীবন দর্শন, কাব্য গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি
দাঁড়িয়ে কথা বলার স্বপ্নের তাজমহল, 
গড়ের মাঠে বসে চোখ মেলে একবার ভিক্টোরিয়ার দিকে তাকানো, 
স্বপ্নের বিছানা পাতার জন্য এক শক্ত মাটি।
অতীতের স্মৃতি গুলি জীবন পৃথিবীর যেন এক প্রাচীর, 
রেখেছে চার দিক থেকে ঘিরে
দিয়ে চলেছে প্রেরণা 
ভালোবাসা, মানবতার গান 
সব ছিল তারা এক নির্ভেজাল 
খাঁটি।

অতীত কখনো হয়ে যায় বাস্তবের মাটিতে 
স্বপ্নের হাত ছানি, 
ভাবে গোধূলি বিকেল, যেন এক 
বেড়ানোর স্বর্গ ।
সাগর মরুভূমি যেন ডুব দিতে ডাকে 
পাহাড়ী ঝর্ণা মত যেন ডাকে চোখের ইশারায় 
যেন ডাকে চাঁদের মত তার মুখের খিল খিল হাসি, 
ডাকে মনের বাগিচার ফুটে ওঠা গোলাপ গুলি 
প্রেমের হাত ছানি দিয়ে।
মন যেন ডুব দিতে চায় পিয়াসী 
প্রেমের মত 
স্বপ্নের পানসী তে ফিরে আসতে চায় হাত ধরে 
জোছনার আলোয় 
মিশে যেতে চায় অন্তরে অন্তরে 
সব আগাছলা লণ্ড ভন্ড হয়ে 
পড়ে আছে চারিদিকে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভুলে।
চায়না আর এ পথে হাঁটতে 
ভুল গুলি ফুল ভেবে কুড়িয়ে 
নিয়ে ভরি সাজিতে ।

অতীত পারিনি আজও ভুলতে 
শুধু মাত্র বর্তমান কে চেনার জন্য 
বেহুলার মত আজও চলেছি 
মড়া স্বামীর কঙ্কাল পুটুলিতে 
বেঁধে ভেসে,
পৌঁছাতে হবে স্বর্গে ফেরাতে হবে স্বামীর প্রাণ।
ছেঁড়া কেথার মত ছুঁচ সুতো দিয়ে সেলাই করে চলেছি 
একান্নবর্তী সংসার 
মাঝ খানে দুই ভাই তুলে দেয় প্রাচীর 
যেন ভারত পাকিস্তানের কিংবা 
ভারত বাংলা দেশের সীমান্তের 
কাঁটা তারের বেড়া।
বুকটা করে রেখেছি আজও 
বেঁচে থাকার জন্য 
শত পুত্র হারা গান্ধারীর মত,
ঘড়ির কাঁটার মত ঘুরে চলে 
জীবন ঘড়ির কাঁটা,
ডুবে চলে ধীরে ধীরে বেলা 
তবু মনে দৃঢ় বিশ্বাস 
সে ফিরবে,
তাইতো অহল্যার মত পাষাণ হয়ে রয়েছি পড়ে 
সাবিত্রীর মত কোমরে কাপড় জড়িয়ে 
করে চলেছি যমরাজের সঙ্গে যুদ্ধ ।
ভাবছি সব দেব ছেড়ে 
দেব বলে কি দেওয়া যায়,
উই ঢিপির ভিতরে দস্যু রত্নাকরের 
বাল্মীকি হওয়ার সাধনার মন্ত্র 
আসে ভেসে জীবন নদীর তীরে,
কিন্তু অতীত 
আমায় ছাড়ছে না, 
অসুররা,যেমন 
ছাড়েনি দেবতাদের পিছন 
গ্রহগুলি যেমন ছাড়েনা কক্ষপথ 
আকাশ যেমন ছাড়েনা চাঁদ 
শিয়াল যেমন ছাড়েনা মাংস,
ছাড়েনা ঠিক এই ভাবে অতীত আমাকে, 
চুম্বকের মত করে রেখেছে
আকর্ষণ।
কোন স্বপ্ন দেবে জীবনে সে উপহার 
লতা যেমন গাছ কে জড়িয়ে থাকে ধরে 
ভীষ্ম যেমন ধরে রেখেছে সংকল্প 
যুধিষ্ঠির যেমন ধরে রেখেছে সত্য 
ত্যাগ মহৎ আদর্শ 
শ্রীকৃষ্ণ যেমন তার বুকে ধরে রেখেছে নিখিল বিশ্ব জগৎ 
অন্তরে রেখেছে ধরে রাধা,
আমাকে রেখেছে আস্টে পিষ্টে 
ধরে 
জানিনা কবে পাব রেহাই
তার বাহু বন্ধন থেকে আলগা।


No comments: