"তোরা কিন্তু কিছুই দেখিসনি..."
ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ
০১.৯.২০২৫
রাত নেমেছে মফস্বল শহরে
হামাগুড়ি দিয়ে,
এসেছে যথাসম্ভব আলোকে লুকিয়ে
নিশিকুটুম্বের মতো পেশাদারী প্রতিভায়
মানুষের নিরেট নির্লিপ্তির সিঁধ কেটে;
ইস্কুলবাড়িটা যেন বোবা কালা অথর্বের মতো
থম মেরে লুকিয়ে রেখেছে নিজেকে
অন্ধকারের মোটা চাদরের নীচে
ইস্কুলের গেট পাহারা দেয়
একটা নির্বান্ধব দপদপে টিউব মান্ধাতার :
যত না আলো দেয়,
তার থেকে বহুগুণ বেশি
বাড়ায় অন্ধকার!
কে আসে এই অপ্রাকৃত হিমঝরা রাতে
নির্জন ইস্কুলের প্রেতপুরী থেকে
প্রবেশপথের দিকে?
কেন এক সন্দেহজনক বস্তার ভারে
তার কাঁধ যায় প্রায় মাটিতে ঝুঁকে?
কেনই বা প্রবল অস্থিরতা সতত সঞ্চরমান
তার ঘেমো চোখে মুখে?
নিরীহ গেটের অনুগত
এবড়ো খেবড়ো সিঁড়িরও ছিল
অবাধ্য কৌতূহল:
তস্করের মতো ক্ষিপ্র পায়ে
আগন্তুক যেই বেরোতে যায়,
সিঁড়ির ধাপ কেন যে হঠাৎ
ঈষৎ পিঠ ওঠায়
তার চাঁদমুখ দেখার উদগ্র বাসনায়!
রহস্যময় আগন্তুক
পা ফসকায় সহসা!
গেটের সামনে চার পড়ুয়া
রোজকার মত গল্পে বিভোর!
রাত তো সদ্যযৌবনা:
তাড়া ছিল না ফেরার!
হঠাৎই আহাম্মক সিঁড়ির দোষে
আগন্তুক পথের ধুলো নেয় চেটে---
রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে বস্তায় মোড়া
তার যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা!
বন্ধ্যা সন্ধ্যায় হলো উন্মোচিত
এক ব্ল্যাকবোর্ডের
কুপিয়ে কাটা হাত পা!
তখনও গড়ায় তার রক্ত টাটকা...
আগন্তুক যেন মাটি ফুঁড়ে ওঠে অকস্মাৎ!
চার কিশোর আতঙ্কে ককিয়ে উঠে
বলে তৎক্ষণাৎ
"মাস্টার মশাই আপনি?"
"চোপ্!"
হিসহিসিয়ে বলে আগন্তুক,
হাতে ধরা তার
এক রক্তমোছা ডাস্টার,
"...তোরা কিন্তু কিছুই দেখিসনি আজ,
কি ল্ ই য়া র?"
No comments:
Post a Comment