Monday, August 18, 2025

অদৃশ্য রেজিস্টার -- সাধন কর্মকার

 অদৃশ্য রেজিস্টার ৪
 সাধন কর্মকার
 ১৮/০৮/২৫
অদেখা সিঁড়িঘর

নিচে নামতে থাকি,
কোনো শেষ পাওয়া যায় না।
ধাপে ধাপে শূন্যতায় নামি,
যেখানে আলোও পৌঁছায় না।
হয়তো এই সিঁড়িঘরেই
রাখা আছে নামহীনদের
শেষ হিসাব।

নীরব পতাকা

খুঁটির মাথায় পতাকা নেই,
তবু বাতাসে নড়ে ওঠে কাপড়ের মতো।
কারা যেন অদৃশ্য হাতে
ধরে আছে গর্বের চিহ্ন।
হয়তো তাদের জন্যই
জাতির ইতিহাসে
অদৃশ্য পাতাগুলো জ্বলজ্বল করে।

হারানো ঢেউ

নদী শুকিয়ে গেছে বহু আগে,
তবু কানে বাজে ঢেউয়ের শব্দ।
জল নেই, তবু স্রোত আছে—
অদৃশ্য ধারায় বয়ে চলে।
হয়তো স্মৃতিই নদী হয়ে
চিরকাল বয়ে যায়
আমাদের ভেতরে।

 ফাঁকা সমাধি

শিলালিপি নেই, নামও নেই,
কেবল ঘাসে ঢাকা এক ঢিবি।
তবু মনে হয় এখানে শুয়ে আছেন কেউ।
কোনো ইতিহাস লিখে রাখেনি তাকে,
তবু অদৃশ্য রেজিস্টারে
তার নামই হয়তো
সবচেয়ে উজ্জ্বল।

অচেনা মুখোশ

মেলা শেষ হয়ে গেছে,
তবু পড়ে আছে এক মুখোশ।
চোখের ফাঁক দিয়ে
অচেনা দৃষ্টি তাকায় স্থির।
হয়তো যে মুখ আমরা
কখনো দেখিনি,
সে-ই মুখোশে বেঁচে আছে।

 নিভে যাওয়া আগুন

চুল্লি ঠান্ডা,
কোনো ধোঁয়া নেই।
তবু গন্ধে ভরে আছে ঘর।
হয়তো আগুনটা
অদৃশ্য হয়ে গিয়েও
রেখে গেছে নিজের উষ্ণতা
স্মৃতির মতো।

 শূন্য আসন

সভা শেষ,
সবাই চলে গেছে।
কেবল একটি আসন ফাঁকা রয়ে গেল—
যেন কারো জন্য রেখে দেওয়া।
হয়তো সেই অনুপস্থিতিই
সবচেয়ে বড় উপস্থিতি
এই পৃথিবীতে।

নিখোঁজ ছায়াপথ

আকাশে তারার অভাব নেই,
তবু একেক রাতে দেখি
অচেনা অন্ধকার লাইন।
মনে হয় সে-ই হারানো ছায়াপথ,
যেখানে তারারা লুকিয়ে রাখে
নিজেদের নিস্তব্ধ নাম।

অদৃশ্য পাল

নৌকা আছে, দাঁড় আছে,
কিন্তু পাল নেই কোথাও।
তবু বাতাস বইলে
নৌকা ভেসে যায় দূরে।
হয়তো সেই অদৃশ্য পালই
জীবনের যাত্রাকে
অজানার দিকে ঠেলে দেয়।

ফেলে আসা বাগান

যে বাগান ভেঙে গেছে বহু আগে,
আজো তার গন্ধ ভেসে আসে।
কোনো ফুল নেই, কোনো পাতা নেই,
তবু মনে হয়—
সেখানে বসে আছে কেউ,
আমাদের ডাকছে নিঃশব্দে।

অন্তর্লিখন

সব লেখা মুছে ফেলার পরও
পাতায় থেকে যায় হালকা দাগ।
কালি মুছে গেলেও
চোখে পড়ে অদৃশ্য অক্ষর।
হয়তো সেই অক্ষরগুলোই
প্রমাণ দেয়—
কিছু লেখা কখনো মুছে যায় না।

No comments: