ঈশ্বরও কাঁদছে
রবীন্দ্রনাথ মন্ডল
২৩/৮/২৫
পৃথিবীর সমস্ত সম্রাটের চোখেই ন্যাবা।নীল চশমা পরিহিত।খালি চোখেও দেখতে পান না।প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে নৈতিকতা।লাজ-লজ্জার খিলান-গুলো সব খুলে পড়ে গেছে।বোয়াল মাছগুলো খেয়ে ফেলছে যত ছোট ছো্ট মাছ।মানবতার ডিমগুলো ফুটতে দিচ্ছে না।কদর্যতা ইতরতা অরাজকতা,বিশৃঙ্খলা দামামা বাজাচ্ছে উল্লাসে। মুনাফার অনৈতিক ক্ষিদের অবগ্রাস দুর্বল ক্ষেতের উপর রোপন করছে শোষণ নিপীড়নের চারা।মানুষের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে বেশ্যাখানা,জুয়া,লটারী, মদের ভাঁটি।মদের নেশায় চেতনা যেন সব কিছু রঙিন দেখে।শত্রুদের যেন না চেনে।আর কান্না,অভিযোগ,প্রার্থনার জন্যে গড়ে দিয়েছে মন্দির মসজিদ।পৃথিবীর চতুর্দিকে গড়ে তুলেছে মেরুদন্ড ভাঙার কারখানা।ঢালাও উৎপাদন হচ্ছে ঘৃণ্য স্তাবকতা, সুবিধাবাদ,অন্যায্যতা,ভেদাভেদ,মৌলবাদ,বিদ্বেষ,যুদ্ধোন্মাদনা।আমরা পরষ্পরের মাংস ছিঁড়ে খেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। আর সাতসকালে গঙ্গায় স্নান করে শুচি বস্ত্র পরে মন্দির গির্জা কিংবা মসজিদে গিয়ে বলছি’হে সর্বশক্তিমান ‘দুষ্টের দমন করো সৃষ্টের করো পালন,।হাজার হাজার বছর ধরেই এই প্রার্থনার আর্তি ইথার-তরঙ্গ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বুমেড়াং হয়ে ফিরে আসছে সে সব করুণ ধ্বনি।আর ঈশ্বর বা আল্লা হয়তো বলছে আমি প্রকৃতি-জগতের দায়ভার সামলাতেই হিমসিম খাচ্ছি,ঝড়,বৃষ্টি,দাবানলের মত দুর্যোগ।তোমাদের অভিযোগ শুনি কি করে?তাছাড়া জীব-জগতের দায়ভার সমস্ত কেড়ে নিয়েছে আমা্য রক্তাক্ত করে যম আর ইতর অসুরেরা।তাদের অনাচার,অত্যাচারে আমি আঘাতপ্রাপ্ত অসহায় ঈশ্বর,আল্লা।আমিও কাঁদছি।শুধুই অঝোরে কাঁদছি।ঠিক তোমাদের মতো।
No comments:
Post a Comment